খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সাংবাদিক ও লেখক মাহফুজ উল্লাহ  আর নেই : আজ দাফন

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫০:০০


বরেণ্য সাংবাদিক ও বিশিষ্ট লেখক মাহফুজ উল্লাহ্ (৬৯) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন... আমরা তো আল্লাহর  এবং আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবো)। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের চিকিৎসকরা শনিবার সকালে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে নুসরাত হুমায়রা। গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যাংককের হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাহফুজউল্লাহ। গত ২১ এপ্রিল তার মৃত্যুর খবরও ছড়িয়েছিল, কিন্তু মেয়ে নুসরাত তখন জানিয়েছিলেন, তার বাবা বেঁচে আছেন।
সবশেষ শনিবার থাইল্যান্ড থেকে নুসরাত সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় মাহফুজউল্লাহর মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মাহফুজ উল্লাহর বড় ভাই অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহর বরাত দিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, মাহফুজ উল্লাহ’র মরদেহ থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে শনিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তার মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
জানাজা ও দাফনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে শায়রুল কবির আরো বলেন, মাহফুজ উল্লাহর প্রথম জানাজা আজ রবিবার বাদ জোহর গ্রিনরোড ডরমেটরি মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মাহফুজ উল্লাহ দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সংবাদপত্র জগতের কর্মীরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
আজই মাহফুজ উল্লাহ শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁকে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান শায়রুল কবীর। 
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মাহফুজউল্লাহকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। স্কয়ারে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ এপ্রিল এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। 
মাহফুজউল্লাহ’র জন্ম ১৯৫০ সালে নোয়াখালীতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন মাহফুজউল্লাহ। আইয়ুব খানের শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তিনি পরে ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজউল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি। পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতায় তার অবদান রয়েছে। মাহফুজউল্লাহ মাঝে চীনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে। বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা মাহফুজউল্লাহর রচিত বই অর্ধশতাধিক।
তার সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে-প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ : পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন : গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা এ্িযান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম, বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ হার স্টোরি, স্বাধীনতার প্রথম দশকে বাংলাদেশ।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



শিল্পী কালিদাস কর্মকার আর নেই

শিল্পী কালিদাস কর্মকার আর নেই

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৩১


সাংবাদিক সুবীর রায়ের পরলোকগমন

সাংবাদিক সুবীর রায়ের পরলোকগমন

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২১









ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬