খুলনা | বুধবার | ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

পূর্বাচলে শীত মৌসুমে শুরু শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামের কাজ

আবু নাসের স্টেডিয়াম সংস্কার : ক্রীড়া পরিষদের কোটে বল পাঠালো বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:২২:০০

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাধ পাইয়েছে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। তবে দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংস্তূপ হয়ে আছে স্টেডিয়ামটি। তিন বছর আগে ঝড়ের ক্ষতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে স্টেডিয়ামটি। ফলে দীর্ঘদিন বড় ধরনের খেলা হচ্ছে না এখানে। গ্যালারি, প্যাভিলিয়ান, প্রেস বক্স, সাইড স্ক্রিন সবই যেন ধ্বংসস্তুপ। কবে হবে স্টেডিয়ামটির সংস্কার, কবে আবারও খেলা হবে তার সদুত্তর   দিতে পারেননি কেউ। তবে এবার বিসিবি কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানালো, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম সংস্কারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তাকিয়ে আছে তারা। গতকাল শনিবার বিসিবির প্রকল্প বাস্তবায়ন গ্র“পের (পিআইজি) প্রথম সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভাটি ছিলো পূর্বাচলে ৩৭ একর জমির উপর বিসিবির নিজস্ব স্টেডিয়াম তৈরির বিষয়ে। সেখানে আলোচনা শেষে জানানো হয়, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ও মিরপুর স্টেডিয়ামের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে তাগিদ দিবে বিসিবি। আগামী শীত মৌসুমে বিসিবি নিজ উদ্যোগে পূর্বাচলে শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সভায়।  
২০১৬ সালের এপ্রিলে ঝড় ও টর্নেডোতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের গ্যালারি, হসপিটালিটি বক্স, মিডিয়া সেন্টারসহ প্রায় সব স্থাপনা। উইকেট ও আউটফিল্ড ভালো থাকায় সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলা হচ্ছে বটে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের কোনো অবস্থাই নেই। ‘হোম অব ক্রিকেট’ নামে পরিচিত মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেও অনেক স্থাপনা হয়ে পড়েছে জীর্ণ। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে সাধারণ গ্যালারির অনেক আসন নষ্ট হয়ে গেছে। প্রেস বক্সের অবস্থা করুণ। সংস্কারের প্রয়োজন দেশের আরও বেশক’টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামেরও। সবগুলোরই মালিকানা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। বিসিবিকে লিজ দেওয়া হয়েছে ব্যবহারের জন্য।
শনিবার পূর্বাচল স্টেডিয়াম প্রকল্প বাস্তবায়ন গ্র“পের সভা শেষে এটির অন্যতম সদস্য ও বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস জানালেন, স্টেডিয়ামগুলো সংস্কারের জন্য ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগের অপেক্ষায় তারা।
“যে স্টেডিয়ামগুলো এখন আছে, আমরা যেগুলো ব্যবহার করছি, চট্টগ্রাম, খুলনা বা এখানে, সবই সংস্কার করতে হবে। খুলনার অবস্থা মনে হয় সবচেয়ে বাজে। আমরা তো শুধু লিজ নিয়েছি। সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এনএসসি জানে। তারা সম্ভবত দ্রুত সব ঠিক করার পরিকল্পনা করছে। শিগগিরই তার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। গ্যালারির সিট, প্রেসবক্স, সবকিছুর অবস্থা তারা জানে এবং বলেছে যে ব্যবস্থা নেবে।” 
পূর্বাচলের স্টেডিয়াম অবশ্য এনএসসির অধীনে নয়, স্বত্ব পুরোপুরিই বিসিবির। যেটির নাম ঠিক করা হয়েছে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। মূল মাঠের সঙ্গে একাডেমি মাঠ ও ভবন, সুইমিংপুল, জিমসহ অনেক পরিকল্পনা নিয়েছে বিসিবি এই স্টেডিয়াম ঘিরে। প্রকল্প বাস্তবায়ন গ্র“পের প্রধান, বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম জানালেন অগ্রগতি। মাহবুব আনাম জানালেন, আগামী শীত মৌসুমে কাজ শুরু করার ইচ্ছে তাদের। কাজ শুরুর পর দুই বছরের মধ্যে স্টেডিয়াম তৈরি হয়ে যাবে বলে আশাবাদ এই বিসিবি পরিচালকের।
বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুব আনামকে আহ্বায়ক করে বোর্ডের বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে তৈরি হয় পাঁচ সদস্যের কমিটি। কমিটিতে বাকি চার সদস্য হলেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, ফ্যাসিলিটিস কমিটির চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান এড. আনোয়ার হোসেন এবং ডিসিপি¬নারি কমিটির চেয়ারম্যান শেখ সোহেল। সভা শেষে জানানো হয়, আগামী শীতেই শুরু হবে স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ। তাছাড়া কাজ শুরু হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই তৈরি হবে দেশের সর্বাধুনিক স্টেডিয়ামটি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ