খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫ |

আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করুন

১৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করুন

দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কার্ডিওলোজি চিকিৎসায় শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা। গরীব ও অসহায় মানুষেরা মাত্র ১০ টাকার টিকিটের বিনিময় ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা পেতে শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালটিতে আসেন। কিন্তু যন্ত্রপাতি ত্র“টিজনিত কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন তার। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল শয্যাসহ নানান সংকটে ধুকছে বিশেষায়িত এ হাসপাতালটি। ফলে চাহিদার অর্ধেকও সেবা দিতে পারছে না।
ইকো, এনজিওগ্রাম, পেস-মেকার বা রিং বসানো সব ধরণের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। রোগ নির্ণয় করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এনজিওগ্রাম। অথচ প্রায়শই অকেজো হয়ে পড়ে থাকছে এনজিওগ্রাম মেশিনটি। আর একবার অকেজো হলে বন্ধ থাকছে মাসের পর মাস। সর্বশেষ বন্ধ রয়েছে চার মাস। কবে ঠিক হবে তাও বলতে পারছেনা কেউ। এনজওিগ্রামের পর হার্টে ব্লক ধরা পড়লে প্রয়োজন হয় রিং পরানো অথবা বাইপাস সার্জারী। সরকারি হাসপাতাল হলেও রিং এর কোন সাপ্লাই নেই। রোগীদের নিজ খরচে ঢাকা থেকে একটি রিং আনতে খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। যা বেসরকারি হাসপাতাল কিম্বা ক্লিনিকের খরচের মতো। তাই রিং পরাতে ইচ্ছুক রোগীরা হচ্ছেন ঢাকামুখী। গত ছয় মাসে মাত্র ২০ জন রোগীকে হার্টে রিং পরাতে পেরেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হৃদরোগ চিকিৎসায় দেশের অন্যতম সেরা এই প্রতিষ্ঠানটিতে করুণ দশা বিরাজ করছে। এখানে পেস মেকার বসানো হয় তা অনেকেই জানেন না। অথচ কর্তৃপক্ষের একটু আন্তরিকতায় সব সমস্যার সমাধান হতে পারে। হাসপাতালে হৃদরোগ বিভাগে ৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসক রয়েছে। ইসিজি, ইকো, এনজিওগ্রাম, পেসমেকার, রিং পরানো ও বাইপাস সার্জারী হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। তবে শুধুমাত্র বাইপাস সার্জারী বাদে আর সবই করার সুযোগ রয়েছে এখানে। কিন্তু ইসিজি এবং ইকো ছাড়া অন্য সেবাগুলো সময় সময় বন্ধ থাকছে।
এই হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করতে সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি নিলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এখানে কার্ডিওলোজি বিভাগ দেশের মধ্যে অন্যতম আধুনিক ওর্য়াড। প্রতি সোম ও বুধবার তিনটি করে এনজিও গ্রাম করার কারণে রোগীদের জট লেগে থাকে। প্রতিটি রোগীর সিরিয়াল দেয়ার পর এনজিওগ্রাম করতে প্রায় দুই মাস অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে এনজিওগ্রাম মেশিনটি বর্তমানে নষ্ট থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক মানের এ হাসপাতালটির সকল প্রতিকূলতা দূর করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে আমরা মনে করি।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২