খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১৩ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পেশাজীবীদের ধারণা ‘রাজনৈতিক দুরদর্শিতার অভাব’

খালেদা মুক্তি আন্দোলনে ব্যর্থতায় শীর্ষ নেতাদের দুষছে বিএনপি’র তৃণমূল 

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:০৫:০০

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের এমনি বিশ্বাস। একই সাথে তাঁর মুক্তি আন্দোলন বিফলের পেছনে দলটির শীর্ষ নেতাদের দায়ী করেছে মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী কর্মীরা। আবার, রাজনৈতিক দমন-নিপীড়ন রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে না পারাকে রাজনৈতিক দুরদর্শিতার অভাব হিসেবেই দেখছেন বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর কারান্তরীণ জীবনের বর্ষপূর্তিতে এমন অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন তারা।
সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা আছে। জিয়া অরফানেজ ট্র্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত। দলের বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির অর্থদণ্ডসহ ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়। গেল বছর ৮ ফেব্র“য়ারি এ রায় ঘোষণার পরই খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়। ২০১৫ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি খুলনার ফুলতলায় বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা করেন এসআই খায়রুল বাসার বাদী হয়ে মামলা করেন। মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্টের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন নড়াইলের আদালত। নড়াইলের নড়াগাতী থানাধীন চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল সদর আমলি আদালতে এ মামলা করেন।
কারাবন্দীর বর্ষপূর্তিতে দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা দুষছেন কেন্দ্রের নেতাদের। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলাগুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় নেতারা শক্ত কর্মসূচি দিতে পারেননি। রাজধানীতে অবস্থান নিতে পারেনি দলটি। রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রতিপক্ষের তুলনায় বিএনপি নিতান্তই শিশু।
সদ্য কারামুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আজিজুল হাসান দুলু বললেন, “জীবনে বহুবার রাজনৈতিক কারণেই জেল খেটেছি। কোন কষ্ট মনে হয়নি, কারণ সত্যের পক্ষেই ছিলাম, আছি। বুধবার কারাফটক থেকে যখন বের হই, তখন সঙ্গীদের বলছিলাম ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে বের হলাম। বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ মানেই দেশের গণতন্ত্র কারান্তরীণ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা সম্ভব। এখন দেশ প্রেমিকেরাই বিএনপি করে। অতএব আন্দোলন সফল হবেই।”
ডক্টরস্ এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ খুলনার সদস্য সচিব অধ্যাপক ডাঃ সেখ মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক দমন-নিপীড়ন রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে রাজনৈতিক দুরদর্শিতার অভাব রয়েছে দলটির। তৃণমূলের কর্মীরা জীবনবাজী রেখে শক্ত আন্দোলনের প্রত্যাশায় শীর্ষ নেতাদের মুখের দিকে তাকিয়ে হতাশ হয়েছেন। অবশ্যই ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছে বিএনপি। এখনো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা বললেন, “বিএনপি’র কোন নেতা বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন না যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন। যদি প্রত্যেকেই সমন্বিত ভাবে দায়িত্ব পালন করতাম; তাহলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে আজ কারাগারে থাকতে হতো না। আমি তো মনে করি যার যত বড় পদ; তিনি দায়িত্ব পালনে ততো বড় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। সাধারণ নেতা-কর্মীরা শত জেল-জুলুম-হুলিয়া ভুলে এখনো ঐক্যবদ্ধভাবে দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে জীবনবাজী রাখতে প্রস্তুত; কিন্তু সে রকম কর্মসূচি কই”।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, “ক্ষমতায় টিকে থাকতে ফ্যাসিষ্টরা সরকার, রাষ্ট্র, আইন-আদালত ও প্রজাতন্ত্রের সর্বপর্যায়ের কর্মচারীকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করেছে। জিয়া পরিবারের প্রতি এ সরকারের প্রতিহিংসা ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফুলতলায় বাসে অগ্নিসংযোগের একটি সাজানো-পাতানো ঘটনায় আমার সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও আসামি করা হয়েছে। এর চেয়ে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র আর কি হতে পারে? তবে বিএনপি নেতা-কর্মীরা হতাশ নই; সব ভুলে আবার কঠোরতর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ্।”
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ছোট-খাটো সাংগঠনিক ভুল-ত্র“টি সব দলেরই হতে পারে। তবে বিএনপি অন্য সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের মতো প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। ভোট ডাকাতি, লুটপাটের রাজনীতি বিএনপি করে না। বিএনপি রাজনীতি করে দেশের মানুষের জন্য। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌম্য রক্ষায় অনড় থাকায় আজ কারারুদ্ধ। কোন ব্যক্তিগত কারণে নয়; জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তাই ফ্যাসিবাদীদের আতঙ্কের মুল কারণ। বিএনপি নেতা-কর্মীরা হতাশ নয়; আলো আসবেই, আসতেই হবে।’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


পরিত্যক্ত ২০ পিলার ‘গলার কাঁটা’

পরিত্যক্ত ২০ পিলার ‘গলার কাঁটা’

০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:২০












ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২