খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু

চলতি বছরের মাঝামাঝিতে মন্ত্রণালয়ে জমা হচ্ছে খুলনা ওয়াসার আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প প্রস্তাব

এস এম আমিনুল ইসলাম   | প্রকাশিত ২০ জানুয়ারী, ২০১৯ ০১:০০:০০

নগরীতে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা ওয়াসার নেয়া প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রেপোজল (ডিপিপি) চলতি বছরের মাঝামাঝিতে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে। তবে এটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে খুলনা হবে দেশের পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত শহর।
ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে শিল্প নগরী খুলনায় আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয় খুলনা ওয়াসা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন’ বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সংস্থাটি। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আর্থিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়। 
সূত্রটি জানিয়েছে, এ প্রকল্পে মাটির ৩ মিটার গভীরতায় ৩শ’ কিলোমিটার সুয়ারেজ লাইন স্থাপন কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। নগরীর লবণচরা, আড়ংঘাটা ও দৌলতপুর এলাকায় তিনটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও ১৩টি পাম্প স্টেশন নির্মাণ করা হবে। তিনটি শোধনাগারের (ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) মাধ্যমে পরিশোধিত পানি ফেলা হবে নদীতে আর বর্জ্য ব্যবহার হবে নিচু জমি ভরাট ও সার তৈরির কাজে। এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য ৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। জমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসনের নিকট প্রাথমিকভাবে চিঠিও দেয়া হয়েছে। চলতি বছর মাঝামাঝি সময়ে এ প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রেপোজল (ডিপিপি) তৈরি করে অনুমোদনের জন্য  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হবে। 
তবে পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও নগরীর সরু ও অপ্রশস্ত রাস্তার কারণে অনেক মানুষ সুয়ারেজ লাইনের বাইরে থাকবেন। ফলে এসব মানুষকে বিকল্পভাবে মেন্যুয়াল সিস্টেমে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাতে কোনভাবেই পরিবেশ দূষণ হতে না পারে। এ ক্ষেত্রে ভাকুটাক ট্রাকসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে প্রথম দিকে কর্পোরেশনের মাধ্যমে ওই সব এলাকার বর্জ্য অপসারণ হবে।
খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ আব্দুল্লাহ্ পিইঞ্জ বলেন, জমি অধিগ্রহন প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এখন এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাথে ডিপিপি নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছর মাঝামাঝি সময়ে ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন মিললে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হবে। 
তিনি আরও বলেন, খুলনায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এখনকার মানব বর্জ্য সব গিয়ে নদী ও আশপাশের পানি ও পরিবেশ দূষণ করছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় খুলনা মহানগরী হবে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত একটি আধুনিক শহর।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২