খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

হাড়ের ক্ষয় রোধে প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্র্শ

ডাঃ মোহাম্মদ হাসান | প্রকাশিত ১২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

হাড়ের ক্ষয় রোগ এমন একটি অসুখ যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব নির্দিষ্ট মাত্রায় কমে যাওয়ায় হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। ২০ থেকে ৩৫ বছর হাড় তার পূর্ণতা লাভ করে, তারপর ৪০ বছরের পর থেকে হাড় তার ক্যালসিয়াম ও ফসফেট হারাতে থাকে, এর ফলে হাড়ের পরিবর্তন হয়, দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। ৫০ বছর বয়সে ১৫ ভাগ এবং ৭০-৮০ বছর বয়সে ৩০ ভাগ মহিলার হিপ বোন বা নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়।
অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগ কী?
হাড়ের ভেতরের ঘনত্ব বাড়া-কমা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৬-১৮ বছর বয়সের দিকে হাড়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ২০ বছর বয়স পর্যন্ত হাড়ের ভেতরের ঘনত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত হাড়ের গঠন ও ক্ষয় একসঙ্গে একই গতিতে চলতে থাকে। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে প্রাকৃতিক নিয়মে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয়ের মাত্রা একটু একটু করে বাড়তে থাকে। তাই নির্দিষ্ট বয়সে হাড়ের ক্ষয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। হাড়ের এই ক্ষয় বাড়তে বাড়তে হাড় যখন নরম ও ভঙ্গুর হয়ে যায় সেই অবস্থাকে অস্টিওপোরোসিস বলা হয়।
অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগের প্রাদুর্ভাব
এই রোগে মহিলা ও পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হয়, তবে মহিলাদের বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়, যার ফলে হাড়ের ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায় এবং পুরুষের টেস্টোরেন হরমোন ৭০ বছর বয়সে কমতে শুরু করে তখন হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়।
তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সারাবিশ্বে ৫০ বছরের অধিক বয়সের প্রতি ৩ জন মহিলার মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৫ জন পুরুষের ১ জন অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত। যারা অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হন তাদের মধ্যে ৮০ ভাগই মহিলা এবং ২০ ভাগ পুরুষ।
প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শঃ গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম হাড়ের বৃদ্ধিতে উদ্দীপনা জোগায়। সুতরাং আজ থেকেই ভারোত্তোলন ব্যায়াম শুরু করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে তিনবার ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম করলেই যথেষ্ট। আর যদি আপনি আরও বেশি করতে পারেন, তাহলে আরও ভালো। হাড় গঠনকারী উপাদান গ্রহণ করুন এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। চেষ্টা করবেন দৈনিক এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে। দুগ্ধজাত পণ্য ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস। দুগ্ধজাত খাবারে চর্বি থাকে বলে সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন না। দুধ, দই, পনির প্রভৃতি খাবার স্বল্প চর্বি এবং চর্বিবিহীন দু’ভাবেই তৈরি করতে পারেন। দুধের চর্বি বাদ দিয়ে আপনি আসল পুষ্টি গ্রহণ করুন। এছাড়া ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে গ্রহণ করুন। ধূমপান বন্ধ করুন, ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করুন, নিয়মিতভাবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুধজাতীয় খাবার খান। প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকুন, পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ খান। এতে হাড় ভালো থাকবে, ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মেডিকেল অফিসার
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
দপ্তর সম্পাদক
বিএমএ খুলনা জেলা শাখা
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পারিবারিক পুষ্টি ভাবনা

পারিবারিক পুষ্টি ভাবনা

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:১০


বেশি করে আলু খান

বেশি করে আলু খান

০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০











ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২