খুলনা | সোমবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

তদারকি না থাকায় পুনর্বাসিত ভিক্ষুকরা ফিরছে পুরাতন পেশায়!

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩০:০০

২০১৭ সালের এ মাসেই খুলনা বিভাগকে প্রাথমিকভাবে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করা হয়। মহতি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতনের অংশ তুলে দেন; সমাজের উচ্চবিত্তরা সহযোগিতা করেন। খুলনার তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুস সামাদের এ মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা উঠে আসে তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত। আর্থিক অনুদান ও ব্যবসায়ের উপকরণপ্রাপ্ত ভিক্ষুকরা নতুন করে ফিরছে পুরাতন পেশায়। নগরীতে প্রায়শই ভীড় বাড়ছে; বিশেষ করে জুম্মার পর মসজিদের সামনে ভীড় চোখে পড়ার মতো।
গতকাল জুম্মাবাদ নগরীর পিটিআই জামে মসজিদ চত্বরে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় একাধিক ভিক্ষুকের। তারা জেলা প্রশাসনের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পর নতুন করে ফিরেছেন পুরাতন পেশায়। কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, যে আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছিলেন তারা তা অল্পদিনেই খরচ হয়ে গেছে। ব্যবসা করতে পারিনি; এখন কি করে সংসার চলবে? বলে পাল্টা প্রশ্ন করেন তারা।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০ জেলায় ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত ২২ হাজার ৫৪৮ জনের তালিকা তৈরি করেন। গঠন করা হয় ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সংস্থা’। এ সংস্থার জেলাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রথমেই সংস্থার তহবিল গঠনের জন্য বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁদের একদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা দান করেন। খুলনা জেলা প্রশাসনের এই তহবিলে ছয় লাখ টাকা দেয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন। এ ছাড়া সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
সূত্র আরও জানায়, বিভাগের দশ জেলার মধ্যে খুলনা জেলায় দুই হাজার ৯০১ ভিক্ষুকের মধ্যে ১৩৬ জন অন্ধ, ৭৫ জন বধির, ৪৫ জন বোবা, ১২৭ জন পঙ্গুকে ২০১৭ সালের আর্থিক সহায়তা, ব্যবসায় ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়। সর্বশেষ ওই বছরের ৩০ এপ্রিল পাইকগাছা উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে সাতক্ষীরায় তিন হাজার ৬১ জন, বাগেরহাটে তিন হাজার ১২২ জন, নড়াইলে ৭৯৮ জন, যশোরে চার হাজার ৫২ জন, ঝিনাইদহে দুই হাজার ৩০৬ জন, মাগুরায় এক হাজার ৩৪৫ জন, কুষ্টিয়ায় দুই হাজার ২৭৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় দুই হাজার সাতজন, মেহেরপুরে ৬৮৩ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়।
ওই জরিপ অনুযায়ী, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত ছিল দুই হাজার ৩৫৯ জন। বাকি ২০ হাজার ১৮৯ জন দারিদ্র্যসহ নানা সামাজিক কারণে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনধারণ করছিল। প্রথম পর্যায়ে ২০১৭ সালে ১৬ হাজার ৪০৯ জনকে পুনর্বাসন বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। পর্যায়ক্রমে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলায় ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে ভিক্ষাবৃত্তি দূরীকরণে প্রথমবারের কাজ শুরু করেন খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল আহসান। ভিক্ষুকরা আবার মানুষের কাছে হাত পাতছেন এমন তথ্য শুনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন খুলনার তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার বর্তমান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক যুগ্ম-সচিব নাজমুল আহসান। অনেক কষ্টের মহতি এ উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়া সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি নন তারা। শুধু সচেতনতা সৃষ্টিতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্রমতে, ভিক্ষুক মুক্ত খুলনা বিভাগের সুনাম ধরে রাখতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেসিসি’র ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্য এবং এনজিও কর্মীদের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠনের পরিকল্পনা থাকলে আলোর মুখ দেখেনি তা। ফলে পুনর্বাসিত ভিক্ষুকরা ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরছে। পুনরায় পুনর্বাসিত সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুনর্বাসিতরা।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, মনিটরিংয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন। নিয়মিত মনিটরিং করা হয় বলে জানি। ওই তহবিলেও অর্থ আছে। সুনাম ধরে রাখতে প্রয়োজনে আরও অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬



ব্রেকিং নিউজ











কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬