বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ


জাতির জনক বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নামনয় একটি ইতিহাস। যে, মহানায়কের জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের এই স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অভ্যুদয়  কখনও ঘটতনা এবং বাঙ্গালীরা একটা স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় কখনও মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারত না, তিনিই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙ্গালীরা তাঁকে ভালোবেশে ‘বঙ্গবন্ধু’ শিরোপায় ভূষিত করে ধন্য হয়েছে।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পদ্মা, যমুনা, মেঘনা বিধৌত গাঙ্গেয় অববাহিকায় পূর্ববঙ্গ নামের এই শস্য শ্যামল সুন্দর দেশটির উপর পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসনের জগদ্দল পাথর চেপে বসে। তারপর থেকে শুর” হয় পূর্ব বাংলার ওপর পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্মম শাসন - শোষনের দীর্ঘ ইতিহাস। আবহমান বাংলার সাহিত্য- সংস্কৃতির ওপর শুর” হয় পৈশাচিক হামলা। বাঙ্গালী ছাত্র জনতা সে হামলা র”খে দাঁড়ায়। শুর” হয় রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলন। অবশেষে দীর্ঘ  সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বিধাতার আর্শীবাদ হিসেবে এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর্বিভূত হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালী রাজনীতিবিদদের মধ্যে শেখ মুজিবই প্রথম উপলব্দি করেন যে, পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসন -শৃংখল  ছিন্ন করে রেরিয়ে এসে বাংলার স্বাধীনতা অর্জন ব্যতীত বাঙ্গালীর দীর্ঘ দুইশ বছরের পরাধীনতার গ্রানি কখনও ঘুচবে না। তিনি প্রথমে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচী দিয়ে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে সংহত করে তুলে আন্দোলনের পর আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি বলেন ‘‘৬ দফা জনগনের ম্যান্ডেট। ৬ দফা এখন জনগণের সম্পদ, এর একটা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনও বদলানো যাবে না’’।বঙ্গবন্ধুর  স্পষ্ট জবাব শুনে পাক সামরিক জান্তা বুঝতে পারলো যে, শেখ মুজিবকে দমানো যাবে না। সামরিক জান্তার নায়ক জেনারেল ইয়াহিয়া খান আলোচনা ধাপ্পার আড়ালে পাকিস্তানী  বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি  সম্পূর্ণ করে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় বিশ্বের নৃশংসতম গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে।
২৫ মার্চ রাত বারটার পর অর্থাৎ ২৬ মার্চ গভীর রাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী গণহত্যা শুর” করা মাত্রই বঙ্গবন্ধু তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ওয়্যারলেসযোগে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণাবানী প্রচার করেন।এই চ’ড়ান্ত ঘোষণাবানীতে বঙ্গবন্ধু যে সব কথা বলেছিলেন, তা আজ বিশেষ ভাবে স্মর্তব্য। এই চুড়ান্ত ঘোষণায় তিনি দখলদার বাহিনীকে বাংলাদেশের মাটি থেকে চিরতরে উৎখাত এবং স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে জনগণসহ বাঙালী সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, আনসার প্রভৃতি দেশপ্রেমিক বাহিনী সমূহ ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন। ওয়ারলেসযোগে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণাবানীটি ২৫ মার্চ দিবাগত রাত্র সাড়ে ১২টার পর প্রেরিত হয় বলে ইংরেজি ক্যালেন্ডার মতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসরূপে পালিত হয়ে আসছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নামেই একাত্তুরের ৯ মাস গোটা মুক্তিযুদ্ধ পারিচালিত হয় । তাঁর নামের যাদুকরী প্রভাব মুক্তিযুদ্ধকে অজেয় করে তুলেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িত।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।