খুলনা | বুধবার | ১৯ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ভৈরব নদের তীরে নির্মিত বিনোদন স্পট এখন সার ও বালুর দখলে : নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:৩০:০০

বিভিন্ন স্থানে ঘাট স্থাপন করে কার্গোজাহাজ থেকে নামানো হচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার। আর তা উঠানো হচ্ছে সড়কে পার্কিং করা ট্রাকে। ওয়াকওয়ে ছাড়াও যাতায়াতের একমাত্র সড়কের পাশ জুড়ে উঁচু করে রাখা হয়েছে সার ও বালুর বস্তা। এমননি বেহাল অবস্থা নগরীর রুজভেল্ট থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত ভৈরব নদের তীরে শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্নœ নির্মিত বিনোদন স্পটের। ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। তবে কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগির বিনোদনের পরিবেশ ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নগরীর রুজভেল্ট থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত ভৈরব নদের তীরে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক, লাইটিং, ওয়াকওয়ে ও কিছু সিটিং এ্যারেঞ্জমেন্ট নির্মাণ করা হয়। যার ফলে যানজট নিরসন ও নগরবাসীর বিনোদনের চাহিদা মেটাতে আধুনিকমানের সড়কসহ ব্যতিক্রমধর্মী বিনোদন ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কিছুদিন মধ্যেই সড়কের একটি পাশের কিছু অংশ নদের মধ্যে ধসে পড়ে। ওয়াকওয়ের অনেক স্থানে ইউনি ব্লক দেবে যায়। ফলে পূর্বের প্রকল্প সামাল দিতে এবং ওই সড়কটি আরো বেশি টেকসই, দৃষ্টিনন্দন, আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং বিনোদনের ক্ষেত্র বাড়াতে নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কেসিসি। ওই প্রকল্পের আওতায় প্রটেকটিং ওয়াল, ফুটপথ ব্লক দিয়ে আটকানো, ছাতা, ৩টি সিটিং গ্যালারী, লাইটিং ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। ভাঙনরোধে নদের তীরে পূর্বে থাকা ফুটপথ রক্ষায় নির্মাণ করা হয়  প্রটেকটিং ওয়াল। এছাড়া গাছপালা লাগানোসহ পাবলিক টয়লেট ও বিউটিফিকেশনের কাজও করা হয়। ফলে বর্তমান ওই স্থানটি ঘিরে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীর আগমণ ঘটছে। বেশির ভাগ দর্শনার্থীর আসছে পরিবার পরিজন নিয়ে। এছাড়া পার্কটি ঘিরে গড়ে দোকান-পাটসহ নানা বাসস্থান। এতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি পার্কের মাঝে মাঝে ঘাট স্থাপন করে জাহাজ থেকে নামানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার কৃষি সার, ওই সার সড়কের উপর ট্রাক রেখে উঠানো হচ্ছে। ওয়াকওয়ের উপর রাখা হয়েছে সার ও বালুর বস্তা, এছাড়া যাতায়াতের একমাত্র সড়কের পাশ জুড়ে উঁচু করে রাখা হয়েছে বালু। যার ফলে ওই পার্কের বিনোদনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
আগত দর্শনার্থীরা জানান, বিনোদন স্পটের সামনে নদীতে প্রতিদিন জাহাজ নোঙর ও সড়কে ট্রাক রেখে শত শত শ্রমিকরা সার উঠা-নামার কাজ করছে। পার্ক সংলগ্ন নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বিকট শব্দে মাথা ব্যথা করে। এছাড়া বাতাসে সড়কে রাখা বালু এসে শরীরে লাগছে। এতে বিনোদনের ক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে।  
কর্পোরেশনের বৈষয়িক কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন সময়ের খবরকে বলেন, এক সময় স্থানটি ঘিরে নানা অপরাধ সংঘটিত হতো। বর্তমানে কর্পোরেশনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় মানুষের বিনোদনের অন্যতম ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। শিগগিরই স্থানটিতে বিনোদনের পরিবেশ ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ