খুলনা | সোমবার | ২২ এপ্রিল ২০১৯ | ৯ বৈশাখ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

স্টার ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশনের হালচাল

সাইনবোর্ডে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের নাম রোগী দেখছেন হাতুড়ে ডাক্তাররা

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ৩০ মার্চ, ২০১৯ ০০:৫৬:০০

নগরীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারপাড়া খ্যাত সামসুর রহমান রোডেই চিকিৎসা দিচ্ছেন একাধিক হাতুড়ে চিকিৎসক। স্টার ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে দুই ডজন সিনিয়র চিকিৎসকের নাম থাকলেও বেশির ভাগই নিয়মিত রোগী দেখেন না এখানে। ফলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে আসা রোগীরা বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে খুলনা বিএমএ। 
নগরীর প্রাণকেন্দ্র সামসুর রহমান রোডে লাইটিং সাইনবোর্ডে চোখে পড়বে স্টার ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার। সাইনবোর্ডে রয়েছে উচ্চ ডিগ্রিধারী অভিজ্ঞ দুই ডজনেরও বেশি চিকিৎসকের নাম। যাদের বেশির ভাগই এখানে নিয়মিত রোগী দেখেন না। তবে এখানে নিয়মিত রোগী দেখছেন সালাহউদ্দিন দোলন এবং কাজল নামে এক হাতুড়ে চিকিৎসক। নিজের নামের ভিজিটিং কার্ডে এলএমএফপি ডিগ্রী লেখেন ডাঃ সালাহউদ্দিন দোলন, অন্যদিকে ডাঃ কাজল ভট্টাচার্য তার কার্ডে লেখেন ডিএমএ ডিগ্রী। দু’জনেই জেনারেল প্রাক্টিশনার। সিরিয়াল দিয়ে রোগী দেখেন এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। নগরীর এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় বড় ডাক্তারের সাইনবোর্ড দেখে এখানে আসা রোগী ও তার স্বজনদের কৌশলে প্রতারিত করছে এই প্রতিষ্ঠান।
নিজের নামের সাথে ডাঃ এবং ডিগ্রি হিসেবে এলএমএফপি লেখেন সালাহ উদ্দিন দোলন তার একটি ভিজিটিং কার্ড আমাদের হস্তগত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলএমএফ এর ইংরেজি পূর্ণরূপ Licentiate of Medical Faculty Practitioner  । এটা এক বছরের একটি মেডিকেল কোর্স যা পূর্বে ওষুধ বিক্রি করার জন্য ড্রাগ লাইসেন্স করতে ব্যবহার করতো। 
এদিকে কাজল ভট্টাচার্য নিজের নামের পাশে ডাঃ কাজল ভট্টাচার্য ডিএমএ লেখেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ডিএমএ এর ইংরেজি পূর্ণরূপ হলো Diploma in Medical Assistant  । যা এসএসসি পাস করার পর যে কেউ ভর্তি হতে পারে, চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে থাকার জন্য। তবে এরা কেউ চিকিৎসকের সহকারী নয়, নিজেরাই নামের পাশে ডাঃ লিখে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাকটিস করে যাচ্ছেন। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচিত শহিদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আড়াই লক্ষাধিক টাকার ওষুধ চুরির মামলায় চাজশীর্টভুক্ত আসামি। এই মামলায় তিনি কারাভোগ করেছেন, বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত। হাসপাতালে না গিয়ে নগরীর সামসুর রহমান রোডের এই স্টার ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টারেই সময় কাটান তিনি। 
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কনসালটেশন সেন্টারের মালিক গ্র“পের সদস্য মোঃ জাহিদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন সালাহউদ্দিন দোলন ও কাজল ভট্টাচার্য এখানের ডাক্তার নয়। তারা বাইরে থেকে রোগী আনেন এবং মার্কেটিং এ কাজ করেন। 
তবে কিভাবে ডাক্তার হিসেবে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে এখানে রোগী দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন তারা এমন ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে থাকেন এবং ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন, তাহলে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএমএ খুলনা সাধারণ সম্পাদক ও স্বাচিপ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ এ প্রতিবেদককে বলেন অভিযোগটি খুবই গুরুতর। সামসুর রহমান রোডের মত এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এতো বড় জালিয়াতি ও প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা নেব সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫৭







ব্রেকিং নিউজ








পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫৭