খুলনা | বুধবার | ১৯ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

কোচিং সেন্টারের প্রচার সামগ্রীতে ভরপুর নগরীর অলি-গলি

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:৫৫:০০

“কোচিং সেন্টারের প্রচার সামগ্রীতে ছেয়ে গেছে খুলনা মহানগরীর প্রতিটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও দেয়াল। সুন্দর শহর গড়তে অবিলম্বে এসব প্রচার সামগ্রী অপসারণ করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” নগরীর ২৮নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি সাবেক সেনা সদস্য ইকবাল হোসেন মোল্লা গতকাল  শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ফেসবুক ওয়ালে স্বচিত্র স্ট্যাটাসে এমনি অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। তার পোস্ট করা ছবিটাতে অসংখ্য কোচিং বা ব্যাচের প্যানা, পোস্টার ও দেয়াল লিখন নগরীর প্রকৃত সৌন্দর্য্য ম্লান হতে দেখা গেছে। স্কুল-কলেজ এলাকা, শহরের প্রধান সড়ক ছাড়াও প্রত্যেকটি অলি-গলি ছেয়ে আছে কোচিংয়ের প্রচার সামগ্রী। যাতে শুধু সৌন্দর্য্যই ম্লান হচ্ছে না আশঙ্কা রয়েছে দুর্ঘটনারও।
দেখা গেছে, কোচিং সেন্টার বা ব্যাচের এসব প্রচার সামগ্রীতে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীর সাফল্য গাঁথা বাক্যবানে। সরকারি স্কুলের ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলোই এ ধরনের প্রতারণায় এগিয়ে। শহরের এমন কোন বৈদ্যুতিক খুঁটি ও দেয়াল পাওয়া দুষ্কর, যাতে কোন কোচিং বা ব্যাচের বিজ্ঞাপন সামগ্রী নেই। একবার এসব প্রচার সামগ্রী টানালে বা শুরু করলে নির্ধারিত সে প্রোগ্রাম শেষ হলেও নিজ উদ্যোগে নামানো হয় না কোনদিন। এতে সৌন্দর্য্য ম্লান, রাস্তায় ও ড্রেনে পড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি দুর্ঘটনারও শঙ্কা থেকে যায়। তবে মাঝে-মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এসব জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়।
কেসিসি’র সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামান বলেন, “সিটি কর্পোরেশন কোন কোচিং সেন্টারের অনুমতি দেয়নি, তাদের প্রচারেরও কোন অনুমোদন নেই। অভিযানে সামনে পড়লে প্যানা-পোস্টার নিয়মিতই অপসারণ করা হয়। নির্বাচনের পর প্যানা-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে শিগগিরই প্যানা-পোস্টার অপসারণে অভিযান চালানো হবে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ্জামান বলেন, প্যানা ও ফেস্টুন দিয়ে খুলনা শহরের নিজস্ব সত্ত্বা ঢেকে নিজের বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার করাটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩০০ টাকার প্যানা বা দুই টাকার পোস্টারে ঢাকা পড়ে যায় কোটি টাকার সৌন্দর্য। একবার টানালে এসব প্যানা-পোস্টার আর সরে না। সিটি কর্পোরেশনের উচিত এসব আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি সে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ফাইন (জরিমানা) করা; তাতে কর্পোরেশনেরও আয় বাড়বে, জনভোগান্তি লাঘব হবে।”
এ ব্যাপারে খুলনা কোচিং পরিচালক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম এ জলিল বলেন, “স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সব ধরনের কোচিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এজন্য আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সে ভয় থেকেই যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ভীড়ে একাডেমিক কোচিং বা ব্যাচের প্রচার খুব কম। এজন্য স্কুল পর্যায়ের একাডেমিক কোচিংয়ের প্রচার সামগ্রী নেই বললেই চলে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের দু’মুটো হাতের জন্য কোচিং যেমন প্রয়োজনীয় তেমনি স্বল্প আয়ের মানুষের সোনামনিদের অল্প টাকায় শিক্ষা সহায়কও বটে।”


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ