খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১৩ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বেশি করে আলু খান

মোঃ আবদুর রহমান | প্রকাশিত ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

আলু একটি উপাদেয় ও পুষ্টিকর খাদ্য। দেশের অপামর জনসাধারণের কছে আলু সর্বাধিক ও নিত্য ব্যবহৃত একটি সবজি হিসেবে সমাদৃত। খাদ্য হিসেবে আলু কেবল সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিকরও বটে। আমাদের প্রধান খাদ্য ভাত বা রুটিতে পুষ্টির যেসব উপাদান রয়েছে আলুতেও তা আছে। এমনকি কোন কোন দিক থেকে আলুতে রয়েছে বাড়তি পুষ্টি উপাদান।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, খাদ্য উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে রয়েছে ৩.০ গ্রাম প্রেটিন, ১৯.১ গ্রাম শ্বেতসার, ২.১ গ্রাম আঁশ, ০.১ গ্রাম ফ্যাট বা চর্বি, ০.৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ০.৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্লেবিন), ০.৫ মিলিগ্রাম বি-৫ (নায়াসিন), অল্প পরিমাণ ক্যারোটিন (ভিটামিন ‘এ’) ও ১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে ১১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৭ মিলিগ্রাম লৌহ ও ৮৯ কিলোক্যালোরী খাদ্যশক্তি থাকে। সুস্বাস্থ্যের জন্য এসব পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।  
একই পরিমাণ সিদ্ধ চালে তথা ভাতে এবং সিদ্ধ আলুতে প্রায় একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, প্রোটিন বা আমিষ এবং ক্যালরী বা খাদ্যবল থাকে। আলুর প্রোটিনের জৈবিকমান চাল বা গমের প্রোটিন অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর। সিদ্ধ আলুতে মোট খনিজ পদার্থ থাকে সমপরিমাণ ভাতের চেয়ে অনেক বেশি। রুটি অপেক্ষাও বেশি। ভিটামিন ‘সি’ ভাত বা রুটিতে নেই বললেই চলে, অথচ অলুতে আছে। খোসাসহ আলু সিদ্ধ করে খাওয়া হলে ভিটামিন ‘সি’ অপচয় কম হয়। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মতো ভিটামিন ‘সি’ আমাদের শরীরে জমা থাকে না। প্রসাব ও ঘামের সাথে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। তাই শরীরের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আমাদের প্রতিদিনই ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা উচিত। যারা প্রধান খাদ্য হিসেবে অন্ততঃ একবেলাও আলু খায়, তারা আলু থেকে তাদের দৈনিক দেহের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভিটামিন ‘সি’ পেয়ে যান। 
নায়াসিন নামক ‘বি’ ভিটামিনও সিদ্ধ আলুতে সমপরিমাণ ভাত অপেক্ষা অনেক বেশি থাকে।  ভাতে ভিটামিন ‘এ’ মোটেই নেই, অথচ আলুতে তাও কিছু পরিমাণ আছে। আলুতে ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ চাল অপেক্ষা কম এবং গম অপেক্ষাও অনেক কম। সুতারাং যারা মোটা হতে বা ভূঁড়ি বাড়াতে চান না, তাদের জন্য আলু একটি বাড়তি গুণের অধিকারী। চাল ও গম অপেক্ষা আলুতে বেশি পরিমাণে আঁশ জাতীয় পদার্থ থাকে। আঁশ জাতীয় পদার্থ হজম, পরিপাক ও বিপাক প্রক্রিয়ায়  সাহায্য করে এবং কোষ্টকাঠিন্য দূর করে দেহকে সুস্থ ও সতেজ রাখে। উল্লেখ্য, আলুতে যে আঁশ আছে, তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। 
আলু যে কোন পদ্ধতিতে এবং সহজেই রান্না করে খাওয়া যায়। রান্না করা আলুর প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ লবণ খোসার ঠিক নিচে থাকে বলে, খোসাসহ সিদ্ধ আলু খোসা ছাড়ানো রান্না করা আলুর চেয়ে পুষ্টিমানের দিক থেকে অনেক উন্নত। যাদের ভাত ও রুটি অপছন্দ, কিন্তু দেহে প্রচুর শর্করা প্রয়োজন, তাদের জন্য আলু উপযুক্ত পথ্য। কারণ, আলু সারাদিনের খাবারের সম্পূর্ণ অথবা আংশিক অভাব পূরণ করতে পারে। আলু সহজপাচ্য বলে খুব সহজেই আলুর তৈরি খাবার হজম হয়। অন্ত্রের জারক রসের সাহায্যে আলু হজম হয়। সঠিকভাবে সিদ্ধ হলে আলুর শর্করা যেমন- মলটোজ ও ডেক্সট্রোজ ভালভাবেই হজম হয়। মোটকথা, আলু এমনই এক সহজ পাচ্য ও উপকারী খাবার যে ছয় মাসের শিশু যেমন আলু হজম করতে পারে, তেমনি বয়স্ক আলসারের রোগীও নির্দ্ধিধায় আলু খেতে পারেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সবার জন্যই আলু একটি প্রিয় খাদ্য হতে পারে। 
ব্যবহার বৈচিত্র্যে আলু তুলনাহীন। বহুবিধ উপায়ে এটি প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করা যায়। আমরা সিদ্ধ আলু, আলু ভাত, আলু রুটি, আলু খিঁচুড়ি খেতে পারি। এছাড়া আলু দিয়ে চাপাতি, চপ, চটপটি, লুচি, সিংগাড়া, দম, আলু সবজি, আলু পায়েস, হালুয়া ইত্যাদি নানাবিধ উপাদেয় খাদ্য তৈরি করা যায়। আলু সারা বছরই পাওয়া যায় এবং মৌসুমের সময় দামে সস্তা থাকে বলে এ সময় অন্ততঃ ৩/৪ মাস আমরা আলু খেয়ে চাল বাঁচাতে পারি। কেননা বেশিদিন আলু সংরক্ষণ করা অসুবিধাজনক। কোল্ড ষ্টোরেজে রাখাও ব্যয় সাপেক্ষ ব্যাপার। অথচ সারা বছর চাল সংরক্ষণ করা সহজ। তাই মৌসুমের সময় ভাত বা রুটির পরিপূরক হিসেবে আমরা অনায়াসেই আলু খেতে পারি। এতে চালের উপর চাপ কম পড়বে। ফলে খাদ্য ঘাটতি পূরণ ও অপুষ্টি সমস্যা দূরীকরণে অধিকতর সহজ হবে। তাই বলা যায়- ‘খাদ্য, পুষ্টি স্বাস্থ্য চান/বেশি করে আলু খান’। 


লেখক : উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিস, তেরখাদা, খুলনা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পারিবারিক পুষ্টি ভাবনা

পারিবারিক পুষ্টি ভাবনা

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:১০













ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২