খুলনা | বুধবার | ১৯ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ঝুঁকি নির্ধারণ ১৫১টি : নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি

অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও আবু নাসের হাসপাতাল

এন আই রকি | প্রকাশিত ১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৫:০৩:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজ ও শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালটি ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারি এই হাসপাতাল দু’টিতে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। যার ফলে অগ্নিদুর্ঘটনায় মারাত্মক আকারে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ প্রতিদিন ৫-৬ হাজার মানুষ হাসপাতাল দু’টিতে চিকিৎসা সেবার নিতে আসা যাওয়া করেন। অথচ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ শতকরা মাত্র ১০ ভাগ অগ্নিপ্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা রেখেছেন। 
চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি টিম হাসপাতাল দু’টি পর্যবেক্ষণ করে ১৫১টি ঝুঁকি বা দুর্বল দিক নির্ধারণ করেছেন। পাশপাশি অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ২২৮টি পরামর্শের মাধ্যমে ঝুঁকিগুলো সমাধান করা যাবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এদিকে খুব দ্রুত হাসপাতাল দু’টিকে ঝুঁকি প্রতিরোধ ও পরামর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য লিখিত ভাবে নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিপ্রতিরোধক অবস্থা খুবই নাজুক। কারণ ছয়তলা কানেকটিড কমপ্লে¬ক্স বিল্ডিংয়ে মাত্র দু’টি ডিসিসি এক্সটিং গুইসার রয়েছে। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১ হাজার বর্গ ফুটের জন্য ১টি করে ডিসিসি এক্সটিং গুইসার থাকার কথা। হাসপাতালটিতে ১ হাজার ১শ’ ভর্তি রোগী, স্টাফ, নার্স, ডাক্তারসহ অন্যান্য প্রায় ৪শ’সহ প্রতিদিন আউটডোরে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নেয়। গত ২৪ ফেব্র“য়ারি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিনিধি টিমটি ১ম তলায় ১৪টিসহ ২য় তলা থেকে ৬ষ্ঠতলা পর্যন্ত সর্বমোট ৭৯টি ঝুঁকি নির্ধারণ করেন। 
এদিকে ২৩ ফেব্র“য়ারি শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে পরিদর্শনেও ভয়াবহ চিত্র দেখতে পেয়েছে প্রতিনিধি টিম। হাসপাতালের বেইজমেন্টে গাড়ি যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা নেই। পরিত্যক্ত প্ল-াস্টিকের ক্যানগুলো স্তুপে পরিণত হয়েছে। ডিসিসি এক্সটিং গুইসার  রয়েছে মাত্র ২০টি যা তুলনামূলক অনেক কম। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন সেবা নিতে আসেন পনেরশ’ থেকে দুই হাজার রোগী। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি দলটি বেইজমেন্টে ২টি ঝুঁকিসহ, ১ম তলা থেকে ৫তলা পর্যন্ত সর্বমোট ৭২টি ঝুঁকি নির্ধারণ করেছেন।  
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ সময়ের খবরকে বলেন, সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের পর বিষয়টি আমলে আনা হয়েছে। এর আগে এভাবে কখনও ভাবা হয়নি। অগ্নিপ্রতিরোধক বিষয়টি নিয়ে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকান্ড মোকাবেলায় যে সকল সরঞ্জাম প্রয়োজন এবং এর পাশাপাশি যা করণীয় তার তালিকা করা হচ্ছে। এরপর সরকারের নিকট থেকে ফান্ডের জন্য আবেদন করা হবে। 
শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালটি পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী সময়ের খবরকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অগ্নিপ্রতিরোধক ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিডাব্লি-উডিকে লিখিত আকারে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া বিল্ডিং ডিজাইনের সময় অনেক কিছু বাদ পড়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস আমাদেরকে জানালে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, তার হাসপাতালে ৬৫টি ডিসিসি এক্সটিং গুইসার রয়েছে।
খুলনার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম সময়ের খবরকে বলেন, হাসপাতাল দু’টিতে ১০ ভাগও অগ্নিপ্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই। গত মাসে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতাল দু’টি পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন যা অবস্থা মাঝারি বা বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলে বড় আকারে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ঝুঁকি প্রতিরোধের জন্য কয়েকটি পরামর্শ নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে।
উল্লে¬খযোগ্য ঝুঁকিগুলো হচ্ছে : পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিং গুইসার না থাকা, জেনারেটর রুম ও সুইচ গিয়ার রুমের দরজা ফায়ার রেটেড নেই, পর্যাপ্ত ওয়াটার রিজার্ভার নেই, ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল নেই, হোজ রিল ও হাইড্রেন ব্যবস্থা নেই, ডার্ক লাইনগুলো পরিত্যক্ত ও কোন প্রটেকশন না থাকা, কোন ধরনের ডিটেকশন সিস্টেম নেই, ম্যানুয়াল কল সিস্টেম, ফায়ার এলার্ম, বিকল্প সিঁড়ির ব্যবস্থা, ফায়ার লিফট, ষ্ট্রোব লাইট/এক্সিট সাইন, বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা ও সেফটি লবি নেই। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







কেসিসিতে আগুনে আতঙ্ক

কেসিসিতে আগুনে আতঙ্ক

১৯ জুন, ২০১৯ ০১:২৩







ব্রেকিং নিউজ







কেসিসিতে আগুনে আতঙ্ক

কেসিসিতে আগুনে আতঙ্ক

১৯ জুন, ২০১৯ ০১:২৩