খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শরণখোলায় রায়েন্দা খালের উপর জরাজীর্ণ লোহার সেতু ঝুঁকিপূর্ণ : দুর্ঘটনার আশঙ্কা

শরণখোলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

শরণখোলায় রায়েন্দা খালের উপর জরাজীর্ণ লোহার সেতু ঝুঁকিপূর্ণ : দুর্ঘটনার আশঙ্কা

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা বাজারের জনগুত্বপূর্ণ রায়েন্দা খালের ২১০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এলজিইডি’র নির্মিত লোহার পিলারগুলোর অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ২১ বছর পূর্বে নির্মিত এ সেতুতে লোক উঠলেই শুরু হয় কম্পন। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে দুই পারের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চলাচল করলেও তা মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। যে কোনো মুহূর্তে সেতু ধক্ষসে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছে বিভিন্ন মহল। জরুরী ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি নতুন করে গার্ডার দিয়ে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন মহল।
শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা খালের ওপর ১৯৯৭ সালে এলজিইডি’র লোকষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহার কাঠামো এবং উপরে আরসিসি ঢালাইয়ে নির্মিত হয় এই সেতুটি। সেতুটির দক্ষিণ পারে উপজেলার প্রধান শহর রায়েন্দা বাজার। এখানে রয়েছে রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুল, আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয়, রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল ইনস্টিটিউট, ভাসানী কিন্ডার গার্টেন স্কুল এবং রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, পোস্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, সরকারি খাদ্য গুদাম, চারটি ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অপরদিকে, উত্তর প্রান্তে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন। এখানে রয়েছে শরণখোলা সরকারি কলেজ, রায়েন্দা রাজৈর ফাজিল মাদ্রাসা, চারটি বরফ কলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান। দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবীরা প্রতিদিন এই সেতু দিয়েই যাওয়া-আসা করে থাকেন। তাছাড়া সেতুর নিচ থেকে খাদ্য গুদামের কার্গো জাহাজ, শত শত ফিশিং বোট ও অন্যান্য নৌযান চলাচল করতে গিয়ে ধাক্কা লেগে সেতুর লোহার কাঠামো ভেঙে এলোমেলো হয়ে গেছে। ক্ষয় হয়ে গেছে অধিকাংশ পিলারের গোড়া। সেতুটি এখন পরিত্যাক্ত সেতুতে পরিণত হয়েছে।
শরণখোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আলম ফকির বলেন, এম এস পাইপ দিয়ে দীর্ঘতম এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দুলছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন এ সেতুটি। তাছাড়া বিভিন্ন সময় জাতীয় প্রোগ্রাম গুলোতে অনেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মিছিল নিয়ে আসা-যাওয়া করে। এ সেতুর বর্তমান যে অবস্থা তাতে যে কোন বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি মেরামত বা গার্ডার দিয়ে নির্মাণের দাবি জানান।
রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন ও খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, খরস্রোতা রায়েন্দা খাল এক সময় খেয়ার নৌকায় পার হতে গিয়ে নৌকা ডুবে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে এ সেতুটি নির্মাণের পর দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পারাপার অনেক সহজ করে দিয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে বহুবার উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা করেও কোনো কাজ হয়নি।
একজন ঠিকাদার জানান, ২১০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটি মাঝখানে ৪০ ফুট দূরত্বে স্ট্যান্ড দেয়ার নিয়ম থাকলেও খাদ্য গুদামের কারণে নৌ-যান বাহনের সুবিধার জন্য ৫৫ ফুট দূরত্বে দেয়ায় বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এই সেতু এবং সেতুর দুই পারের সড়ক আমাদের এলজিইডি’র আইডি তালিকাভূক্ত না। সে কারণে এখানে কোনো বরাদ্দ দেয়া যাচ্ছে না। এডিবি প্রকল্প ছাড়া আমাদের এটি মেরামতের সুযোগ নেই। সেতুটি এখন মেরামতের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, সেতুর বর্তামান যে অবস্থা তাতে নতুন করে আরসিসি পিলার দিয়ে না করলে মেরামতে কোনো লাভ হবে না। তাই উপর মহলে যোগাযোগ করে বড় কোনো বরাদ্দ আনা যায় কিনা সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২