খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১৩ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

হাশরের দিনে আরশের ছায়ায় স্থান পাবে যারা

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:০৭:০০

ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবী একদিন ছেড়ে যেতে হবে সকলেরই। কেহই দুনিয়াতে থাকতে পারবেনা। একদিন মহান আল্লাহর দরবারে জীবনের সকল হিসাব দিতে হবে। কিয়ামত সংঘটিত হবে, তারপর হাশর কায়িম হবে। যে সূর্য আমাদের আলো দেয়, যা আমাদের কোটি কোটি মাইল দূরে অবস্থিত। সেই সূর্য মাথার এক বিঘাত উপরে থাকবে। সূর্যের তাপে মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে, এবং সারা শরীর থেকে ঘাম ঝরতে থাকবে। সেইদিন খুব কঠিন হবে সূর্যের সেই প্রখরতা। এছাড়াও মহান আল্লাহর আরশে এক প্রকার শান্তির ছায়া বিদ্যমান থাকবে। সেখানে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাথার উপর ছাতার ন্যায় আরশের ছায়া প্রদান করা হবে। সেদিন মহান আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না। সেই মহা সঙ্কটপূর্ণ দিনে আল্লাহ তায়ালা সাত প্রকার লোককে আরশের সেই ছায়ায় স্থান দিবেন। 
এ প্রসঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণীর মানুষকে হাশরের দিন তাঁর (আরশের) ছায়ায় স্থান দিবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবেনা। তারা হলো (১) ন্যায় পরায়ণ শাসক। (২) ওই যুবক যে স্বীয় যৌবনকে আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত করেছে। (৩) এই ব্যক্তি যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে যুক্তি, যখন মসজিদ থেকে বের হয় যতক্ষণ না আবার মসজিদে ফিরে আসে। (৪) ওই দুই ব্যক্তি যারা পরস্পরে আল্লাহর জন্য মহব্বত করেছে, তাঁরা আল্লাহর জন্যই একত্রিত হয়েছে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই পৃথক হয়েছে। (৫) ওই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করেছে, অতঃপর তার দু’চক্ষু অশ্র“ প্রবাহিত করেছে। (৬) ওই যুবক যাকে কোন সম্ভ্রান্ত সুন্দরী রমনী আহ্বান করেছে, আর তখন সে বলেছে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ (৭) ওই ব্যক্তি সে দান-ছদকা করেছে আর তাকে সংগোপন করেছে, এমনকি তার বাম হাত জানে না তার ডান হাত কী দান করে। (বুখারী ও মুসলিম)। 
নিম্নে পর্যায়ক্রমে উপযুক্ত সাতজন ব্যক্তির সম্পর্কে আলোচনা পেশ করা হল ঃ-
প্রথম ঃ ব্যক্তি হলো ন্যায় পরায়ণ শাসক। অর্থাৎ ওই শাসক যে তার জনগণের প্রতি ইনসাফ বা ন্যায় বিচার করে, এবং অন্যায়ের পক্ষ পাতিত্ব করে না। অসহায় দীন দুঃখী যে জুলুমের স্বীকার না হয়। ন্যায় বিচার সম্পর্কে পবিত্র কুরআন বলছে, ‘আর মানুষের পরস্পরের মধ্যে যখন কোনো ব্যাপারে তোমার ফয়সালা করবে পূর্ণ সুবিচার ও নিরপেক্ষ ইনসাফের সাথে ফয়সালা করো, আল্লহ্ তোমাদেরকে কতইনা ভাল কাজের উপদেশ দিচ্ছেন (সূরা নিসা, আয়াত নং ৫৮)। 
দ্বিতীয়ত ঃ ওই যুবক যে তার যৌবনকে আল্লাহর ইবাদতে কাটায়। অর্থাৎ ওই যুবক যুবতীরা অহেতুক সময় নষ্ট না করে যৌবনের মূল্যবান সময় মহান আল্লাহর পথে ব্যয় করেন ও ইবাদত বন্দেগীর ভিতরে কাটান। সকল প্রকার অশ্লীল কাজ ও পাপাচার থেকে দূরে থাকে। এবং একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে। 
তৃতীয়ত ঃ ওই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে যুক্ত থাকে। মসজিদ থেকে বের হলে, পুনরায় মসজিদে আসার জন্য সে উদগ্রীব থাকে এবং বার বার সময় দেখে যে, নামাযের সময় হয়েছে কিনা। এখানে মসজিদ দ্বারা নামাজ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ যে সমস্ত নারী-পুরুষের অন্তর নামাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর পরের ওয়াক্ত আদায় করার জন্য মনটা ব্যকুল হয়ে যায়। 
চতুর্থত ঃ ওই দুই ব্যক্তি যারা পরস্পরকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালো বাসে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই একে অন্যের সাথে মিলে অথবা শত্র“তা পোষণ করে। এর ব্যাখ্যা হল, কোন ব্যক্তিকে তার দ্বীনদারী ও খোদাভীতির জন্য ভালো বাসে আবার কাউকে তার নাফরমানী ও বিদ্রোহাত্মক মনোভাবের জন্য তার নাফরমানীর কাজকে ঘৃণা করে। 
পঞ্চমত ঃ ওই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি ফেলে অর্থাৎ রাতের আধারে তাহাজ্জুদে খুব গোপনে আল্লাহকে ডাকে, নামাজ পড়ে, মুনাজাত করে, এবং আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, মহান আল্লাহর তায়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন, “আপনি আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মগ্ন হোন” (সূরা মুযযামমিল, আয়াত নং- ৮)। 
ষষ্ঠত ঃ ওই যুবক যাকে কোন সম্ভ্রান্ত সুন্দরী মহিলা কু-প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য আহ্বান করে, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, ‘অবৈধ যৌন সংযোগের নিকটবর্তী হয়ো না, এ অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ (সূরা বনী ইসরাইল, তায়াত নং- ৩২)। 
সপ্তমত ঃ ওই ব্যক্তি যে খুব গোপনে দান সাদকা করে, এমন কি তার ডান হাত কী দান সদকা করে তা বাম হাত জানে না। অর্থাৎ সে নাম যশ ও খ্যাতির জন্য দান খায়রাত করে না। বরং শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে। এই সাত প্রকার সৌভাগ্যবান লোককে, মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন কিয়ামতের পর হাশরের ময়দানে প্রচন্ড গরমের উত্তাপের সময় স্বীয় আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। 

লেখক : প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা ও খতিব মল্লিকের বেড কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দান, রামপাল, বাগেরহাট।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



পর্দা পুরুষদের জন্যও জরুরী

পর্দা পুরুষদের জন্যও জরুরী

০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০


পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৩২


আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫



“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩


ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২