খুলনা | বুধবার | ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খোদ নগরীতেই নামের পাশে বড় বড় ডিগ্রি লিখে ডাক্তারী করছেন অনেকে : নির্বিকার সংশ্লিষ্টরা

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৪৫:০০

খোদ নগরীতেই নামের পাশে বড় বড় ডিগ্রি লিখে ডাক্তারী করছেন অনেকে : নির্বিকার সংশ্লিষ্টরা

নগরীর সামসুর রহমান রোডে ঢুকতেই ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মালিক মোঃ নুরুল ইসলাম চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখেন নিয়মিত। নামের সাথে এমবিবিএস (এএস) এমপিএইচ (পাবলিক হেলথ), থিসিস নিউট্রশন (এফসিইউবি)সহ আরও কত ডিগ্রি। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিসিএমডিসি কোর্সের সনদ রয়েছে দাবি তার। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে ঐ কোর্সকে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে একাধিকবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। শামসুর রহমান রোডে আরও কিছু দূর গিয়ে লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন ডাঃ পঞ্চানন মহলী। তিনি সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জেও রোগী দেখেন। নিজের নামের পাশে তিনিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও এমবিবিএস লেখেন। অথচ তিনিও একই ডিগ্রিধারী। তবে দিব্যি রোগী দেখে যাচ্ছেন মহানগরীতে। ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি। বের হয়ে আবারও একই পেশায় দু’হাতে টাকা কামাচ্ছেন।
নগরীর নিরালা প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করেন ডাঃ বাকি বিল্লাহ (এমবিবিএস)। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কলেজে খোঁজ নিয়ে এমন কোন ছাত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনিও একই ধরনের কথিত এমবিবিএস সার্টিফিকেটধারী বলে জানিয়েছেন অন্য চিকিৎসকরা। কমার্স কলেজের সামনে দেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন ডাঃ নাসির। ডিএমএ কোর্স লিখে নামের পাশে চিকিৎসক হিসেবে সব ধরনের চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি। এদিকে নগরীর ওয়াসা ভবনের ২য় তলার ৯ নম্বর কক্ষে ‘সিটি ডেন্টাল’ চেম্বারে চিকিৎসা দিচ্ছেন কৃষ্ণ গোপাল দাস। শুধুমাত্র এসএসসি পাশের সনদই তার চিকিৎসা সেবার অভিজ্ঞতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ৫ বছর আগে নগরীতে সর্বশেষ ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় প্রশাসন। এর আগে নগরীর মীম নার্সিং হোমের চিকিৎসক ফেরদৌস রহমান, এন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক সৌমেন মিত্র, রংধনু ক্লিনিকের চিকিৎসক ইব্রাহিম বাহাদুর ও কাঞ্জিলাল, খুলনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক পঞ্চানন মহলী ও সেবা ক্লিনিকের চিকিৎসক অনুপ মিত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়। সাজা ও জরিমানা পরিশোধের পর তারা আবারও এ পেশায় যুক্ত হয়েছে।
এদিকে নগরীর নিরালাতে সালাম খান, এনামুল কবীর, বাদশা মিয়াও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া নতুন বাজার রূপসা ডেন্টাল কেয়ারের ডাঃ বিবেকানন্দ ঢালী, কলেজিয়েট স্কুলের সামনে বালা দন্ত সদনের ডাঃ বি কে ঢালী, শিকদার ডেন্টাল হোমের এস কে শিকদার, নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ের গৌরাঙ্গ সমাদ্দার, সিমেট্রি রোডের ডালিয়া দন্ত সদনের পি কে কর্মকার, একই রোডে ডাঃ বি কে মন্ডল, রোজ ডেন্টাল কেয়ারের এ কে বিশ্বাসসহ নাম না জানা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নাকের ডগাতেই মানুষের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসলেও কেউ কিছুই বলছে না। 
এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক সময়ের খবরকে বলেন, এতো ভুয়া ডাক্তারের বিষয়ে আমার জানা নেই। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশেন (বিএমএ) খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ কয়েক জনের নাম শুনে বলেন, এদের কাউকেই চিনি না। এরা বিএমএ’র সদস্য না। এদের চিকিৎসা দেয়ার কোন আইনি বৈধতা নেই। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিএমএ খুলনার পক্ষ থেকে আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের অবস্থান থেকে ব্যবস্থা নেব।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ