খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৩ মে ২০১৯ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সুন্দরবন ও নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে বন মন্ত্রী

বনের সম্পদ রক্ষায় কঠোর হয়ে নয়, নজরদারীতেই চোরা শিকারীদের দমন করা সম্ভব 

মোংলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৪৩:০০

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেছেন, সুন্দরবন রক্ষা করতে হলে আইন বা ভালোবাসা দিয়ে এ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। কঠোর নজরদারী এবং এর পাশাপাশি আইনের শাসন প্রয়োগ করে চোরা শিকারীদের রোধ করা সম্ভব। এক শ্রেণীর  লোক সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরনের নাম করে পাস পারমিট নিয়ে দস্যুতা করে বেড়াচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। সরকার এ সুন্দরবনের বন ও জলদস্যুদের প্রচুর সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। তাদের অন্যায়ের পথ থেকে সরে আসতে বেশ কয়েকবার আহ্বানও জানানো হয়েছে। তবে যারা সরকারের কথায় সাড়া দিয়েছে তাদের জীবন ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং যারা সরকারের এ আহ্বানে সারা দেয় নাই, তাদের ভাগ্যে কি ঝুটবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। মামলা-হামলা, জীবনে বেঁচে থাকার নিশ্চিয়তা দেয়ার পরেও দস্যুরা ভালো পথে ফিরে আসছে না, এরপরে বনের ভিতরে জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে তাদেরকেও ধরে আইনের আওতায় এনে সুন্দরবনকে অবশ্যই দস্যু মুক্ত করা হবে। 
শুক্রবার সকালে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন  কেন্দ্র ও হারবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সুন্দরবনের করমজল ও হাড়বাড়িয়া পর্যটক এলাকা পরির্দশন করেন তিনি। 
মন্ত্রী আরো বলেন, সুন্দরবনে জেলে নামের একদল সম্পদ দস্যু যারা বনের বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে মাছ ও উপরে ফাঁদ দিয়ে হরিণ ও বাঘ শিকার করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এজন্য শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয়ভাবে সকলের সহযোগিতা করতে হবে। 
উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার  বলেন, সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনকে বাঁচানোর জন্য, পরিবেশ বান্ধব রাখতে  তাদের মন্ত্রণালয় প্রতিনিয়ত কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি সুন্দরবনকে সুরক্ষা করতে যা কিছু করা দরকার সব কিছুই করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে সরকার। 
পরে মন্ত্রী সুন্দরবনের হারবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রের খালে লোনা পানির ৪টি কুমিরের বাচ্চা অবমুক্ত করেন। আসার পথে দুই মন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের সিন্দুর তলা নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব এলাকার নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তার মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তারা। 
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক আমীর হোসেন চৌধুরী, বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মদিনুল আহসান, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) বশিরুল আল মামুন, মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম, করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির প্রমুখ।
ডিএফও মদিনুল আহসান বলেন, সুন্দরবনের নদ-নদীতে কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রতিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্র থেকে চারটি কুমির হারবাড়িয়া খালে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নারী ও একটি পুরুষ কুমির রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কুমির সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে অবমুক্ত করা হবে।
জানা যায়, করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রে ২০৭টি কুমির রয়েছে। এদের মধ্যে আট থেকে নয় বছর বয়সী ৩৩টি কুমির আছে। যার মধ্যে ২৫টি নারী ও আটটি পুরুষ। এদের থেকে তিনটি নারী ও একটি পুরুষকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিবার বিবেচনায় ভদ্রা নদীতে অভমুক্ত করা হয়েছে। এ নদীতে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। 
এর আগে গত ৮ ফেব্র“য়ারি সুন্দরবনের ভদ্রা খালে করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের চারটি কুমিরে অবমুক্ত করেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ









রোজার ছাড় যাদের জন্য

রোজার ছাড় যাদের জন্য

২৩ মে, ২০১৯ ০১:০০