খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১৩ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রোগী টানতে চিকিৎসকদের উচ্চতর ডিগ্রির ‘প্রতারণা’!

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ২১ জানুয়ারী, ২০১৯ ০১:২০:০০

নগরীর মজিদ স্মরণী রোডে একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রাকটিস করেন একজন গাইনি চিকিৎসক। প্রতিষ্ঠানের সামনে তার নামের সাইন বোর্ডে এমবিবিএস, এফসিপিএস লেখেন। খানজাহান আলী রোডে বসুন্ধরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাকটিস করেন এমন দুই জন ডাক্তর নিজের নামের সাথে এফসিপিএস শেষ বর্ষ এবং অন্যজন লেখেন ফেজ-১। একই ধরনের ডিগ্রি ব্যবহার করছেন সামসুর রহমান রোডে সিটি হার্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একাধিক চিকিৎসক। এছাড়া সন্ধানী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে প্রাকটিস করেন এমন চিকিৎসকরা তাদের নামের সাইনবোর্ডে বিভিন্ন উচ্চতর ডিগ্রির অপব্যবহার করছেন। এসব কোর্সে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হয়েই বা বার বার পরীক্ষা দিয়ে পাশ না করতে পারলেও কৌশলে তারা এসব ডিগ্রি ব্যবহার করে যাচ্ছেন। 
এদিকে চিকিৎসকের নেমপ্লেটে ব্যবহার করা পিজিটি, এফসিপিএস (পার্ট-২) এবং এফসিপিএস (শেষ পর্ব) এফসিপিএন পার্ট ওয়ান বা এফপি কোনো ডিগ্রি নয় বলে জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক পদমর্যাদার অন্তত তিন জন চিকিৎসক। তবে ওইসব ডিগ্রি ব্যবহার করা চিকিৎসকরা বলেছেন, কোর্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করে তারা যা অর্জন করেছেন, নেমপ্লেটে তা ব্যবহার করেছেন। তারা অর্জিত নয়, এমন কিছু ব্যবহার করেননি। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন চিকিৎসকদের এ ধরনের ডিগ্রি ব্যবহারকে অন্যায় ও রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মনে করেন। এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে বলেন, এফসিপিএস, এমসিপিএস, এমএস, এমডি ডিগ্রির ক্ষেত্রে পার্ট-১, পার্ট-২ ও শেষ বর্ষ উল্লেখ করে যে ডিগ্রি ব্যবহার করা হয়, তা পুরোপুরি অবৈধ। কারণ ওইসব কোর্সে যারা পড়াশোনা করছেন তারা শিক্ষার্থী। কোর্সে পাস না করে কেউ অধ্যয়নরত বিষয়কে ডিগ্রি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না।
ডিগ্রি নয়, তবুও এমন বিষয়কে কেন চিকিৎসকরা ডিগ্রি হিসেবে ব্যবহার করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমবিবিএস চিকিৎসকদের নামের সঙ্গে ডিগ্রি থাকলে তা দেখে রোগীরা আকৃষ্ট হন। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডিগ্রি নয়, এমন বিষয়কে এক শ্রেণীর চিকিৎসক ডিগ্রি হিসেবে ব্যবহার করছেন। নগরীর খানজাহান আলী রোড, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা , সামসুর রহমান রোড ও সাউথ সেন্ট্রাল রোডে ঘুরে কথিত এসব ডিগ্রি ব্যবহার করছেন এমন অন্তত ৩০জন চিকিৎসকের চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে। বাহারি সাইনবোর্ড আর চমকপ্রদ এসব কথিত ডিগ্রির ব্যবহারে সাধারণ রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল আহাদ এ প্রতিবেদককে বলেন, চিকিৎসকদের নামের সঙ্গে ডিগ্রি থাকলে তা দেখে সাধারণ রোগীরা আকৃষ্ট হন। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন ট্রেনিং কোর্সসহ ডিগ্রি নয়, এমন বিষয়কে ডিগ্রি হিসেবে নামের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের এ ধরনের প্রবণতা থেকে অবশ্যই সরে আসতে হবে। 
বিএমডিসি সূত্রে জানা গেছে, এমবিবিএস পাস করার পর চিকিৎসকরা পিজিটি অর্থাৎ স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন, যা কোনো ডিগ্রি নয়। বিএইচএস (আপার) হলো এমবিবিএস পাসের পর বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সার্ভিসে অংশগ্রহণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এফসিপিএস, এমডি, এমএস, ডিডিএস, ডিটিসিটি, ডিসিএইচ, ডিও, ডি-কার্ড, ডিজিও, ডিইএম, ডিএ, ডিএলও, ডি-অর্থো ডিগ্রি রয়েছে। এসব ডিগ্রির জন্য এমবিবিএস পাসের পর চিকিৎসা শাস্ত্রের উচ্চশিক্ষার নির্ধারিত কোর্সে ভর্তি হতে হয়। ওই কোর্সে পাস করে ডিগ্রি অর্জিত হওয়ার পরই একজন চিকিৎসক তা ব্যবহার করতে পারেন। এর বাইরে কোনো ডিগ্রি নেই।
সূত্র জানিয়েছে, এমডি, এফসিপিএস, এমএস (ইনকোর্স, পি-১, পি-২ এবং শেষ পর্ব) বলে কোনো ডিগ্রি নেই। এমএসিপি, এফএসিপি, এফআইসিএ, এফআরএসএইচ, ল্যাপ্রোলজি, ফেলো ডব্লিউএইচওকে চিকিৎসকরা ডিগ্রি হিসেবে নেমপ্লেটে ব্যবহার করেন। এগুলো কোর্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে অর্জিত কোনো ডিগ্রি নয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে তা ডিগ্রি হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছেন এক শ্রেণীর এমবিবিএস চিকিৎসক। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২