খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

গ্রাহক বেড়েছে আইপি’র : ব্রকার  হাউজ পরিচালনায় হিমশিম

খুলনায় সেকেন্ডারি শেয়ার ব্যবসায়ে ধস

এন আই রকি  | প্রকাশিত ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:২০:০০

শেয়ার বাজারে ধসের শুরু ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে গেছে। সেকেন্ডারি শেয়ারের বিপরীতে নেওয়া ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি অনেক ব্যবসায়ী। এমনকি বাৎসরিক চার্জ না দেওয়ার কারণে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স একাউন্ট (বিও) নিষ্ক্রিয় হয়েছে কয়েক সহস্রাধিক গ্রাহকের। একাধিক ব্রকার হাউজের সাথে আলাপ করে জানা যায়, খুলনায় বর্তমানে ১৫ থেকে ১৭টি হাউজ আছে। এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ। যার মধ্যে সেকেন্ডারি শেয়ার দৈনন্দিন কেনাবেচা করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার গ্রাহক। অথচ ইনিশিয়াল পাবলিক ওফারিং (আইপিও) শেয়ারের লটারির গ্রাহক রয়েছে অর্ধলক্ষাধিকের ওপর। গত নয় বছরে শেয়ার বাজারে উর্ধ্বগতি না হওয়ায় সেকেন্ডারি ব্যবসায়ীরা নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়েছে। যার  ফলে বড় ধরণের ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সেকেন্ডারি শেয়ারের দৈনন্দিন গড় কেনাবেচা কমে যাওয়ায় ব্রকার হাউজগুলো সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের । 
খুলনার ব্রকার হাউজগুলোর মধ্যে মোটামোটিভাবে এখনও ব্যবসা করছেন ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিঃ, এনসিসি সিকিউরিটিজ, মার্কেন্টাইল সিকিউরিটিজ, আল আরাফা সিকিউরিটিজ, আইসিবি সিকিউরিটিজ, রয়্যাল ক্যাপিটাল লিঃ, এম সিকিউরিটিজ উল্লেখযোগ্য। 
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বগতিতে ইনডেক্স বেড়েছিল ৫৯৯২ তে। এসময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা আশারবাণী দেখা দিলেও সেটি স্বপ্নভ্রষ্ট হতে দুই মাসও সময় লাগেনি। গত ৪ মাসের ব্যবধানে ইনডেক্স কমে দাঁড়িয়েছে ৫২০০তে। গতকাল বুধবার খুলনার কয়েকটি ব্রকার হাউজ পরিদর্শন করে হতাশাজনক গ্রাহক চোখে পড়েছে। কোন হাউজে ৭ জন, কোন হাউজে ১০ জন গ্রাহককে পাওয়া গেছে। অথচ ব্যবসায়ের যৌবনকালে এমন দিন গেছে যে সময় ব্রকার হাউজগুলোর গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত আসনের ব্যবস্থা করা হত। দেশের ইতিহাসে শেয়ার বাজারের ইনডেক্স সর্বোচ্চ ৮৭০০ পর্যন্ত। ২০১০ সালের শেষ থেকে ২০১১ সালে ইনডেক্স নেমে ৩৪০০ চলে আসে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত শেয়ার বাজারের সর্বশেষ ইনডেক্স ৫২৪০। 
শেয়ার বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ২০০৬ সাল থেকে দেশে শেয়ার ব্যবসায়ে আগ্রহ বাড়ে ব্যবসায়ীদের। এরপর থেকে কয়েক বছর ভাল মুনাফাও পায় অনেকে। যার দরুণ অনেক চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী শেয়ার ব্যবসায়ে বিনিয়োগ শুরু করে। কিন্তু ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপ্রোজাল লিমিট ১:২ থেকে ১:১ নামানোর পর থেকে দরপতন শুরু হয়। শেয়ার বাজারের ধ্বসের কারণেই অনেকেই পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যায়। ২০১০ সালের পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শেয়ার ব্যবসায়ের ইনডেক্স কিছুটা বাড়লেও তা আশানুরূপ নয়। বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর ব্যাপক আশাবাদী হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই আশা ২০১০ সালের ন্যায় হতাশার সৃষ্টি করে। যার ফলে সম্প্রতি যারাই শেয়ার বাজারের আসছেন তার ৯০ ভাগই আইপিও’র লটারিতে বেশি আগ্রহী। কারণ এতে লোকসানের পরিমাণ নেই। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে লটারীর আহবান করা হয়। গ্রাহকরা লটারীতে বিজয়ী না হলে তার সেই টাকা পুনরায় ফেরত আসে। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে আইপিওতে বিনিয়োগে টাকার পরিমাণ খুবই সীমিত। এদিকে যারা এখনও সেকেন্ডারি শেয়ার ব্যবসায়ে আছেন তাদের একটি অংশ সাইলেন্ট রয়েছেন। খুবই কমই সময়েই তারা শেয়ার কেনাবেচা করছেন। কারণ পুরানো লোকসান এখনও তারা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ব্যবসায়ীদের দাবি দেশে শেয়ার বাজারের সুশাসন দরকার। পাশাপাশি যে সকল কোম্পানিগুলো নতুন করে শেয়ার বাজারে আসতে আগ্রহী তাদের বিষয়ে ভাল করে খোঁজ নেওয়ার পর অনুমোদন দেওয়া দরকার।
নগরীর শিববাড়ি মোড়স্থ রয়্যাল ক্যাপিটাল লিঃ-এর শাখা ব্যবস্থাপক উজ্জ্বল কৃষ্ণ সাহা এ প্রতিবেদককে বলেন, তার ব্রকার হাউজে মোট গ্রাহক প্রায় ২৫ হাজার। তবে এর সিংহভাগ আইপিও’র গ্রাহক। সেকেন্ডারি শেয়ারের অবস্থা খুবই খারাপ। জানুয়ারি মাসে ঊর্ধ্বগতি হলেও গত তিন মাসে তা ব্যাপক আকারে নেমে গেছে। যার ফলে দৈনন্দিন শেয়ার কেনাবেচা কমে যাচ্ছে। ব্রকার হাউজগুলো দৈনন্দিন শেয়ার কেনাবেচার ওপর ভিত্তি করে কমিশন পায়। কিন্তু ব্যবসার অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেক ব্রকার হাউজগুলো পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সদর থানা সংলগ্ন কালীবাড়ি রোডস্থ ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিঃ-এর শাখা ব্যবস্থাপক খন্দকার মুন্না হোসেন সময়ের খবরকে বলেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোজাল লিমিট কমিয়ে আনার কারণে মূলতঃ দরপতন হয়। এরপর থেকেই বাজার নিম্নমুখী। বর্তমানে আইপি’র গ্রাহকের বেড়েছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান আইপি’র মাধ্যমে মার্কেটে আসার কিছুদিন পরই দরপতনের ঘটনা সম্প্রতি দেখা গেছে। যার ফলে ইনডেক্সও কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেট সচল করতে সুশাসন দরকার। বিশেষ করে প্রত্যেক কোম্পানির পরিচালকদের শতকরা ২ ভাগ সহ মোট ৩০ ভাগ বিনিয়োগ করার বিষয়টি তদারকি করা দরকার। পাশাপাশি সকল কোম্পানির ইপিএস (আরনিং পার শেয়ার) যে সকল সিএ ফার্মের মাধ্যমে করা হয় সেটিও যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সেকেন্ডারি শেয়ার ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধারণ করে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে হবে। আইপি’র মত অল্প সময়ে বিনিয়োগ করে সুফল পাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। তিনি বলেন, খুলনার ব্রকার হাউজগুলোতে সেকেন্ডারি শেয়ার ব্যবসায়ে সক্রিয় শতকরা ৫ ভাগ। যা খুবই হতাশাজনক।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



রেমিটেন্সে নতুন রেকর্ড

রেমিটেন্সে নতুন রেকর্ড

০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:৫১

ফারমার্স ব্যাংক এখন পদ্মা ব্যাংক

ফারমার্স ব্যাংক এখন পদ্মা ব্যাংক

৩১ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:২৭




পতনের ধারায় ব্যাংক খাতের শেয়ার

পতনের ধারায় ব্যাংক খাতের শেয়ার

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০


প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত

প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:১০




ব্রেকিং নিউজ