খুলনা | বুধবার | ১৯ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মানসম্মত শিক্ষা ও উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ার অভিযোগ

খুলনার সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে প্রতি বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে!

বশির হোসেন  | প্রকাশিত ১১ জানুয়ারী, ২০১৯ ০১:৩০:০০

খুলনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গত কয়েক বছর ধরে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। চলতি নতুন বছরেও আশানুরুপ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। বিনামূল্যে পাঠ্যবই আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা ও উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় শিক্ষার্থী কমছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলায় ১২শ’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নগরীতে যার সংখ্যা ৯৪টি। ২০১৮ সালে নগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীতে শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৫৭৪ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ২৬০। প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৩১৭ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৭৭১ জন। ২য় শ্রেণীতে শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৪০৬ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৯২০। ৩য় শ্রেণীতে শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৫৬৯ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৯২০। ৪র্থ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৭৭২। ৫ম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৯০ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৬৪৬ জন। যা ২০১৭ সালে ছিলো ১৯ হাজার ৭৮ জন।
গতকাল নগরীর বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যার সাথে শ্রেণীতে উপস্থিত  শিক্ষার্থীর মিল নাই। যে পরিমাণ শিক্ষার্থী খাতা-কলমে দেখানো হয়েছে তার অর্ধেকও দেখা যায়নি ক্লাসগুলোতে। নগরীর নব বয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ১৭ জন এবং প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হয়েছে এখন পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ জন। নগরীর সিমেন্ট্রি রোডে এপিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৬ জন আর প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩ জন। নগরীর শের-ই বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে ২০ জন। এছাড়া নগরীর অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ক্লাস প্রতি শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০ জনের বেশি নয়। তবে ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণীতে ৩৭ জন শিক্ষার্থীসহ হাতে গোনা কয়েকটি স্কুলে ১ম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০ এর বেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি শিক্ষক বলেন ১ম ও  ২য় শ্রেণীতে স্কুলগুলোতে যত শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হয়, বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। এসব শিক্ষার্থীদের একটা অংশ বাইরে শুধু কোচিং করে ৩য় শ্রেণীতে ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য।
মোঃ মনিরুল ইসলাম নামে একজন অভিভাবক বলেন আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে পড়াতে পারলে আমাদের জন্যই ভালো হতো। কিন্তু সেখানে আমাদের সন্তানেরা ভালো পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না বলে আমি মনে করি। এখানে সঠিকভাবে ক্লাস নেয়া, অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও নিয়মিত কাউন্সিলিং করা হয় না। এছাড়া সরকারি স্কুলে অবকাঠামো অনেক খারাপ। বাথরুমগুলোতে যাওয়ার কোন পরিবেশ নেই। 
খুলনা সদর থানা এলাকার অভিভাবক মোঃ বেল্লাল হোসেন পলাশ বলেন, নিজেরা তদারকির দায়িত্ব নিয়ে আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমাদের সন্তানদের ভর্তি করলেও সেখানে ৫ম শ্রেণীতে পিইসি পাস করার পর আমরা ভালো হাই স্কুলে আমাদের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ পাই না। কারণ নগরীর সকল সরকারি হাই স্কুলে তৃতীয় শ্রেণী থেকে ভর্তি করা হয়। তাই সঙ্গত কারণে আমরা বৃহত্তর চিন্তা করেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমাদের সন্তানদের ভর্তি করি না। নগরীর আলাদা অন্তত ১৫ জন অভিভাবক এর সাথে কথা বলে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও অভিভাবকরা সরকারি স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ অবকাঠামোসহ নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে না চলার অভিযোগ করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মেহেরুন্নেছা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব ভবন, প্রশিক্ষিত শিক্ষকসহ বিনামূল্যে বই থাকার পরেও শহর এলাকায় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন মুখী হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এটাকে অভিভাবকদের অসচেতনতার অভাব বলে অবিহিত করে তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনেক ভালো ক্লাস হয়। বৃহত্তর পরিবেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই তুলনামূলক ভালো অবস্থান করে। তিনি অভিভাবকদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী হওয়ার আহ্বান জানান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ