খুলনা | বুধবার | ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সহকর্মীদের শ্রদ্ধা : জানাজা শেষে আজ জামালপুর দাফন

প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর আর নেই

খবর ডেস্ক | প্রকাশিত ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:২৩:০০

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নেুা, প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...আমরা তো আল্লাহর এবং আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবো)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। গণ মঙ্গলবার দিবাগণ রাত ১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিকের জীবনাবসান ঘটে। আমানুল্লাহ কবীর শেষ সময়ে অনলাইনভিত্তিক সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আমানুল্লাহ কবীরের ছেলে শাতিল কবীরের বরাতে এই তথ্য দিয়েছে সংবাদপত্রটি।
আমানুল্লাহ কবীর বেশ কিছুদিন ধরেই ডায়াবেটিস ও লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতা নিয়ে দুই সপ্তাহ আগে শ্যামলীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক এই সভাপতি। পরে শারীরিক অবস্থার অবণতি হওয়ায় তাঁকে ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।
এদিকে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভাকাঙ্খিরা। বেলা সাড়ে ১১টায় তার মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাবে আনা হয়। সেখানে জানাজার পর প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় কল্যাণপুরের দারুস সালাম ফুরফুরা শরীফ মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আমানুল্লাহ কবীরের বড় ছেলে শাতিল কবীর জানাজার আগে তার বাবার জন্য সবার দোয়া চান।
প্রেসক্লাবে তার জানাজায় অংশ নেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হালিম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, সাবেক সাংসদ মেজর আখতারুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য সংস্থার জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিকদের মধ্যে এম আমানুল্লাহ, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম তাহাবুর, খন্দকার মনিরুল আলম, আবদুল কালাম আজাদ, সৈয়দ আখতার ইউসুফ, নুরুল হুদা, মাহফুজউল্লাহ, জাহিদুজ্জামান ফারুক, গাজীউল হাসান খান, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, এম এ আজিজ, মঞ্জুরুল ইসলাম বুলবুল, আবদুল জলিল ভূঁইয়া, আবদুল হাই শিকদার, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, আবদুস শহিদ, কামালউদ্দিন সবুজ, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, জুবায়ের আহমেদ, সরদার ফরিদ আহমেদ, শাহেদ চৌধুরী, মাঈনুল আলম, কুদ্দুস আফ্রাদ, জাহেদ চৌধুরীসহ শতাধিক সাংবাদিক।
জানাজার পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মোল্লা জালাল, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা এই প্রয়াত সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর বিএনপি, বিএফইউজে ও ডিইউজের দুই অংশ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফটো জার্নালিস্ট ইউনিয়ন, জামালপুর সমিতি, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম প্রভৃতি সংগঠন থেকে প্রয়াত সাংবাদিকের কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। 
আমানুল্লাহ কবীরের পরিবারের থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে তার মরদেহ জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মেলান্দহে রেখিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেক দফা জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তার লেখনি ছিল সমসময়ই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। তার সুতা, নিষ্ঠা ও কর্তৃত্ববোধ সর্বজনস্বীকৃত ও প্রশ্নাতীত। সাংবাদিকতায় তার অবদান অনিস্বীকার্য। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের এই দুঃসময়ে তার মৃত্যু গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। তার শূণ্যতা সহজে পূরণ হবার নয়। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপি মহাসচিব। 
সাংবাদিক নেতা আমানুল্লাহ কবীরের ইন্তেকালে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার (এমইউজে) নেতা মোঃ আনিসুজ্জামান, এহতেশামুল হক শাওন,) আবুল হাসান হিমালয়, আব্দুর রাজ্জাক রানা। অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন বিএফইউজে নেতা ড. মোঃ জাকির হোসেন, শেখ দিদারুল আলম ও এহতেশামুল হক শাওন। 
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন সাংবাদিকদের রুটি-রুজি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা আমানুল্লাহ কবীর। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে এর আগে দায়িত্ব পালন করেন। সাড়ে চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বাংলা দৈনিক আমার দেশ এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের (বর্তমানে বিলুপ্ত) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এর আগে এস এম আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের শুরুর দিকের বার্তা সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাংবাদিকতার সঙ্গে লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন অগ্রজ এই সাংবাদিক। আমানুল্লাহ কবীর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












আমজাদ হোসেন আর নেই

আমজাদ হোসেন আর নেই

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৩১


ব্রেকিং নিউজ