খুলনা | বুধবার | ১৯ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি : প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় কৃষকরা হতাশ

নাজুক অবস্থায় দৌলতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের মাশরুম ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরী!

এন আই রকি | প্রকাশিত ৩১ মার্চ, ২০১৯ ০১:৩০:০০

নাজুক অবস্থায় দৌলতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের মাশরুম ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরী!

জরাজীর্ণ ল্যাবরেটরী মধ্যে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। এসিতে মরিচা। মাশরুমের স্পুন বা বীজ রাখার শোকেজটিও নুয়ে পড়েছে। ইনক্লুয়েশন মেশিনটাও নষ্টের পথে। লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হলেও তা তদারকির উদ্যোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই এমন নাজুক অবস্থায় নগরীর দৌলতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের মাশরুম ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরীর। প্রায় চার বছর মাশরুম চাষের প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরজেমিনে  এমন নাজুক চিত্র দেখা যায়। 
জানা যায়, ২০০৫ সালে মাশরুম ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরী চালু হলেও মাশরুম প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালের দিকে। এরপর কয়েক বছর নিয়মিতভাবে এ অঞ্চলের কৃষকদের মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রায় ৭শ’ থেকে ৮শ’ কৃষককে এই চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। মাত্র ১৫ টাকার বিনিময়ে মাশরুমের স্পুন বিক্রি করে কৃষকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় সরকার। তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলে মাশরুমের তেমন চাহিদা না থাকলেও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণের পর ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে সরকারিভাবে এ সকল ট্রেনিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীনে পড়ে। কারণ ল্যাবরেটরী বন্ধ থাকায় মাশরুমের বীজ পাচ্ছে না কৃষকরা। এছাড়া সৃষ্ট মার্কেটে সরবরাহ না দিতে পারায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। এসবের পাশাপাশি মাশরুম প্রশিক্ষণ ও বীজ তৈরিতে ল্যাবরেটরী থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতির অবস্থা নাজুক হতে থাকে। 
খুলনা অঞ্চলের একাধিক মাশরুম ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত ১০ বছরের ব্যবধানে মাশরুমের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ছাড়া একদম ফ্রেশ সবজি মাশরুম। যা শুধুমাত্র পানি দিয়েই চাষ করা হয়। এটা এক প্রকার মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গণ। যা বর্তমানে বিভিন্ন হোটেলে অহরহ বিক্রি হচ্ছে। মাশরুমের বিরিয়ানিরও বেশ চাহিদা রয়েছে। 
আস্থা মাশরুম ফার্মের মালিক ফয়সাল এ প্রতিবেদককে জানান, মাশরুম চাষে খুবই কম পুঁজি লাগে। খুব সহজেই এ ব্যবসা করে আত্মকর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, হর্টিকালচার সেন্টারে লাখ লাখ টাকার মাশরুম প্রশিক্ষণ ও বীজ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোন ধরণের প্রশিক্ষণ নেই। তিনি দাবি করেন, খুব দ্রুত এ অঞ্চলের কৃষকদের কথা চিন্তা করে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি মেরামত করে সচল করা দরকার।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন সময়ের খবরকে বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ বন্ধ রয়েছে। তবে খুব দ্রুত এটি পুনরায় চালু হতে পারে। তিনি বলেন, ল্যাবরেটরী সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছে। মূল্যবান যন্ত্রপাতি তদারকিতে আছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ