খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

চিতলমারীর খলিশাখালী বধ্যভূমি এখনো অরক্ষিত, দু’বছরেও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

গোবিন্দ মজুমদার   | প্রকাশিত ২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪১:০০

চিতলমারীর খলিশাখালী বধ্যভূমি এখনো অরক্ষিত, দু’বছরেও হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

১৯৭১ সালের মহান সাধীনতা যুদ্ধের ৪ যুগ পার হলেও বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি বধ্যভূমি এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে। উপজলোর চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে আশ্রয় নেয়া অসংখ্য নিরীহ লোককে যুদ্ধের সময়ে পাক হানাদার বাহিনী গুলি চালিয়ে হত্যা করে। বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত ও স্থানটি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৯৭১ সালের বাংলা ৫ আষাঢ় বেলা ১১টার দিকে বলেশ্বর নদী পথে গানবোট যোগে পাক সেনারা ও তাদের দোসররা মিলে এলাকায় প্রবেশের পথে নির্বিচারে গুলি চালায়। এদিন তারা এলাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। গুলরি শব্দে লোকজন প্রাণভয়ে দিগি¦দিক পালাতে থাকে। 
এ সময়ে আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশ্রয় নেয়া লোকজন এবং অনেক স্থানীয় গ্রামবাসী খলিশাখালী গ্রামের মাঠের মধ্যে হোগলা ও পাটক্ষেতে লুকিয়ে থাকার জন্য আশ্রয় নেয়। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা তাদের দেখতে পেয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ওইসব লোকজনকে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও এ স্থানটি যথাযত ভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। 
এলাকার অনেকে জানান, এখানকার মাঠের জমিতে মাটি খুঁড়ে অনেক মানুষের হাড় ও মাথার খুলি পাওয়া গেছে। চরবানিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল জানান, যুদ্ধের সময়ে এখানে যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের অধিকাংশই আশপাশের জেলা থেকে এখানে আশ্রয় নিতে এসেছিল। অনেকের নাম পরিচয় জানা যায়নি। উপজেলা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মোঃ আবু তালেব শেখ জানান, ওইদিন বাগেরহাট থেকে কুখ্যাত রাজাকার রজ্জব আলী ফকিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগসহ গণহত্যা চালায়।
এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সুনীল মণ্ডল জানান, যুদ্ধের সময়ে এখানে প্রায় ২ শতাধিক নিরীহ লোককে পাক বাহিনী হত্যা করে। এ স্থানটিকে আমরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে দ্রুত }} ২ পাতার ৫ কলাম
সংরক্ষণ ও এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান। খলিশাখালী গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা প্রমীলা মণ্ডল জানান, তিনি সেদিনের হত্যাযজ্ঞের সেই ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন। মাঠের ভেতর অসংখ্য মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ জানান, বধ্যভূমির ওই স্থানটি যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯১৭ সালের ২৬ মার্চ এখানে প্রস্তাবিত স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে উদ্বোধন করে উপজেলা প্রশাসন। যা এখনও বাস্তবে রূপ নেয়নি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬



আমি বিজয়ের কথা বলছি

আমি বিজয়ের কথা বলছি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১০

বাঙালির বিজয়

বাঙালির বিজয়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৯

এনেছি বিজয়ের বাংলাদেশ

এনেছি বিজয়ের বাংলাদেশ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৬

বিজয় মানে

বিজয় মানে

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৬

পরিচয়হীনা

পরিচয়হীনা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৪

এসো হে বিজয় দিবস

এসো হে বিজয় দিবস

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৩


ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬