খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৩ মে ২০১৯ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় এক বছরে ৭০টি ঘটনা

প্রেমের সম্পর্ক-বিয়ের প্রলোভন ও পারিবারিক কারণে বাড়ছে ধর্ষণ

এন আই রকি | প্রকাশিত ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:৩০:০০

মুঠোফোন বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক অতঃপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বা পারিবারিক কারণেও বাড়ছে ধর্ষণ। মূলত প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের প্রলোভন ও পারিবারিক কারণেই সম্প্রতি খুলনায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। এদিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় অবস্থিত বিভাগের একমাত্র ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেও দীর্ঘায়িত হচ্ছে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা। এমন চিত্র ফুটে উঠেছে ৫/৬ বছরে। সম্প্রতি নগরীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গণধর্ষণের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে নারী-কিশোরীর নিরাপত্তা ও ধর্ষণ প্রতিরোধের বিষয়টি। তবে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্কতাই এ ধরণের সামাজিকব্যাধি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে সুধীজনদের দাবি।  
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশের সূত্রে জানা যায় ২০১৮ সালে ৭০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যা গড়ে মাসে প্রায় ৬টির কাছাকাছি। এর মধ্যে মহানগরীতে ৩৮ এবং জেলায় ৩২টি। এদিকে বিভাগের একমাত্র ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সেবাগ্রহীতার পরিমাণও বাড়ছে। ২০১৩ সালে নারী ও শিশু ভিকটিম সহযোগীতা নিয়েছেন ৪ জন, ২০১৪ সালে ২০, ২০১৫ সালে ৩৯, ২০১৬ সালে ৭০, ২০১৭ সালে ৫৭ এবং ২০১৮ সালে ৬০ জন সেবা নিয়েছেন।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্ব থাকা ইন্সপেক্টর ফারজানা ববি বলেন, সেবার মান ভাল। বিভাগীয় সেবা কেন্দ্র হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে ভিকটিমরা আসছেন। ২১ জনের একটি টিম সার্বক্ষণিক ভিকটিমদের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন সরকারি চাকুরিজীবীর স্ত্রীরা এখানে সেবা নিতে এসেছে। এদের মধ্যে থেকে যৌতুক, নারী নির্যাতনের পরিমাণ বেশি।
বিষয়টি সম্পর্কে খুলনা জেলা পরিষদের সদস্য জেসমিন পারভীন জলি জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর পর বিয়ের প্রলোভনে পড়েই বেশির ভাগ নারী ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছেন কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধর্ষিতারা মেডিকেল না করায় দোষীরা শাস্তি পাচ্ছে না। তাই ধর্ষণের বিষয়ে সমাজে বেশি করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার প্রয়োজন।
কেএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, নগরীতে গত বছরে ৩৮টি ধর্ষণ ও ১৯টি খুন হয়েছে। যা তুলনামূলক অনেক কম। নগরীর বেশির ভাগ ধর্ষণের পিছনে পারিবারিক ও বিয়ের প্রলোভনের বিষয়টি তদন্তে এসেছে।
জেলার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, সাধারণ ৩টি কারণে ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে নারী ও কিশোরীরা। প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের প্রলোভন ও পারিবারিক কারণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রেমে রাজি না হওয়ায় স্কুলে পড়তে যাওয়া কিশোরীদের জোরপূর্বক ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে।
এদিকে কেএমপি ও জেলা পুলিশ দাবি করেছেন, বেশিরভাগ ধর্ষণের কারণগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ









রোজার ছাড় যাদের জন্য

রোজার ছাড় যাদের জন্য

২৩ মে, ২০১৯ ০১:০০