খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা

আব্দুল্লাহ এম রুবেল | প্রকাশিত ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩৭:০০

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা


ছোটবেলায় কানামাছি, হা-ডু-ডু, দাড়িয়া বন্ধা, সাতচাড়া এসব খেলেননি এমন মানুষ হয়তো কমই পাওয়া যাবে। এর সাথে গোল্লা ছুট, কিত কিত ডাংগুলি, লাঠি খেলা, নৌকা বাইচ এসব গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী খেলা। এসব খেলার কথা মনে হলে পাঠক নিঃশ্চয়ই নিজের ছেলেবেলায় হারিয়ে যাবেন। গ্রামীন এসব খেলাধুলা শহরেও একসময় পাড়া মহল্লায় চালু ছিলো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আর শহুরে ব্যস্ত জীবনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীন এসব খেলাধুলা। বাঙালীর বর্ষবরণে গ্রামীন বিভিন্ন সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। তবে এখন আর খুব একটা }} ৪ পাতার ১ কলাম
 চোখে পড়ে না এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন। বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে এসব আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিৎ বলে মনে করছেন বিজ্ঞজনেরা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীন এসব খেলাধুলা ধরে রাখতে একটি ক্রীড়া ফেডারেশনও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। 
চার বছর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে সরকারি ভাবে সারাদেশব্যাপী গ্রামীন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছিলে। উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে শেষ করে জাতীয় পর্যায়েও এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। কিন্তু অজনা কারণে গ্রামীন খেলাধুলার এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। 
কিছু কিছু অঞ্চলে অবশ্য মাঝে মধ্যে আয়োজন করা হয় কিছু গ্রামীণ খেলার। এগুলোর মধ্যে হা-ডু-ডু,  জব্বারের বলি খেলা, নৌকা বাইচ ইত্যাদি। বর্ষার মৌসুমে ঘটা করেই আয়োজন হয় নৌকাবাইচ। কিছু কিছু অঞ্চলে এখনও স্থানীয় জনগণ আয়োজন করেন এসব খেলা। তবে পৃষ্ঠপোষক না থাকায় সেই আয়োজনও কমে এসেছে। গ্রামীণ খেলাধুলার আলাদা কোনো ফেডারশেন না থাকায় একত্রিত হতে পারছেন না তারা। দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পঞ্চাশোর্ধ্ব গ্রামীণ খেলাকে বাঁচাতে ফেডারেশনের কোনো বিকল্প নেই। 
গ্রামীণ খেলাধুলা সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা আছে এমন শিশু-কিশোরের খোঁজ এখন আর মেলে না। তাদের  অনেকেই এসব খেলাধুলার গল্প শুনেছেন তার বাবা-মা, দাদা-দাদীর কাছে। গ্রামীণ খেলাধুলা যেন তাদের কাছে হারানো ঐতিহ্য!
অথচ বাংলাদেশের গ্রামীণ খেলাধুলার উপকারিতা জানলে অবাক না হবার উপায় নেই! গোল্লাছুট, বৌছি, কানামাছি, হা-ডু-ডু, দাড়িয়া বান্ধা, কুত-কুত, সাতচারা, মার্বেল, ডাংগুলি, এক্কা-দোক্কাসহ এমন ৪০টি গ্রামীণ খেলার উপর ২০১৩ সালে গবেষণা করে ইংল্যান্ডের একটি বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান। গবেষণার রিপোর্টে বেরিয়ে আসে এসব খেলাধুলার উপকারি নানান দিক। শিশু-কিশোরদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ সাধনে এসব খেলার বিকল্প কিছু খুঁজে পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসানের কাছে এসব খেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হারিয়ে যান তার ছোটবেলায়। তিনি বলেন, এসব খেলাধুলা আসলে আয়োজন করে হতো না। বিকেলে পাঁচ বন্ধু এক জায়গায় মিলিত হয়েছি, হঠাৎ মাথায় আসলো, আর শুরু করে দিলার চাড়া মার খেলা। এসব খেলা হারিয়ে যাওয়ার পিছনে মাঠের অভাবকে সবথেকে বড় কারণ বলে মনে করছেন তিনি। আগে শহরে পাড়া মহল্লায় মাঠের অভাব ছিলো না। অথচ এখন মাঠ খুজে পাওয়া যায় না গ্রামেও। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মোবাইল, ইন্টারনেট আসক্তিও একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন তিনি। তাছাড়া খেলাধুলায় যাদের আগ্রহ আছে তারাও পেশাদারি কোন খেলায় যুক্ত হতে চায়, যেমন ক্রিকেট বা ফুটবলে ভবিষ্যৎ আছে জেনেই সেখানে ব্যাস্ত হচ্ছে ছেলে মেয়েরা। তবে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যই এসব খেলা বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থাও হয়তো কোন দায় আছে। আমাদের প্রত্যককেই এসব খেলাধুলা বাঁিচয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করতে হবে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৯

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৯







জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৬

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৪

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯


ব্রেকিং নিউজ