খুলনা | মঙ্গলবার | ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্রখ্যাত অভিনেতা টেলিসামাদ আর নেই

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫৪:০০

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেতা টেলিসামাদ (৭৪) আর নেই। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে গুণী এই অভিনেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...আমরা তো আল্লাহর এবং আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবো)। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির অফিস সহকারী জাকির হোসেন।
প্রায় এক বছর ধরেই শারীরিক নানা সমস্যা নিয়ে হাসপাতাল-বাসায় আসা-যাওয়া করছিলেন টেলিসামাদ। এর মধ্যে শরীরে অস্ত্রোপচারও করা হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টায় হঠাৎ করেই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন টেলিসামাদ। তারপরই তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা গেলেন তিনি।
এদিকে টেলিসামাদকে আজ রবিবার জোহর নামাজের পর মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে। তার আগে শনিবার সন্ধ্যার পর যেকোনো সময় রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে আজ বেলা ১১টায় তার মরদেহ নেয়া হবে এফডিসিতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেলি সামাদের ছেলে দিগন্ত সামাদ। তিনি জানান, এফডিসি থেকে আমাদের সঙ্গে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান যোগাযোগ করে হাসপাতালে আসেন। তিনি অনুরোধ করার কারণে আমরা ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্সে বাবার মরদেহ রাখব। আগামীকাল (রবিবার) এফডিসি থেকে মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই বাবার দাফন সম্পন্ন হবে।
সত্তরের দশকের শুরুতে রূপালি পর্দায় পা রাখা টেলিসামাদ ছয় শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন টেলিসামাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। ছবি আঁকার নেশার পাশাপাশি অভিনয়ের নেশাও ছিল তাঁর। ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় তাঁর। সাড়ে চার দশক ধরে ঢালিউডে কাজ করছেন তিনি। অনিমেষ আইচ পরিচালিত  ২০১৫ সালে  টেলিসামাদের সর্বশেষ ছবি ‘জিরো ডিগ্রি’ মুক্তি পায়।
টেলিসামাদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- ‘রিকসাওয়ালার ছেলে’, ‘কুমারী মা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘মাটির ঘর’, ‘মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি’, ‘কাজের মানুষ’ ইত্যাদি। এর মধ্যে ‘নয়নমণি’ ও ‘পায়ে চলার পথ’ ছবিতে  অভিনয়ের  কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।
পারিবারিকভাবে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, খাদ্য নালির সমস্যা, রক্তে প্লাটিনাম কমে যাওয়া, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন টেলিসামাদ। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর হার্টে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল। এরপর  গত বছরের ২০ অক্টোবর তাঁর বাঁ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতেও জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

শিল্পী কালিদাস কর্মকার আর নেই

শিল্পী কালিদাস কর্মকার আর নেই

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৩১


সাংবাদিক সুবীর রায়ের পরলোকগমন

সাংবাদিক সুবীর রায়ের পরলোকগমন

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২১











ব্রেকিং নিউজ