খুলনা | বুধবার | ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

অফিস বলে ঢাকায় : ঢাকা বলে অফিসে যোগাযোগ করতে

খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাটে বীমার লক্ষাধিক গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো!

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:২৫:০০

খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাটে বীমার লক্ষাধিক গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো!

বয়োঃবৃদ্ধ মা রহিমা বেগমের প্রিমিয়াম জমা শেষ হয়েছে বছর দুই আগে; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সে এন্ট্রি নং-৭১। এ দু’বছরে খুলনা চেম্বার ভবনের ওই বীমা অফিসে ধর্না দিচ্ছেন রহিমা বেগমের ছেলে সোহেল শিকদার। তিনি বলেন, “খুলনা বিভাগীয় এ অফিসে আসলে বলে ঢাকায় যোগাযোগ করেন। ঢাকা অফিসে ফোন করলে বলে আমাদের খুলনা জোনাল অফিসে যান। এভাবে দু’বছর হলো যাতয়াত করছি। আমার মায়ের জীবদ্দশায় জীবন বীমায় সঞ্চিত এ অর্থ ফেরত পাবে বলে তো মনে হয় না! শুধু আমার মা নয়; হাজার হাজার গ্রাহক এভাবে প্রতারিত হচ্ছে এসব জীবন বীমার ফাঁদে।” নগরীর মাস্টারপাড়া এলাকার বয়োবৃদ্ধ রহিমা বেগম শুধু নন, খুলনা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের লক্ষাধিক গ্রাহক জীবন বীমায় সঞ্চিত অর্থ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রূপসার ডোবা গ্রামের মৃত গোপাল বিশ্বাসের পুত্র গোবিন্দ বিশ্বাস অভিযোগ করেন সান ফ্লাওয়ার ইন্সুরেন্স ও আপার যশোর রোডে পূবালী ব্যাংকের কতিপয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
তিনি জানান, ২০০৯ সালে ৯ মার্চ রূপসায় সান ফ্লাওয়ার ইন্স্যুরেন্স আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করে তারা ঘোষণা দেয় তাদের গ্রাহকরা আপার যশোর রোডের পূবালী ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধা পাবেন। তারপর বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে একাউন্ট খুলে ঋণ নেয় ও নিয়মিত ঋণের কিস্তি জমা দেয়। কিছুদিন না যেতেই ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা মোস্তফা নজরুল ইসলাম লাপাত্তা হয়ে যায়। রূপসার শতাধিক গ্রাহক পরে ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন ঋণের কিস্তি জমা হয়নি বরং ঋণগ্রহণ করেননি এমন সব গ্রাহকের নামে মোটা অংকের ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। গত নয় বছর পূবালী ব্যাংক, সান ফ্লাওয়ার বীমার ঢাকা ও খুলনা অফিসে দৌঁড়েও সুরাহা পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।
এদিকে, গত ৪ এপ্রিল নগরীতে মানববন্ধন করে শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত বীমা গ্রাহক। তারা জানান, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের লক্ষাধিক গ্রাহকের মেয়াদান্তে দেড়শ’ কোটি টাকা ফেরত দিতে নানান তালবাহানা করছে সাইনলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। নানান নয়-ছয়ের অভিযোগ সাধারণ গ্রাহকদের চাপে রাস্তায় নেমেছেন মাঠকর্মী ও গ্রাহকরা। 
সূত্রমতে, ২০০০ সালের ৯ জুলাই সোনারগাঁও হোটেলে কর্ণেল (অবঃ) এ মালেক সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড উদ্বোধন করেন। পরে সারাদেশে কোম্পানি শাখা সাতটি প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মকর্তা ও কর্মী নিয়োগ পায়। মাসিক, ত্রৈয়মাসিক, সাম্মাসিক ও বার্ষিক হিসেবে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানি পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান একজন মন্ত্রী ও তার বোন ভাইস-চেয়ারম্যান রুবিনা হামিদ গত ১৪ বছর বীমার যাবতীয় অর্থ গ্রহণ করছেন। ২০১৪ সাল থেকে মেয়াদ পূর্তির টাকা দেশের দরিদ্র (গ্রাহক) জনগোষ্ঠি ফেরত পাচ্ছেন না। বৃহত্তর খুলনা বিভাগে কয়েক লাখ গ্রাহক বিভিন্ন স্কীমে এ প্রতারণার শিকার। ভবিষ্যতের আশায় সঞ্চয়কারীরা পথে বসেছে সর্বস্ব খুঁইয়ে। অবিলম্বে সঞ্চিত অর্থ ফেরতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তৃতা করেন সাতক্ষীরার ক্ষতিগ্রস্ত মাঠকর্মী মোঃ আব্দুস সাত্তার।
অভিযোগ অস্বীকার করে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস-চেয়ারম্যান রুবিনা হামিদ সময়ের খবরকে বলেন, “আমাদের কোম্পানিতে তো মেয়াদান্তে গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ বকেয়া থাকার কথা নয়। খুলনায় যারা মানববন্ধন করেছে তাদের অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।”
গত ৪ এপ্রিলে মানববন্ধনের খবর প্রকাশিত হলে সময়ের খবর পত্রিকা নিয়ে খুলনা বিভাগীয় অফিসে যান সাতক্ষীরার ক্ষতিগ্রস্ত মাঠকর্মী মোঃ আব্দুস সাত্তার। তখন গণমুখী স্কীমের প্রধান মোঃ আবু সাঈদ মুকুল, লোকমুখী স্কীমের প্রধান মোঃ ইদ্রিস আলীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অপারগতা প্রকাশ করে ঢাকা হেড অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।
এসব বিষয়ে জানতে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ খুলনা বিভাগীয় কর্মকতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ