খুলনা | বুধবার | ১৯ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

পর্দা পুরুষদের জন্যও জরুরী

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

পর্দা মহান আল্লাহর একটি প্রদত্ত বিধান। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সমাজে নানাবিধ সমস্যা দেখা যায়। ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতার পতন হয়। যার কারণে সমাজে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আমাদের সমাজে নারীদের পর্দার ব্যাপারে খুব জোড়ালো কথা শোনা যায়। পুরুষদের বিষয় সভাই একটু এড়িয়ে চলে। অথচ নারী ও পুরুষ উভয়ের ভিতর যৌবিক কামনা বাসনা রয়েছে, যার জন্য পুরুষদেরও পরিপূর্ণ পর্দা মেনে চলা উচিত। নিম্নে আলোচ্য বিষয়ের উপর তথ্য, উপস্থাপনা করা হল ঃ পর্দা কি এবং কেন ? পর্দা (হিযাব) শব্দের অর্থঃ আবরণ বা অন্তরাল করা, আর শরীয়তের পরিভাষায়, “ইসলামের বিধান অনুযায়ী নারী-পুরুষ প্রত্যেকের জন্যই নির্ধারিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহ ঢেকে রাখার নামই হিযাব বা পর্দা। নারী পুরুষ প্রত্যেকের জন্যই পর্দা করা ফরজ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন, “হে নবী! মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন, তারা যেন নিজেদের চোখকে বাঁচিয়ে চলে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান সমূহের হেফাযত করে, এটা তাদের জন্য উত্তম, যা তারা করে আল্লাহ সে বিষয়ে পুরোপরি অবহিত (সূরা নূরঃ আয়াত নং-৩০)। নবী করিম (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন অপরিচিত নারীর প্রতি যৌন লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিনে তার চোখে উত্তপ্ত গলিত লোহা ঢেলে দেয়া হবে (ফাতাহুল কাদীর)।
পর্দার প্রকৃত আসল উদ্দেশ্য ঃ- পর্দার আসল উদ্দেশ্য হল নারী ও পুরুষের নৈতিক চরিত্র অক্ষুন্ন রাখা, পর্দা নিলজ্জতা দমন ও সতীত্ব সংরক্ষণের একটি অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে সমাজ বিভিন্ন ধরনের ফিতনা থেকে রক্ষা করে তাই পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যেই পর্দার হুকুম মেনে চলা অপরিহার্য। অনেকের ধারনা নারীরা শুধু পর্দায় থাকবে, পুরুষের প্রয়োজন নেই। আসলে এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। যদি কোন নারী পর্দাহীনভাবে পাতলা কাপড় পরে, সৌন্দর্য্য প্রদর্শনের জন্য সাজ গোজ করে চলাচল করে, তখন পুরুষ তার দিকে স্বাবাভিক ভাবে তাকায়, আর যারা মোমেন তারা একবার তাকালে দ্বিতীয় বার আর তাকাবে না। হযরত বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আলী (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বলেন, হে আলী! কোন অপরিচিতা মহিলার উপর হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে গেলে তা ফিরিয়ে নেবে এবং দ্বিতীয় বার তার প্রতি আর দৃষ্টিপাত করবে না। কেননা প্রথম দৃষ্টি তোমার আর দ্বিতীয়টি তোমার নয় (বরং তা শয়তানের) (আবু দাউদ)। পুরুষের প্রতি নারীদেরও আকর্ষণ সৃষ্টি হতে পারে, তার প্রমাণ নিম্নের হাদিসটি, “উম্মুল মুমেনীন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা তিনি এবং হযরত মায়মুনা (রাঃ) রাসূল (সাঃ) এর নিকট বসা ছিলেন, হঠাৎ সেখানে ইবনে উম্মে মাকতুম এসে প্রবেশ করলেন। হুজুর (সাঃ) হযরত উম্মে সালমা ও মায়মুনা (রাঃ) কে বললেন, তোমরা (আগন্তক) লোকটি থেকে পর্দা কর, আমি বললাম হে! আল্লাহর রাসূল (সাঃ) লোকটি তো অন্ধ আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছে না। তখন রসূল (সাঃ) বললেন, তোমরা দু’জনও কি অন্ধ যে, তাকে দেখতে পাচ্ছ না? (আহম্মদ, তিরমিযী, আবু দাউদ)। পুরুষদের থেকে মেয়েদেরকে যেমন পর্দা করতে বলা হয়েছে, অনুরূপভাবে মেয়েদের থেকেও পুরুষদেরকে পর্দা করতে বলা হয়েছে। কারণ কোনো নারীকে দেখে যেমন কোনো পুরুষ আকৃষ্ট হয়ে কুচিন্তা করতে পারে। তেমনি কোনো নারীও কোনো পুরুষকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কুচিন্তা করতে পারে। একজন পুরুষের জন্য কোনো বেগানা নারীকে আগ্রহভরে দেখা যেমন পাপ তেমনি একজন নারীর জন্যও আগ্রহভরে বেগানা পুরুষকে দেখা পাপ। নিজের স্ত্রী ও মহাররাম নারীদের ছাড়া কাউকে নজরভরে দেখা পুরুষের জন্য জায়েয নয়। প্রথম দৃষ্টি মাফ আর দ্বিতীয় দৃষ্টি পাপ। যদি কোন ব্যক্তি দ্বিতীয় বার ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকায় তাহলে সেটি চোখের যিনা হবে। 
পুরুষদের পর্দা ও পরিপ্রেক্ষিত বর্তমান সমাজঃ- বর্তমান সমাজে কিছু পুরুষ লোক আছে, যারা অনেকেই পর্দা সম্পর্কে ধারনা রাখেনা, এমনকি পর্দা মহান আল্লাহর ফরজ বিধান তা লংঘন করে চলে। অনেক বেআমল পুরুষ নারীদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য নানা ফন্দি কৌশল অবলম্বন করে, নিজেকে সুন্দর দেখানো প্রদর্শন করে, আট শার্ট টাইট ফিট পোষাক ব্যবহার করে, বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী ব্যবহার করে, হাতের আঙ্গুলে আংটি ব্যবহার করে, শার্টের বোতাম খুলে রাখে, হাতে গায়ে ছবি (ট্যাটু) অংকন করে, চুলে কালার করে, রংঙিন চশমা ব্যবহার করে মেয়েদের দিকে বার বার তাকায় এবং অঙ্গভঙ্গি করে, যা শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম। 
পর্দা না করার পরিণতি ঃ- পর্দা না করার পরিণতি মারাত্মক ভয়াবহ। দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় স্থানেই এর পরিনাম খারাপ। পারিবারিক জীবনে অশান্তি বেপর্দার কারণে সৃষ্টি হয়। বিষক্ত জীবন, যার নাম পরকীয়, দাম্পত্য জীবনে সৃষ্টি হয় কলহ এমনকি শান্তির সুখের সংসার জীবন কাঁচের গ্লাসের মত ভেঙে হয় টুকরা টুকরা। যে সমস্ত নারী ও পুরুষ পর্দা করে না, তাদের হাদিসের ভাষায় বলা হয়, দাউস। আল্লাহর নবী বলেন, ‘জান্নাতের দরজায় লেখা আছে, দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কুরআন-হাদিসের আলোকে উপরিউক্ত পর্দা সম্পর্কে শরীয়তের বিধান থেকে অনুমান করা যায় ইসলামে পর্দা কত খানি। শরীয়াত দেহ সৌন্দর্যকেই ঢেকে রাখতে হুকুম করেছে, কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। শরীয়াত সমর্থিত প্রয়োজন ছাড়া নারী ঘরের বাইরে যেতেই পারবে না। প্রয়োজনে বের হলে দবিজ পর্দার আড়ালে ধরে, যেন তার উপস্থিত নারীর সতীত্ব সক্ষম ও নাজুক মর্যাদার সুরক্ষায় পর্দা বিকল্প আশ্রয়। এর গুরুত্ব বাস্তবসিদ্ধ ও প্রশ্নাতীত। এর লংঘন শরীয়াত বিরোধী ও সামাজিক মর্যাদার পরিপন্থী। 
পর্দা করার বৈজ্ঞানিক সুফল ঃ- আধুনিক গবেষণায় দেখ গেছে, বেগানা পুরুষের কামুক দৃষ্টি নারীর চোখ ও দেহ কোষের উপর পরিতত হলে রাসায়নিক ক্রিয়া করে, ফলে নারীর দেহ মনে প্রবল ঝড় ওঠে ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গর্ভবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে ইহা এত বেশী ক্রিয়াশীল হয়, এর প্রতিফলন রশ্নি দেহ কোষেই নয় জরায়ুর অভ্যন্তরের গর্ভস্থ সন্তানের উপরও পতিত হয়। কারণ এ সময় নারীদের দেহের দুর্বলতার কারণে প্রতিরোধ শক্তি খুবই কম থাকে। ফলে গর্ভাবস্থায় নারীদের অন্তরে যে চিন্তার দাগ কাটে, গর্ভস্থ সন্তানের শারীরিক কাঠামো ও বর্ণের দিক দিয়ে তদ্রুপই হয়ে থাকে (সূত্রঃ কুরআন হতে বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা নং-২৫)। 

লেখক : প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা ও খতিব মল্লিকের বেড কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দান, রামপাল, বাগেরহাট।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






আজ পবিত্র শবে কদর

আজ পবিত্র শবে কদর

০১ জুন, ২০১৯ ০১:১৭


জুম্মাতুল বিদা আজ

জুম্মাতুল বিদা আজ

৩১ মে, ২০১৯ ০০:৩৯






ব্রেকিং নিউজ