খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১৩ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পুনর্গঠনের পর ফের আন্দোলন-সংগ্রামে নামতে মতামত তৃণমূল বিএনপি’র

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:৩০:০০

বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের পর ফের আন্দোলন-সংগ্রামে নামতে মতামত দিয়েছেন দলের খুলনা অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা। সম্মেলনের মধ্যদিয়ে ত্যাগী পরীক্ষিত ও মাঠের নেতা-কর্মীর হাতে নেতৃত্ব দিতে চাইছেন তারা। শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ : অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ বিভাগে ধানের শীষের প্রার্থী ও দল জেলার সভাপতি/সম্পাদকরা এসব মতামত তুলে ধরেন। দলের অভ্যন্তরে প্রতিহিংসা পরিহারের আহ্বান জানানো হয়। নির্যাতিত তিনজন বিএনপি কর্মীসহ বৈঠকে অন্তত ত্রিশজন নেতার বক্তব্যের মৌলিক বাক্য ছিল-সংগঠন পুনর্গঠন করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন।
বৈঠকে কয়েকজন নেতা গত নির্বাচনে দলীয় কতিপয় নেতাদের নিষ্ক্রীয়তার সমালোচনা করেন। পদ-পদবীধারী নেতাদের তুলনায় তৃণমূল কর্মীরা সাহসী ভূমিকা রাখছে উল্লেখ্য করে তারা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলনে যেকোন কর্মসূচির জন্য খুলনা বিভাগের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত। তবে শুধু তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মাঠে নামলে আন্দোলন সফল হবে না, রাজধানী কেন্দ্রীক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। এছাড়া তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে সাংগঠনিক সফরের আহ্বান জানান বক্তারা।
খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুর্নগঠন করতে হবে। দলের মধ্যকার নেতাদের দূরত্ব থাকলে কোন আন্দোলন সফল হতে পারে না।
আত্মসমালোচনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। সংগঠনের ভঙ্গুর দশায় তিনি হতাশ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ স্থানেই বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের কোন কমিটি নেই। জেলা, থানা, ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা ও কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান তিনি। উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া কমিটি চলবেনা বলেও ঘোষণা দেন তিনি।”
স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. ওবায়দুল ইসলাম, যশোরের মফিকুল হাসান তৃপ্তি ও বাগেরহাটের শেখ মুজিবর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাশে থাকা, তৃণমূলের কর্মীদের মূল্যায়ন, পরীক্ষিত কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিএনপিকে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ভুলত্র“টিগুলো শুধরে নিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান শাসুজ্জামান দুদু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন, ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে বিএনপিকে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ভোট ডাকাতির সরকারের অচলায়তন ভাঙ্গতে তৃণমূল থেকে বিএনপি’র কমিটি পুনর্গঠন করার পক্ষে মত দেন তিনি।
চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেন, রাজনীতিতে উত্থান পতন থাকবে। এটা মেনে নিয়েই ঐক্যবদ্ধ দল ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
সকলের বক্তৃতার পর বৈঠকের প্রধান অতিথি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান তার বক্তৃতায় বলেন, সিটি নির্বাচনের সময় এসে দেখেছিলাম খুলনার সাংগঠনিক অবস্থা ভালো। তারপরও নির্বাচনে ফলাফল ঘরে তুলতে পারিনি আমরা। ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারিনি। এখনি সময় সকলে মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে সুসংহত করা। ব্যক্তি স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে দলের স্বার্থেই ত্যাগী পরীক্ষিত যোগ্যদের জায়গা করে দিতে হবে। আমি হতাশ নই। ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামবে জনগণ আমাদেরকেই রায় দেয়, ভবিষ্যতেও জনগণ বিএনপি’র সাথেই থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে সময় স্বল্পতার কারণে সাংগঠনিক বক্তৃতা করেননি তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



পরিত্যক্ত ২০ পিলার ‘গলার কাঁটা’

পরিত্যক্ত ২০ পিলার ‘গলার কাঁটা’

০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:২০











ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২