খুলনা | বুধবার | ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

গ্রন্থাগার সভ্যতা ও সংস্কৃতির ফসল

কাজী ফেরদাউস | প্রকাশিত ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

সমাজের প্রাণকেন্দ্র মানুষ। আর মানুষের প্রাণকেন্দ্র হলো শিক্ষা ও সংস্কৃতি। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ফসল হলো গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগার সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু। তাই বিশ্ববিখ্যাত তথ্যবিজ্ঞানী Jesse H. Shera e‡j‡Qb Library is a product of cultural maturation. It came into being when societies ceased to be nomadic and became urbanized and when graphic records became important to effective operation of organized human relationship. অর্থাৎ গ্রন্থাগার সংস্কৃতির ফসল। মানুষ যখন যাযাবর জীবন থেকে সমাজবদ্ধ হয়ে সুসম্পর্কিতভাবে একত্রে বসবাস করে নগরমুখী হতে শুরু করলো ঠিক তখনই চিত্রিত লিপিসমূহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত হতে শুরু করে এবং এরই ফলশ্র“তিতে সমাজে গ্রন্থাগার অ¯িÍত্ব লাভ করে। তাই সমাজে গ্রন্থাগার সাংস্কৃতিক অগ্রগতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তিরূপে চিহ্নিত। ক্সদনন্দিন আচার-আচরণ, মতের বা ভাবের মিল, জ্ঞান, বিশ্বাস, নীতিমালা, শিল্পকলা, আইন, প্রথা এবং অন্যান্য যে সকল দক্ষতা বা অভ্যাস সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষ নিজে নিজে অর্জন করতে থাকে তার সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি। সংস্কৃতি সমাজের মানুষকে সুন্দর জীবন-যাপনের নিশ্চয়তা বিধান করে। আর গ্রন্থাগার সমাজে সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, সমাজে মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম, সংস্কৃতি সামাজিক সৃষ্টি, সংস্কৃতি সমাজ থেকে অর্জিত আচার-আচরণ। সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মানুষের ব্যক্তিগত ও যৌথ μিয়াকান্ডের ফলেই সংস্কৃতির উদ্ভব হয়। তদ্রুপ গ্রন্থাগারও সামাজিক সৃষ্টি। মানুষ নিজের প্রয়োজনে নিজেদের রচনা একত্রিত করে সুরক্ষিত ও সুসংগঠিত করেই গ্রন্থাগার সৃষ্টি করেছে। মূলতঃ গ্রন্থাগার হচ্ছে মানুষের শিক্ষা সংস্কৃতি ও সভ্যতার নিদর্শন। মানুষ সভ্য হওয়ার পর থেকে তাদের আসল শিক্ষা শুরু হয়। শিক্ষার সাথে সাথেই তাদের দরকার হলো গ্রন্থের এবং গ্রন্থকে সংরক্ষণের জন্য গ্রন্থাগার। মানুষের মধ্যে সভ্যতার শুরুতে যারা অপেক্ষাকৃত বিবেকবান বা জ্ঞানী মানুষ ছিলেন তারা তাদের পরবর্তী বংশধরের জন্য সে জ্ঞানটুকু রেখে যেতে চাইল, প্রচলন হলো লেখার। যদিও তখন লেখা বলতে কোনো প্রতীককেই বোঝানো হতো। সেই চিত্রায়িত লেখাগুলো পরবর্তী বংশধরগণ যাতে অতি সহজে খুঁজে পায় সেই জন্য তারা একটি নির্দিষ্ট তথ্য বা জ্ঞানকে সংরক্ষণ করে রাখতো। এ থেকে পরবর্তীকালে গড়ে উঠে গ্রন্থাগার। এভাবে মানুষ ধীরে ধীরে তাদের অর্জিত জ্ঞানের তথ্যভান্ডারকে বিশাল গঠনমূলক করে তোলে যা তাকে অধিক সংস্কৃতিবান হতে সহায়তা করে। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানুষ তার পূর্বপুরুষের কৃতকর্মের হিসাব সম্পর্কে অবগত হয়ে তার ভালো দিকগুলো গ্রহণ করে এবং নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে তার সংযোগ করে নিজস্ব সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধি করে। গ্রন্থাগার মানুষকে তার সামাজিক মূল্যবোধ বাড়াতে ও তাকে সভ্যরূপে স্বীকৃতি লাভে সহায়তা করে। গ্রন্থাগার আমাদের অতীত ও বর্তমানকে এক শৃঙ্খলে আবদ্ধ করতে সাহায্য করে। প্রতিটি দেশের সংস্কৃতির বর্তমান অবস্থা, অতীত কর্মকান্ডের ফল আমরা গ্রন্থাগারের মাধ্যমে পেয়ে থাকি। সংস্কৃতির μমবিকাশের সাথে গ্রন্থাগার ওতপ্রোতভাবে জড়িত কারণ এই গ্রন্থাগার সংস্কৃতির ফসল এবং রক্ষণাগার। গ্রন্থাগার বিভিনড়ব সংস্কৃতির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। একটি সমাজের সংস্কৃতি ও সঠিক উপকরণাদি সংরক্ষণ করে। গ্রন্থাগার অপসংস্কৃতির হাত থেকে রক্ষা করে। তাই গ্রন্থাগার সভ্য সমাজে নিঃসন্দেহে সংস্কৃতির μমবিকাশের উত্তম ধারক ও বাহক। গ্রন্থাগার হচ্ছে সাংস্কৃতিক উনড়বতির চাবিকাঠি। গ্রন্থাগরে সংরক্ষিত থাকে বিভিনড়ব সময়ের বা বিভিনড়ব যুগের সৃষ্ট সাহিত্য ও নানা ধরনের পত্র-পত্রিকা ও কথিকা। পাঠক গ্রন্থাগারে এসে পত্র-পত্রিকা পাঠ করে এবং সমাজের বিভিনড়ব দিকগুলোর সাথে পরিচিত হয়। কারণ লেখকরা তাদের লেখার মাধ্যমেই প্রকাশ করে সমাজের বিভিনড়ব রূপরেখা, বিভিনড়ব সমস্যা ও তার সমাধান। একটি দেশের সাংস্কৃতিক উনড়বতির উপরই নির্ভর করে একটি দেশের গ্রন্থাগারের উনড়বতি। আর গ্রন্থাগারের উনড়বতি মানেই হচ্ছে সমাজের সামাজিক কাঠামোর পরিপূর্ণ উনড়বতি। যে দেশে গ্রন্থাগারের কদর যত বেশী সে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র ততো উনড়বত। উদাহরণ হিসেবে আমরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া প্রভৃতি উনড়বত দেশের কথা বলতে পারি। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশেও বিশ্বের উনড়বত দেশের মতো গ্রন্থাগারের ক্ষেত্রে যুগোপযোগী নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে বিধায় এদেশের গ্রন্থাগারগুলিরও প্রভূত উনড়বয়ন সাধিত হয়েছে এবং এই উনড়বতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। উপরোক্ত আলোচনার আলোকে আমরা এটা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে, গ্রন্থাগার সংস্কৃতির সূতিকাগার হিসেবে সংস্কৃতি ও সভ্যতার উনড়বয়নে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
(লেখক : ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়)

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


ভারত ভ্রমণে নয় দিন

ভারত ভ্রমণে নয় দিন

০৮ মে, ২০১৯ ০০:৫৯

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:১৬





বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

১৫ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫০






ব্রেকিং নিউজ