খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সুন্দরবনের ৪ শতাধিক খালে সারা বছর মাছ আহরণ বন্ধ

মাহমুদ হাসান,মোংলা | প্রকাশিত ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:০৬:০০

জীব বৈচিত্র ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সুন্দরবনের অভ্যন্তরের ৪ শতাধিক খালে সারা বছর মাছ আহরণ বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের ২৫ ফুট বা তার কম চওড়া খালগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। এছাড়া পুরো সুন্দরবনের অভ্যন্তরে জুলাই ও আগস্ট মাসে মাছ ধরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। চলতি মাসের প্রথম দিক থেকে খাল চিহ্নিত করণ শুরু হবে। 
বনবিভাগ জানায়, জুলাই ও আগস্ট মাসে পাস-পারমিট নিয়ে বনের অভ্যন্তরে খালে এক শ্রেণীর অসাধু জেলে জাল দিয়ে মাছ ধরার আড়ালে বিষ প্রয়োগ করে চিংড়ি মাছ আহরণ করে। কিন্তু ওই বিষে খালের মাছসহ জীববৈচিত্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে মাছ মরে খালের পানিতে ভেসে ওঠে। বিষে মরা মাছ খেয়ে অন্যান্য জীব-জন্তুও মারা যায়। এতে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ কারণেই এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।  চলতি মাসের প্রথম থেকেই বনের গহীনে এ সকল খালগুলো চিহ্নিতকরণ কাজ শুরু করেছে বনরক্ষীরা। পরিবেশবাদী ও সুন্দরবন রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ বনবিভাগের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও সুন্দরবনের উপর নির্ভর জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।
শাহ আলম, নুর উদ্দিন, খলিলসহ বেশ কয়েকজন জেলে বলেন, আমরা জন্মের পর থেকেইে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে মাছ আহরণ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য আমাদের সকলের ক্ষতি হবে, এটা আমরা চাই না। যারা অপরাধী শুধু তাদেরকে শাস্তি ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান জেলেরা। মৎস্য ব্যবসায়ী মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, সুন্দরবনে খালে মাছ আহরণ বন্ধ করা হলে জেলে স¯প্রদায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বনের মধ্যে ঢুকে খালে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করে। শুধু এদের জন্য সকল জেলেকে শাস্তি দেয়া ঠিক হবে বলে আমার মনে হয় না।
সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম আকন বলেন, যেকোন মূল্যে সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। বনবিভাগের এ সিদ্ধান্তের সাথে আমি একমত পোষণ করি। পাশাপাশি সুন্দরবনের যারা ক্ষতি করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে আমি মনে করি।
সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষার সার্থে বন বিভাগ যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে আমি স্বাগত জানাই। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার জন্য বনবিভাগের নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে পূর্বের ন্যায় এ উদ্যোগও ভেস্তে না যায়।
সুন্দরবন পুর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের নির্দেশনায় বন সংরক্ষক খুলনা সার্কেলে এক সভায় সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রতিবছর জুলাই ও আগস্ট মাসে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে ২৫ ফুট বা তার কম চওড়া সকল খালে সারা বছর মাছ ধরা বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র রক্ষা ও মৎস্য সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সকল রেঞ্জ কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ