খুলনা | সোমবার | ২২ এপ্রিল ২০১৯ | ৯ বৈশাখ ১৪২৬ |

পাসপোর্ট করতে হয়রানি রোধে আদালতের রায় অনুকরণীয়

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:১০:০০

পাসপোর্ট করতে হয়রানি রোধে আদালতের রায় অনুকরণীয়

পাসপোর্ট ও ভিসা করতে গেলে হয়রানির শেষ নেই। নতুন পাসপোর্ট তৈরি, নবায়ন, সংশোধন, ডেলিভারি, কাগজ যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ সর্বক্ষেত্রেই ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রাহকদের। আর দালাল ছাড়া যারাই পাসপোর্ট করতে আসে তাদেরই মূলত হয়রানিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে উৎকোচ ছাড়া কোন কাজই হয় না।
সাধারণভাবে পাসপোর্ট করতে ব্যাংক ফি লাগে ৩ হাজার ৪শ’ ৫০ টাকা। এর বাইরে পাসপোর্টে আর কোন খরচ নেই। কিন্তু পাসপোর্ট করতে সংশ্লিষ্ট অফিস আর পুলিশি ভোগান্তির কারণে এ পথ অনেকেই মাড়াতে চায়না। যে কারণে অধিকাংশ গ্রাহক দালাল চক্রের শরণাপন্ন হয়। আর এ সুযোগে পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতিবাজদের হাত করে দালালরা হাতিয়ে নিচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া পাসপোর্ট অফিসের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনৈতিক সুবিধা না দিলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয়। টাকা না দিলে আধা ঘণ্টার কাজ করতে লাগে সারাদিন। আবার টাকা দিলে কোনো সিরিয়াল ছাড়াই সরাসরি ছবি তুলে পাসপোর্টের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
সম্প্রতি ভেরিফিকেশন করতে এক বিচারপতির বাসায় গিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার এক এএসআই মোটা অংকের উৎকোচ চেয়ে ধরা খেয়েছেন। তাকে   সাময়িক বরখাস্তের পর বিচারিক আদালতে দোষী সাব্যাস্ত হওয়ায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এসআই সাদেকুল ইসলাম ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট এক বিচারপতির দুই মেয়ের পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের জন্য তার বাসায় যান। এ ব্যপারে বিচারপতির স্ত্রীর কাছে দুই হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেণ। বিচারপতির স্ত্রী আসামীকে চা-নাস্তা বাবদ বকশিস দিতে চাইলেও ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু পুলিশ সেটা না নিয়ে আবার ঘুষ দাবি করেণ। এ ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন বিচাপতির স্ত্রী এবং ঘটনাটি সত্য হওয়ায় তার সাজা দেয়া হয়েছে। 
মামলার রায়টি সময়োচিত বলে আমরা মনে করি। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমন বিচার পাওয়ার আশা করা দুরুহ। কারণ সাধারণ মানুষেরা প্রতিবাদ করতে বা বিচারের দাবিতে আদালতে যেতে ভয় পায়। গেলে সেটা হয়তো উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো বা বাদীকে সাজানো মামলায় জেল-জরিমানাসহ আরও অনেক হয়রানির ঘটনা ঘটতে পারে। যেটা জাহালমের মত অনেক নীরিহদের বেলায় লক্ষ করা গেছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমাদের জন্য অনুকরণীয়। আগামীতে এ ধারা অব্যহত রাখতে ভুক্তভোগীদের এগিয়ে এসে প্রতিবাদ জানাতে হবে। এতে অদূর ভবিষ্যতে কেউ ঘুষ নিয়ে চিন্তাও করবে না। ফলে হয়রানির হাত থেকে রেহাই মিলবে সাধারণ মানুষের।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







স্বাগত বাংলা নববর্ষ-১৪২৬

স্বাগত বাংলা নববর্ষ-১৪২৬

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:২৪







ব্রেকিং নিউজ








পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

পবিত্র শবেবরাত আজ রাতে

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫৭