খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ফেব্রুয়ারিতেই সম্পন্ন হবে সকল কাজ 

খুলনা ওয়াসার নতুন প্রকল্পের পানি সরবরাহ শুরু মার্চে

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০১:১৫:০০

নগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে চলতি বছরের মার্চ মাসে শুরু হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খুলনা ওয়াসার মেগা প্রকল্পের পানি সরবরাহ। কিছু জায়গায় চেম্বার ও পাইপ সংযুক্তকরণ ছাড়া ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হবে। যা দিয়ে টার্গেটকৃত ৪৫ হাজার বাড়িতে সরবরাহ সম্ভব হবে। ফলে এটি ওয়াসার বড় সফলতা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় সুপেয় পানি সরবরাহ নামের এ প্রকল্পটি ২০১১ সালের ২৭ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৫৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) ফান্ড থেকে ৭৫০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র  ৫২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ও জাইকা’র ১ হাজার ২৮৪ কোটি ১২ লাখ ৭৮ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মধুমতি নদী থেকে পানি সংগ্রহের পর তা পরিশোধনের মাধ্যমে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সরবরাহ করা হবে। এ প্রকল্পের পানি খুলনা শহর সংলগ্ন রূপসা উপজেলার পাথরঘাটা এলাকায় পরিশোধন করা হবে। সেখানে গড়ে দৈনিক ১১ কোটি লিটার পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শোধনাগারের পাশাপাশি অপরিশোধিত পানি সংরক্ষণের জন্য ৭ লাখ ৭৫ হাজার কিউবিক মিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এক থেকে দুই সপ্তাহ মধুমতির পানি কিছুটা লবণাক্ত হয়ে পড়ে। সে সময় জলাধারের পানি পরিশোধন করে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা হবে।
জানা গেছে, এডিবি’র অর্থায়নে ৩টি ইন্টারন্যাশনাল কন্ট্রাক বিডি-আইসিবি প্যাকেজ ও ২টি ন্যাশনাল কন্ট্রাক বিডি-এনসিবি প্যাকেজ ৭টি ডিস্ট্রিবিউশন রিজার্ভার এবং ১০টি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ১০টি ওভারহেড ট্যাংক ও ৭টি ডিস্ট্রিবিউশন রিজার্ভার নির্মাণের স্থানগুলো হচ্ছে চরেরহাট, লবণচরা, নতুন বাজার, ছোট বয়রা, রায়ের মহল, বয়রা হাউজিং এবং দেয়ানা। বাকি ৩টি ওভারহেড ট্যাংক হচ্ছে বানিয়াখামার, মিরেরডাঙ্গা এবং দৌলতপুরের পাবলা। 
এদিকে, ‘ক্লিয়ার ওয়াটার ট্রান্সমিশন মেইনস ইনক্লুডিং রিভার ক্রসিং’র মাধ্যমে রূপসার পানি শোধনাগার থেকে রূপসা নদীর তলদেশ হয়ে খুলনা শহরের বিভিন্ন স্থানে ৭টি রিজার্ভার পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। এসব লাইনে ৩শ’ মিঃ মিঃ থেকে ১২শ’ মিঃ মিঃ ব্যাসের ৩৩ কিঃ মিঃ ডাকটাইল আয়রন পাইপ মাঠ পর্যায়ে বসানো সম্পন্ন হয়েছে। ‘ডিস্ট্রিবিউশন পাইপ নেটওয়ার্ক’র মাধ্যমে পাইপ লেয়িং’ কাজের আওতায় নগর এলাকায় বিভিন্ন ব্যাসের প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো শেষ  হয়েছে। যার মাধ্যমে সকল গ্রাহকদের সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। এছাড়া প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যেই নগরীর সাত নম্বর ঘাট এলাকায় রেলওয়ের জমিতে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতাধীন ওয়াসার নির্মিত ১০ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট প্রধান ভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। এছাড়া চার কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশ্বরপাশা ও চরেরহাট এলাকায় ২টি জোনাল বিল্ডিং নির্মাণের কাজও সম্পন্ন। 
অপরদিকে, জাইকার অর্থায়নে ‘ইমপাউন্ডিং রিজার্ভার এন্ড সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প¬ান্ট’ প্যাকেজের আওতায় রূপসা উপজেলার তিলক ও পাথরঘাটা নামক স্থানে ১১০ লাখ লিটার (এমএলডি) ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার এবং ইমপাউন্ডিং রিজার্ভার নির্মাণের মূল কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ‘ওয়াটার ইনটেক ফ্যাসিলিটি এ্যান্ড র’ ওয়াটার ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন’ প্যাকেজে মোল্লাহাট ব্রীজ সংলগ্ন মধুমতি নদীর পাড়ে (ইনটেক স্ট্রাকচার এ্যান্ড পাম্প হাউজ) নির্মাণ কাজও শেষ।
এ ব্যাপারে প্রকল্প ব্যবস্থাপক খান সেলিম আহমেদ বলেন, শহরের সুপেয় পানির সঙ্কট দীর্ঘদিনের। এ সঙ্কট নিরসনের লক্ষে এই অঞ্চলের ‘সবচেয়ে বড়’ এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করে বুঝে পেতে সময় লেগে যায়। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে করতেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয়েছে। যার কারনে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাস্তবায়ন মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে। তবে এখন প্রকল্পের কাজ শেষ। শুধু কিছু জায়গায় চেম্বার ও পাইপ সংযুক্তকরণ বাকী রয়েছে। আগামী ফেব্র“য়ারি মাসের মধ্যেই ওই কাজও শেষ হবে।  
তিনি আরও বলেন, আগামী মার্চে এ প্রকল্পের পানি সরবরাহ শুরু হবে। প্রথমে সরবরাহ হচ্ছে নগরীর লবণচরা জোনে। পরবর্তীতে বাকী ৯টি জোন নতুন বাজার, বানিয়াখামার, ছোট বয়রা, বয়রা, নতুন রাস্তা, চরের হাট, দেয়ানা, মিলেরডাঙ্গা ও রায়েরমহলে পর্যায়ক্রমে এ পানি সরবরাহ করা হবে। তবে পুরোপুরি প্রকল্পটি চালু হলে টার্গেটকৃত ৪৫ হাজার বাড়িতে প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। ফলে এটি ওয়াসার বড় সফলতা। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ