খুলনা | সোমবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ভোটের পরে মুখ খুলছেন সবাই

খুলনায় নৌকার প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ দলীয় কোন্দল, অনিয়ম-দুর্নীতি

এন আই রকি | প্রকাশিত ০২ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৩০:০০

খুলনার কয়রা, দাকোপ, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা গত রবিবার নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর থেকেই এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন বুকের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যেই বলা শুরু করছেন অনেকেই। উপজেলা এলাকার প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানে, বাজার ঘাটে এখন আলোচনার বিষয় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনের কারণগুলো। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে।
খুলনার ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত ৪টি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। পরাজিত প্রার্থীরা সকলেই স্ব স্ব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দায়িত্বরত চেয়ারম্যান। এরা হলেন কয়রার জি এম মহসিন রেজা, দাকোপের শেখ আবুল হোসেন, তেরখাদার সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু এবং দিঘলিয়ার খান নজরুল ইসলাম। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এরা হলেন কয়রায় উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এস এম শফিকুল ইসলাম, দাকোপে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনসুর আলী খান, তেরখাদায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম এবং দিঘলিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মারুফুল ইসলাম। 
চারটি উপজেলার একাধিক ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, কৃষিজীবী, মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে আলাপ করে বিদ্রোহীদের বিজয়ের পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিরোধী শিবিরের ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়া, স্বয়ং আওয়ামী লীগের ভোটারদের উপস্থিতি নির্বাচনে কম থাকা, বিগত ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় গ্র“পিং, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, পুলিশী হয়রানী, প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ না করা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।   
কয়রা উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা এ প্রতিবেদককে জানান, চেয়ারম্যান মহসিনের অনুসারীদের দ্বারা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, হামলা-মামলার হয়রানি এবং দলীয় কোন্দলের অভিযোগই পরাজয়ের মূল কারণ। বিগত পাঁচ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন না করা, আইলার পরবর্তী সময়ে বাঁধ মেরামতে চরম অবহেলাসহ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে মানুষের ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। যার বিস্ফোরণ ঘটেছে এবারের উপজেলা নির্বাচনে।  
দাকোপের সাধারণ ভোটাররা জানান, সকল উন্নয়ন প্রকল্পে আবুল হোসেন চেয়ারম্যানের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ, তৃণমূল মানুষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা, নিজ অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া, দুর্যোগ কবলিত এ এলাকায় বারবার প্রতিশ্র“তি দিয়েও ভেড়িবাঁধ মেরামত না করা আবুল হোসেনের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
তেরখাদার ভোটাররা জানায়, বাচ্চু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্কুলের দোকান বরাদ্দ বাণিজ্য, চাকুরির কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, খাল খননে অনিয়ম-দুর্নীতি, নিজ নিয়ন্ত্রণে ঠিকাদারী কাজ করা, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিরোধী শিবিরের ভোট বাচ্চুর বিপক্ষে যাওয়ায় কারণে তার পরাজয় হয়েছে।
দিঘলিয়ার একাধিক ভোটারের সাথে আলাপকালে পরাজয়ের কারণ হিসেবে জানা যায়, আওয়ামী লীগের দুই গ্র“পের কোন্দল, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে চাপা প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ, সাধারণ মানুষের সাথে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সম্পৃক্ততা কম থাকা, ভোট গ্রহণের সুষ্ঠুতা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে খোদ আ’লীগের ভোটারদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম হওয়ায় তার পরাজিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে কয়রার বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৩ হাজার ১৯৪ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জিএম মহসিন রেজা পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৫১ ভোট। দাকোপের বিদ্রোহী প্রার্থী মুনসুর আলী খান পেয়েছেন ৩১ হাজার ৬৮৭ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম আবুল হোসেন পেয়েছেন ২৭ হাজার ৮৮১ ভোট। তেরখাদার বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শহীদুল ইসলাম পেয়েছেন ৩২ হাজার ৩৩০ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ সনফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৩৯ ভোট। দিঘলিয়ার বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মারুফুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫৬৪ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খান নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩১ ভোট।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৩





ব্রেকিং নিউজ











কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬