খুলনা | সোমবার | ২২ এপ্রিল ২০১৯ | ৯ বৈশাখ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্রেসব্রিফিংয়ে নিরাপত্তা চাইলেন মোস্তফা সারোয়ার : অভিযোগ অস্বীকার সংসদ সদস্যের

ডুমুরিয়ায় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘নৌকা’র বিরোধীতার অভিযোগ  

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:০৯:০০

ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা সারোয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দল মনোনীত প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের বিরোধীতা করছেন। তার পুত্রদ্বয়ও কুৎসিত ভাষায় অপপ্রচার করছেন। তিনি বলেন, চরমপন্থীদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ডুমুরিয়ার অন্তত পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানসহ তৃণমূল আ’লীগ নেতারা। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে প্রেসব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করলেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা সারোয়ার বলেন, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সুরঞ্জিত বৈদ্য, মাগুরখালীর ব্রজেন ঢালী, খুলনার শাহীন, বোমা হাবিব, কিলার বাবুসহ কয়েকজন চরমপন্থী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আটলিয়ার চেয়ারম্যান প্রতাপ রায়কে হত্যার উদ্দেশ্যে চুকনগরে অবস্থান করছে এক চরমপন্থী। ডুমুরিয়ার ইতিহাস খুব খারাপ। যখনি কোন জনপ্রিয় নেতা তৈরি হয়েছে, তখনি সে খুন হয়েছে। শেখ আব্দুল মজিদ, শেখ কবিরুল ইসলাম, মোল্লা সিরাজুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ এরা কিন্তু এসব চরমপন্থীদের দ্বারা খুন হয়েছেন। আজকে (সোমবার) আমি মোস্তফা সারোয়ার, ডুমরিয়া সদরের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বুলু, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন, জেলা পরিষদের সদস্য সরদার আবু সালেহ, আটলিয়ার চেয়ারম্যান প্রতাপ রায় আমরা সবাই আজকে আতঙ্কিত। যেকোন সময়ে আমরা হত্যা-খুন, জখমের শিকার হতে পারি এরকমই আশঙ্কা করছি।” 
তিনি আরও বলেন, “শোভনা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল সরদার আব্দুল গণিকে, সন্ত্রাসী সুরঞ্জিতের পক্ষ নিয়ে নৌকার প্রতীকের প্রার্থীকে মাঠে নামতে দেয়নি। একই ভাবে ডুমুরিয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন আল মাসুদও নৌকা প্রতীক পেয়েছিলেন। চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে তাকেও হারিয়ে দেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাকে, হুমায়ুন কবির বুলু ও মোস্তফা কামাল খোকনকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোনয়নের জন্য তদ্বীর করেছেন শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দারের (দোয়াত কলম) পক্ষে; এখন ভোট চাচ্ছেন ঘোড়ার পক্ষে। কারণ ঘোড়ার প্রার্থীর কোটি কোটি টাকা। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।”
বক্তব্যের শুরুতেই মোস্তফা সারোয়ার বলেন, যে মুহূর্তে নির্বাচনে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত থাকার কথা সে সময়ে আমি সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছি কিছু কথা বলার জন্য। ডুমুরিয়া উপজেলায় আ’লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ২ মার্চ আ’লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছ থেকে আমি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করি। খুলনায় ফিরে ৩ মার্চ গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করি। পরে মনোনয়নপত্র জমা দেবার শেষদিনে ৪ মার্চ রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। ৬ মার্চ যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়। তার একদিন পর আরেকজন দাবি করেন নৌকা প্রতীক তিনিও পেয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ায় শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘দোয়াত কলম’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যথারীতি নৌকা প্রতীক নিয়ে মোস্তফা সারোয়ার প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, এমনি মুহূর্তে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ্র ১৮ মার্চ সকালের ফ্লাইটে যশোরে এসে আইটি পার্কের অডিটরিয়ামে ডুমুরিয়ার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি-সেক্রেটারীদের ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি বলেন, যেকোন ভাবেই হোক নৌকা ঠেকাতে হবে। সেখানে আ’লীগ নেতৃবৃন্দ ও ইউপি চেয়ারম্যানরা অভিযোগ তুললেন; স্যার তিন মাস আগে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, এখন যদি বলি নৌকার প্রতীকে ভোট দেয়া যাবে না, তাহলে জনগণ আমাদের কি মনে করবে? তখন তাকে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, তুমি বেশি বুঝো না। আরও অনেকেই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাদেরকেও ধমকানো হয়। তিনি বলেন, যদি আমার কথা না শোনো তাহলে তোমরা কেউই ডুমুরিয়া আ’লীগ করতে পারবা না। সেখানে তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন, নৌকা প্রতীকের কেউ যেন মাঠে নামতে না পারে এবং নৌকা প্রতীকে কোন এজেন্ট যেন না হয়। সে নির্দেশ অনুযায়ী ওইদিন যশোর থেকে ফিরে সন্ধ্যায় চুকনগর বাজারের উপরে আমার দু’জন কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। একই দিনে শাহপুরে আরও তিনজন কর্মীকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এখানে ক্ষ্যান্ত না হয়ে তার অনুসারীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বলছেন এ নৌকা সে নৌকা না। আমি নৌকা পেলে এ নৌকা সে নৌকা না; আর উনি নৌকা পেলে কোন ভেদাভেদ নাই। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডুমরিয়ার সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৌকার পক্ষে প্রাণপণ কাজ করেছি। ডুমুরিয়ার সবচেয়ে বড় মিছিলটা আমিই করেছি। ওই আসনের ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট গুটুদিয়া ইউনিয়ন থেকে উনি পেয়েছেন নৌকা প্রতীকে। মাত্র তিন মাস পরে উপজেলা নির্বাচনে আমি নৌকা প্রতীক পাওয়ায় এই নৌকা কেন সেই নৌকা নয়? আমার কি এতো বড় অপরাধ হয়ে গেল? আমি তো আ’লীগের একজন সাধারণ কর্মী।
মোস্তফা সারোয়ার আরও বলেন, আরও তো প্রার্থী আছে, কারো কথা বলা হচ্ছে না; শুধু আমার কথা বলা হচ্ছে। নৌকা প্রতীক কোথাও এজেন্ট দিতে পারবে না। সে অনুযায়ী শোভনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুরঞ্জন বৈদ্য আমার বিরুদ্ধে নানাভাবে কুৎসিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। ডুমরিয়ার সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে। সুষ্ঠু সুন্দর শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে ডুমুরিয়াকে। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কারণে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় যদি এলাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে; সেটার জন্য দায়ী থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। কারণ আপনারা জানেন, ডুমুরিয়া সন্ত্রাসের জনপথ। চরমপন্থীদের অভয়ারণ্য। এই চরমপন্থীদের অভয়ারণ্য থেকে ডুমরিয়াকে যেখানে মুক্ত করা হয়েছে; আজকে সেই সব পুরনো চরমপন্থী যারা দীর্ঘ সময় ডুমুরিয়ায় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতো। আজকে তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে শোভনা, মাগুরখালী, বান্ধা, রংপুর এসব হিন্দু এলাকাগুলোতে বলছে-‘যদি নৌকার কেউ এজেন্ট হইস তাহলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে’। মানুষ কি নৌকা প্রতীকের এজেন্টও থাকতে পারবে না? 
নৌকা প্রার্থী বলেন, খর্ণিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নারায়ণ মল্লিক; তাকে খর্ণিয়া বাজারে প্রকাশে কিল-ঘুষি মারা হলো। বললো, ‘নৌকার পক্ষে ভোট করছিস? তোকে ইন্ডিয়ায় পাঠিয়ে দেবো’। আ’লীগের সভাপতি তার সভানেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিলো সেই নৌকার পক্ষে কি সে কাজ করবে না? হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা খর্ণিয়ার পরিতোষ মন্ডলকে বাজারে পিটিয়ে জখম করা হলো। বলা হলো-‘তুই যদি বাড়ির থেকে বের হইস তাহলে তোকে ঠ্যাঙ ভেঙে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবো’। আহত অবস্থায় পড়ে থাকলো; তাকে হাসপাতালেও নিতে বাধা দিয়েছে তারা। তারা ভোটটাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। সমগ্র উপজেলা থেকে তার সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টার মারতে গেলে আমার কর্মীদের পেটানো হচ্ছে। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতে এ ধরনের কাজগুলো করছে তারা। প্রিজাইডিং অফিসারের অধিকাংশই সংসদ সদস্যের অনুসারী; সব তার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। তার অনুসারী হওয়ায় তিনি প্রত্যেকের সাথে যোগাযোগ করে তিনি এক ধরনের গাইড লাইন দিচ্ছেন।
প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি আরও বললেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। তিনি প্রকাশ্যে ঘোড়া প্রতীকের হ্যান্ডবিল বিলি করছেন। তাতেও আপত্তি নেই আমার। কিন্তু অশ্লীল মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ঘোড়ার চাটিতে নাকি নৌকা তলিয়ে যাবে। পুরনো চরমপন্থীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার কর্মীদের রাত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘুম থেকে তুলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। কেন্দ্রে এজেন্ট হতে দেবে না। মাগুরখালী ইউনিয়নে আমার নির্বাচন প্রচারণা কমিটির আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুজিত মল্লি¬ককে গত রাতে বলা হয়েছে, ‘তোকে তো হাত-পা ভেঙে দেয়া হবে’। রিটার্নিং অফিসারদের যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষদের দায়িত্ব দেবার দাবি জানান তিনি। তা না হলে যেকোন উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্যে নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন, জেলা পরিষদের সদস্য সরদার আবু সালেহ, ডুমরিয়া সদরের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বুলু, আটলিয়ার চেয়ারম্যান প্রতাপ রায়, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, “মোস্তফা সরোয়ার প্রার্থী হওয়ায় ডুমুরিয়াবাসী আতঙ্কিত। তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার মামলা আছে। সে নিজেই এক সময় চরমপন্থী মৃণাল বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। আর আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তার কোনটাই সঠিক নয়। সে নিজের মনগড়া কথা বলছে।”
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫৭







ব্রেকিং নিউজ








পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫৭