খুলনা | সোমবার | ২২ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ |

শিরোনাম :
খুলনায় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত ২১ রোগী শনাক্তপ্রিয়ার বিরুদ্ধে খুলনা যশোরসহ ৪ জেলায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার ছয়টি আবেদন খারিজযশোরসহ ৪ জেলার মাত্র একজন বিচারকের হাতে ১৭শ’ ৭০ মামলা : স্টাফ মাত্র দু’জনখুলনার বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে এ্যাডেনিয়াম ফুল গাছ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের আগে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’প্লাটিনাম জুট মিলের চারটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা জীবনের ঝুঁকিতে শ্রমিক পরিবারের সদস্যরারাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি একসঙ্গে অনুসরণ করুন : রাষ্ট্রদূতদের প্রধানমন্ত্রীপ্রি-একনেকে অনুমোদনের পর কেটেছে ১০ মাস, একনেকে ওঠেনি শের-এ বাংলা রোড চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প

Shomoyer Khobor

শরণখোলায় কবরস্থানের মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ রক্ষার দাবিতে দ্বারে দ্বারে আতাহার পাহলান

বাগেরহাট প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:১০:০০

শরণখোলায় কবরস্থানের মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ রক্ষার দাবিতে দ্বারে দ্বারে আতাহার পাহলান

বলেশ্বর সব ভাঙ্গছে, বাপ-দাদার কবর ভাঙ্গতে পারে নায়। কিন্তু ওয়াপদা আলারা মোর বাপ, দাদী, স্ত্রী আর পোলার কবরের মাডিও লইয়া গ্যাছে। যারা মোর বাপের কবরের মাডি লইয়া ব্যবসা হরছে, মুই হেগো বিচার চাই। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ সহায়তায় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার নির্মাণাধীন ৩৫/১ পোল্ডারের ভেড়িবাঁধ সংলগ্ন আতাহার পহলান (৮৫) ক্ষোভ নিয়ে বলছিলেন কথা গুলো। ভেড়িবাঁধ সংলগ্ন রাজেশ্বর গ্রামের হোসেন পহলানের পুত্র আতাহার পহলান পেশায় একজন জেলে। ঐ গ্রামেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এক সময় যেখানে তাদের ঘর ছিল, বাড়ি ছিল। বলেশ্বর নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে তাদের সে বাড়ি ঘর চলে যায় ভেড়িবাঁধের বাইরে। বলেশ্বরের ডেউয়ের আঘাতে গ্রামের পর গ্রাম ও ঘর-বসতি বিলীন হলেও তাদের কবরস্থানটি ভাঙ্গেনি। যেখানে সমাহিত হয়েছেন তার বাবা হোসেন পহলান, দাদী মেহেরজান, স্ত্রী বেগম ও পুত্র মজিবুল। বলেশ্বর নদী সব কেড়ে নিলেও এ কবরগুলো কেড়ে নেয়নি। 
গত দু’সপ্তাহ আগে প্রতিবেশী শাহাদৎ মিয়ার ট্রলারে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায় সে। বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন, কবর গুলোর কোন চিহ্ন নেই। ভেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ওই কবরস্থান ও সংলগ্ন চরের মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। দ্বারে দ্বারে ঘুরে খবর নিয়েছেন, সে বাড়ি না থাকার সুযোগে কে যেন ওই মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন চায়না কোম্পানির কাছে।
ক্ষোভ আর কান্নায় ভেঙে পড়ে আতাহার পহলান বলেন, মোর বাপের, দাদীর, স্ত্রী, পোলার কবরের মাডি দেবে ওয়াবদার রাস্তায়। সব মানষে হেইর উপর পারাইয়া আডবে। এই কষ্ট মুই কেমনে সই।  
আতাহারের পহলানের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৩৫/১ পোল্ডারের বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ভেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে এক শ্রেণীর দালাল সরকারি খাস জমি ও নদী সংলগ্ন চরের মাটি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই চক্রটি আতাহার পহলান বাড়ি না থাকার সুযোগ নিয়ে কবরস্থানসহ ওই মাটি চায়না কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। এ ব্যাপারে মাটি কেনাবেচার সাথে জড়িত চায়না কোম্পানির এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৬/৭ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের বলেশ্বর অংশে পর্যাপ্ত মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। মাটির অভাবে বাঁধ নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই যেখানে যখন যতটুকু মাটি পাওয়া যাচ্ছে তাই সংগ্রহ করা হচ্ছে। আতাহার পহলানের কবরস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, কেউ হয়তো কাগজপত্র দেখিয়ে মাটি বিক্রি করেছে। এছাড়া যেহেতু কেউ বাঁধা দেয়নি ও কবর ছিলো কিনা তা আমরা জানিনা। তাই সেভাবেই হয়তো মাটি সংগ্রহ করা হয়েছে। 
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, বৈধ মালিকের অনুমতি ছাড়া মাটি সংগ্রহের কোন নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ