খুলনা | বুধবার | ১৯ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

আইনের প্রয়োগ কম : সচেতনতার অভাব : পদ্মা সেতু চালুর পর দূষণ বাড়তে পারে

নিয়ন্ত্রণহীন শব্দ ও বায়ুদূষণে খুলনা

এন আই রকি | প্রকাশিত ০৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩০:০০

খুলনায় শব্দ ও বায়ুদূষণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণহীন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন পয়েন্টগুলোর নমুনা বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। মূলত সচেতনতার অভাব ও যথাযথ আইন না মেনে চলার কারণেই দূষণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এদিকে এই মুহূর্তেই খুলনার শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রিত করতে না পারলে ভবিষতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর এই অঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিজের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়বে যানবাহন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দূষণ কমানোর জন্য কাজ করলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত নিরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকার শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী দিনে ও রাতে সর্বনিম্ন ৪০ ডেসিবল থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দের পরিমাণ সহনশীল। সাউন্ড লেভেল মিটার দিয়ে দিনে ও রাতে পৃথক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে শব্দ রেকর্ড করা হয়। এদিকে বায়ুর ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রাম এসপিএম পর্যন্ত সহনশীল। এটি পরিমাপ করা হয় হাই ভলিয়ুম স্যাম্পলারের মাধ্যমে।
বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের নমুনা বিশ্লেষণে দেখা যায়  গুরুত্বপূর্ণ ২০টি পয়েন্টগুলোর মধ্যে ১৮টি পয়েন্টে শব্দদূষণ হচ্ছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ১৮টি পয়েন্টের মধ্যে ১৪টি, ২০১৬ সালের অক্টোবরে ১৮টি পয়েন্টের মধ্যে ১৩টি, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ২৮টি পয়েন্টের মধ্যে ২৭টি এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩০টি পয়েন্টের মধ্যে ২৮টি পয়েন্টে শব্দদূষণ পাওয়া গেছে। তবে তুলনামূলক বায়ুদূষণের পরিমাণ কম পাওয়া গেলেও গত দুই বছরে এর পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৪ সালে একই মাসের নমুনা বিশ্লেষণে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৬টি পয়েন্টের মধ্যে ১টিতে বায়ুদূষণ হয়েছে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ২৫টি পয়েন্টে কোন দূষণ পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ২৫টি পয়েন্টের মধ্যে ৭টি এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ২৫টি পয়েন্টের মধ্যে ৪টি বায়ুদূষণ পাওয়া গেছে।
বেলা’র খুলনার সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, প্রতিনিয়ত খুলনায় শব্দ ও বায়ুদূষণের পরিমাপ করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়ে যানবাহনগুলো হর্ণ বাজিয়ে চলছে। সরকারের নির্দেশে হাইড্রোলিক হর্ণ বন্ধের অভিযান চললেও বর্তমানে আবারও যানবাহনগুলোয় এই হর্ণ ব্যবহার করছে। এছাড়া ইটভাটা, ব্যাটারির ফ্যাক্টরী পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম নীতিমালা অনুসরণ না করায় বায়ুদূষণ বাড়ছে। 
তিনি আরও বলেন, খুলনায় শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি এই বিষয়ে প্রচারণাও বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কয়েকটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তাহলে অনেকেই সচেতন হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ হাবিবুল হক খান সময়ের খবরকে বলেন, শব্দ দূষণের কয়েকটি কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইজিবাইকের হর্ণ, আবাসিক এলাকাগুলোয় নিম্নমানের জেনারেটর ব্যবহার করা, নগরীর মধ্যে থাকা ওয়েল্ডিং মেশিনের ওয়ার্কশপ। এছাড়া বায়ুদূষণের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো, সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ডাষ্ট কালেক্টর না থাকা, খোলা জায়গায় কয়লা রাখা, পুরানো ব্যাটারি রিসাইক্লিং, টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরিসহ পাটখড়ি থেকে কালি তৈরির প্রক্রিয়া। 
তিনি দাবি করেন, শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত অভিযান করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর পর এই এলাকায় ইন্ডাষ্ট্রি আরও বাড়বে। তার আগেই এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু ১০টি জেলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সাউন্ড লেভেল মিটার ও হাই ভলিয়ুম স্যাম্পলার নেই। যার কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। 
এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, শব্দ দূষণের কারণে মানুষের শরীরের রক্তের চাপ বেড়ে যায়, শ্রবণশক্তি কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়, স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ থাকে না, ঘুমাতে সমস্যা হয়। এছাড়া বায়ু দূষণের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। স্বাভাবিক ভাবে অক্সিজেন নিতে কষ্ট হয়, রক্ত চলাচল কমে যাওয়াসহ কফ ও কাশির মত রোগের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, শব্দ ও বায়ুদূষণ সাধারণ জীবন যাপনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধিসহ যথাযথ আইন প্রয়োগ করলে এর প্রতিকার সম্ভব।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ