কেসিসি’র কাউন্সিলররা আ’লীগে যোগদানে তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া 


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) একাধিক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের যোগদান করায় তৃণমূল পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন আ’লীগ ক্ষমতায় থাকায় দলীয় সুবিধা নেওয়ার জন্য অনেকেই এ দলে এসেছেন বলে দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের ভোটাররা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাতে কর্ণপাত করছেন না গত নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তাদের দাবি, কাউন্সিলরদের আ’লীগে যোগদানে দল আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছে। আগামীতে সকলে মিলে মিশেই দলকে সুসজ্জিত করা হবে।
এদিকে নগরীর ৭নং ওয়ার্ডের বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু আ’লীগে যোগদান করেননি। গতকাল সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সি মাহাবুবুল আলম সোহাগ। তিনি আরও বলেন, দল থেকে প্রেরিত (রবিবার) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও তার নাম গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি। কাউন্সিলর প্রার্থীদের যোগদান অনুষ্ঠানের সভামঞ্চে তিনি উপস্থিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আ’লীগে নেওয়া হয়নি। 
খালিশপুর থানা আ’লীগের সভাপতি এ কে এম সানাউল্লাহ নান্নু রাতে প্রতিবেদককে বলেন, কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু’র যোগদানের বিষয়ে দলের ওয়ার্ড পর্যায়ে আপত্তি আছে।
নগরীর ২নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি ও আ’লীগের মনোনীত কাউন্সিলরের পরাজিত প্রার্থী মোঃ শাকিল আহমেদ বলেন, দলের মধ্যে ক্ষোভ তো হবেই। মূলত ঘটনা হলো আমাদের দল দীর্ঘসময় ক্ষমতায় আছে। সেই দিকটা বিবেচনা করেই অনেকেই সুবিধা নেওয়ার জন্য দলে আসছে। তবে আ’লীগ বড় দল। কেউ আসতে চাইলে তাকে অবশ্যই সুযোগ দেওয়া হবে। 
২০নং ওয়ার্ডে সিনিয়র সহ-সভাপতি বাদশা হাওলাদার বলেন, আ’লীগে যোগদান করতে যাওয়ার সময় অনেক কাউন্সিলর একাই গিয়েছেন। অনেকেই কাউন্সিলর হয়ে অঢেল সম্পত্তি ও মামলার হাত থেকে বাঁচাতে আ’লীগে যোগদান করেছেন। 
নগরীর ৭নং আ’লীগের আহ্বায়ক শেখ সেলিম আহমেদ বলেন, সুলতান মাহমুদ পিন্টু আ’লীগে যোগদান করেননি। তিনি স্টেজে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আ’লীগের বিজ্ঞপ্তিতে তার নাম ছিল না। 
নগর আ’লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ১৭নং ওয়ার্ডের আ’লীগ সমর্থিত পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম মনিরুজ্জামান সাগর বলেন, দল বিবেচনা করেই তাদের গ্রহণ করেছে। যেহেতু তাদেরও একটা ক্ষুদ্র শক্তি আছে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তি চাহিদা উপেক্ষা করে আ’লীগকে আরো শক্তিশালী করার জন্য আমরা কাজ করে চলব।  
৬নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াজেদ আলী মজনু বলেন, দলের উপরিমহলের নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করেই তারা দলে যোগদান করেছেন। তৃণমূলে এ বিষয়ে ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে মাঠ পর্যায়ের নেতা হিসেবে আমি দলীয় সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানায়।
৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও খালিশপুর থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মোঃ সাহিদুর রহমান বলেন, আ’লীগের রাজনীতি সফল। এখন আর জামায়াত-বিএনপি বলতে কিছু থাকবে না। সকলে মিলেই আ’লীগের রাজনীতি করবে। তিনি এ বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
১৬নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি শেখ আবিদউল্লাহ বলেন, আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে দল করে আসছি। দলের সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। 
নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আ’লীগ মনোনীত ৩১নং ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, আ’লীগের অভিভাবকের মাধ্যমে তিনি আ’লীগে যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। তাদের স্বাগতম। 
উল্লেখ্য, গত রবিবার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ সাইফুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডের শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, ৮নং ওয়ার্ডের মোঃ ডালিম হাওলাদার, ১২নং ওয়ার্ডের মোঃ মনিরুজ্জামান, ১৬নং ওয়ার্ডের আনিসুর রহমান বিশ্বাস, ২০নং ওয়ার্ডের মোঃ গাউসুল আযম, ২৩নং ওয়ার্ডের ইমাম হোসেন ময়না, ২৬নং ওয়ার্ডের গোলাম মওলা শানু, ৩১নং ওয়ার্ডের মোঃ আরিফ হোসেন মিঠু ও সংরক্ষিত-১ আসনের মনিরা খাতুন আ’লীগে যোগদান করেছেন। 
 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।