খুলনা | রবিবার | ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

শিরোনাম :
দলে অনুপ্রবেশকারী কোন জামায়াত-বিএনপিকে আ’লীগের টিকিট দেয়া যাবে না : মিজানজনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রীসাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে জনতার বিক্ষোভের মুখে দুই কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ প্রত্যাহার : তদন্ত কমিটিধান কেনায় আরো ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপি’রখুলনা চেম্বারে ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন কাজী আমিনচার মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১১৮ নাগরিক নিহত নারী ধর্ষণ ৩৫৪, শিশু ২৩৪ : গুম ৬ নির্বাচন কমিশনই এই নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ‘ওপেন গেম’ খেলেছে ওরা : মমতার অভিযোগ 

Shomoyer Khobor

গণমুখী সংস্কৃতির অনুশীলনে সম্ভব নববর্ষের চেতনা বাস্তবায়ন

নাসির আহমেদ | প্রকাশিত ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৯:০০

গণমুখী সংস্কৃতির অনুশীলনে সম্ভব নববর্ষের চেতনা বাস্তবায়ন


এক সময় আমানী উৎসব সর্বজন স্বীকৃত। মূলত: ‘আগামী’ ছিল মেয়েলি উৎসব। এর লক্ষ্য ছিল পরিবারের কল্যাণ ও পারিবারিক কৃষির সমৃদ্ধ কামনামূলক। এই পারিবারিক উৎসবের আচার সম্পন্ন করতেন, বাড়ির মহিলাকর্ত্রী, উৎসব পালনের সূচনা লগ্নের সন্ধান এভাবেই পাওয়া যায়।
বাংলা নববর্ষ স্বার্থহীন বা লোভ-লালসাহীন মানব মৈত্রীর গভীরতর দ্যোতনায় সর্ব সম্প্রদায়ের সম্প্রীত ও ঐক্য চেতনার প্রতীক হয়েছে কতটুকু তা বর্তমান। প্রেক্ষাপটে নিরুপণ অসম্ভব। কেবল মিডিয়া আর উৎসব মুখর পরিবেশে মানুষের ঢল ঐতিহ্য (বৈশাখী) আরো গতিশীল করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথেস্ট ভূমিকা রাখছে, এমনটি নয়। এ জন্য চাই, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োগকৃত কর্মের বাস্তবায়ন।
কখন, কিভাবে বৈশাখ মাসে নববর্ষ উদ্যাপন শুরু হল তাও জানা যায় না। মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কবিতায় পাওয়া যায়,-‘ধন্য অগ্রহায়ণ মাস, ধন্য অগ্রহায়ণ মাস। বিফল জন্ম তার, নাই যার চাষ’। মূলত: কৃষি সভ্যতার কৃষি উৎসবের অঙ্গীভূত ছিল পরে তা নববর্ষ উৎসবে রূপান্তরিত। বিশেষ করে বাংলার (তৎকালীন) চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী কোনো কোনো অঞ্চলে এই সকল আচার বা প্রথার প্রাচীনকালের কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন গবেষকগণ। যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি বলেছেন, ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে নববর্ষ উৎসব হত। দোল যাত্রা বা হোলি সেই উৎসব এর স্মারক। আবার, কৌমগোত্র বা সম্প্রদায়ের আঞ্চলিক ক্রিয়া করণধর্মী উৎসব আচারের জায়গায় গড়ে উঠতে থাকে, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙ্গালির ঐতিহ্য ভিত্তিক নতুন এক জাতীয় দিবস: বাংলা নববর্ষ (নির্বাচিত প্রবন্ধ শামসুজ্জামান খান, পৃষ্ঠা-২৬০)। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা নববর্ষের উৎসব কে ভিন্ন তাৎপর্য ও নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেন। 
আমরা জানি, জমিদারী উচ্ছেদের পর পুণ্যাহ অবলুপ্ত হয়। কৃষি অর্থনীতিতে নগদ পয়সার নিত্য নৈমিত্তিক প্রবাহ না থাকায় বাকিতে দ্রব্যাদি বেচাকেনা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ফলে হালখাতার গুরুত্ব দেখা দেয়। অর্থ ব্যবস্থাপনা মানুষের মানুষের মন ও মননে প্রভাব ফেলে তা এক সময় অনুষ্ঠান সম্পন্নতার মাধ্যমে ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। এমনকি অঞ্চলগত মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনে কিছু খেলা ও মেলার আয়োজন তা আরো দিনকে দিন সমৃদ্ধ হয়েছে। যেমন-কুষ্টিয়া, নড়াইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার কার্ঠি নাচ বা বাটি খেলা, হা-ডু-ডু খেলা। মানিক গঞ্জের বিভিন্ন স্থানে কেন্দুয়া, নেত্রকোণার ষাড়ের লড়াই’। ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার মোরগের লড়াই ইত্যাদি। এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পাকিস্তান আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে দেয়ার কুট কৌশলে লিপ্ত ছিল। যদি ও ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ উৎখাত হয়ে যাওয়ার পরই যুক্তফ্রন্ট সরকার ও তৎসময়েল মূখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক বাংলার নববর্ষে ছুটি ঘোষণা করে বাঙ্গালির জাতি গঠন ও বাঙ্গালী জাতীয়তা বাদকে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন, কিন্তু তা ১৯৫৮-এ আইয়ুবের সামরিক শাসন জারি হওয়ায় মুক্তবুদ্ধি চর্চা, গণমুখী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। লক্ষ্য করে দেখুন, সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মতবাদ, সংস্কৃতিক ভিন্নতার তত্ত্ব ও তথ্যের গুরুত্ব দিয়ে উত্তেজনা ও উদ্দীপনা যুগিয়ে ধন ও প্রাণ বিনাশী হয়ে; বিপর্যয়ের সুযোগে নিজেদের নেতা, গুরু, মুরব্বী, তিতৈষী হিসেবে উপস্থাপনে লিপ্ত থেকেছে এই সকল মানুষেরাই। গোটা পৃথিবীতে মানবতা বিকাশের পথরুদ্ধ করে রেখেছে যারা, তারাই তো মূলত সাম্প্রদায়িক। বিকৃত ইতিহাস ও তাদের প্ররোচিত অকৃতজ্ঞতার পন্থা অসঙ্গত ও অযৌত্তিক অনেকে মনে করেন, যে কোন কৌশল আর ক্ষমতার জোরে এই সকল প্রভাব এড়ানো গেলে নতুন চেতনার ও চিন্তার চর্চাতে অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন, অস্তিত্ব ও পরিচিতির স্বাতন্ত্র্যতা না থাকলে গৌরব ও জীবন যাত্রার আত্মকল্যাণ স্তরে স্তরে বিঘিœত হবে। জীবন চেতনায় বিজ্ঞানের ছোঁয়াতে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে রুচি, চাহিদা ও জীবনের মান বাড়িয়ে ও পাল্টে দেয়া সম্ভব। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মেধাত্মর্জিত মানুষেরা এসব প্রসারিত পথের অন্তরায় হয়ে কাজ করবে সর্বদা, প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে দৃড়তার সাথে বলছি, আরো একটি বড় অন্তরায় হলো, দুর্নীতি ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব। সর্বশেষে একজন অখ্যাত কবির ছুটি চরণ দিয়ে লেখার সমাপ্তি টানবো এখানে সত্য ভাস্কর হয়ে উঠেছে। তিনি লিখেছেন,-
‘তুমি হিন্দু আমি মুসলিম, শুধু এই জন্মদোষে। আমি পড়িয়াছি হিন্দুর কোপে। তুমি মুসলিম রোষে।’- এখন যেন, পৃথিবীর সর্বত্র মানুষ হিংসায় উম্মুক্ত। দলনে-দমনে-শোষণে-পাড়নে আগ্রহীদের মূলতঃ কোনো ধর্ম নাই। যা প্রাণী সুলভ মনুষ্য প্রত্যাশিত গুণ নয়। 
সরকারি ও বেসরকারী পর্যায়ে গণমুখী সংস্কৃতির অনুশীলন বাড়াতে হবে। মানকী ভর্তি পান্তা ইলিশের লোক দেখানো আভিজাত্য ছেড়ে নেমে আসতে হবে মাঠ পর্যায়ের অতীত পুনরুদ্ধের সঠিক প্রক্রিয়ায়। তাহলে বছর পরিক্রমায় আসা বৈশাখ হবে বাঙালি ও আজকের বাংলাদেশের চিত্র। যা বিশ্বকে জানান দিতে হবে সক্ষম শিল্পের সৌন্দর্য মন ও মননে আমরা কতটা আগামী। 
(কবি প্রবন্ধকার, গল্পকার)।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বৈশাখ ও বাঙালি : নববর্ষ ১৪২৬

বৈশাখ ও বাঙালি : নববর্ষ ১৪২৬

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৭

বৈশাখী ভাবনা

বৈশাখী ভাবনা

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৪০

বাঙালির পহেলা বৈশাখ ভাবনা

বাঙালির পহেলা বৈশাখ ভাবনা

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৮

বাঙালিত্ব একদিনের নয়

বাঙালিত্ব একদিনের নয়

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৭

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৭

বাঙালির ঐতিহ্য ‘পহেলা বৈশাখ’

বাঙালির ঐতিহ্য ‘পহেলা বৈশাখ’

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৫

ফতে’র পান্তা ইলিশের গল্প

ফতে’র পান্তা ইলিশের গল্প

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৬

রঙ্গিন বৈশাখ

রঙ্গিন বৈশাখ

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৬

বৈশাখের হাওয়া

বৈশাখের হাওয়া

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৫

বৈশাখী মঙ্গলযাত্রা এবং

বৈশাখী মঙ্গলযাত্রা এবং

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৫

জোৎস্না রাত

জোৎস্না রাত

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৪

বৈশাখ হোক বৈশাখের মত

বৈশাখ হোক বৈশাখের মত

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৪


ব্রেকিং নিউজ