খুলনা | বুধবার | ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ইভটিজিং : ইসলামের দৃষ্টিতে কারণ ও তার প্রতিকার

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ১১ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

সম্প্রতি ইভটিজিং মারাত্মক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বখাটে দুর্বৃত্তদের উপদ্রব সইতে না পেরে ইতোমধ্যে অনেক কিশোরী তরুণী এমনকি আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে। ইভটিজিংয়ের পীড়াদায়ক আগ্রাসন নারী শিক্ষার প্রতি মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। যা সমাজকে করছে কলুষিত। নিম্নে ইভটিজিং-এর কারণ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা পেশ করা হলো।
ইভটিজিং-এর কুফল : ইভটিজিং-এর কারণে নারীদের ভিতর নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়, সমাজে স্বস্তি ও শান্তি বিনষ্ট হয়। ইভটিজিং এর ফলে সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। মানুষের ভিতর পারস্পারিক ঘৃণা লাভ হয়, ধর্মীয় দৃষ্টিতে তাকালে ইফটিজার কখনো মুমিন থাকতে পারে না। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ইভটিজিং-এর কুফল ব্যাপক। 
ইভটিজিং-এর কারণ : বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে দিনদিন ইভটিজিং বা নারী উত্ত্যক্তের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা এক কথায় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষকরে স্যাটেলাইট টিভি চ্যালেন কারণে অনুপ্রবিষ্ট বিজাতীয় সংস্কৃতি বিজাতীয় আচার-আচরণ, লাগামহীন জীবন-যাপন, রুচিহীন বিজ্ঞাপন, অবাধ মেলামেশা। পর্নোগ্রাফির বিস্তার, নিয়ন্ত্রণহীন সহশিক্ষা, ধর্মীয়ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, সামাজিক বিচার ভেঙে পড়া ইত্যাদি। 
ইভটিজিং-এর প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা ঃ ইসলাম নারী পুরুষ কাউকেই উপহাস বা উত্ত্যক্ত করার অনুমতি প্রদান করেনি। মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, “হে ইমানদারগণ! তোমাদের অন্য দলকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করবেনা (সূরা আল হুজরাত ঃ আয়াত নং-১১)। ইভটিজিং বা নারী উত্ত্যক্ত একটি অশ্লীল আচারণ, ইসলাম সব অশ্লীল আচরণকে হারাম ঘোষণা করেছে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, “বল, আমার প্রতি পালক প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন (সূরা আল-আরাফ, আয়াতন নং-৩৩)। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, “সব অশ্লীল ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম (আল-হুলইয়া)। ইভটিজিং-এর মাধ্যমে নারীদের সম্মানের ওপর আঘাত দেয়া হয়। সত্যিকারের কোনো মুমিন ব্যক্তি ইভটিজিং করতে পারে না। কারণ মুমিনের বৈশিষ্ট্য হল কাউকে কষ্ট না দেয়া এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, “মুমিন তো সেই ব্যক্তি যে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেন (নাসাই)। মুসলিম তো সেই ব্যক্তি যার মুখ ও হাতের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে (বুখারী ও মুসলিম)।
সমাজে ইভটিজিং প্রতিরোধে করণীয় ঃ বর্তমান সমাজে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব বেশীভাবে বিস্তার লাভ করা যায়, এবং যুবক/যুবতীদের নৈতিক শিক্ষা না থাকা কারণে ইভটিজিং দাউদ, একজিমার মত ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে মারাত্মক ভয়াবহ পরিস্থিতি শিকার হতে হবে। এই জন্য সামাজিক অনাচার ‘ইভটিজিং’ থেকে বাচার জন্য সবার ভিতর ঐক্যমত গড়ে তুলতে হবে, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকে জাতিকে সচেতন করতে হবে। ইভটিজিং এর কুফল সমূহ সভার নিকট খোলাসা করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষকমন্ডলী লোকজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের ব্যাপক কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। মোবাইলের অপব্যবহার রোধ করাসহ লাগামহীন জীবন-যাপন মিডিয়ার অপসংস্কৃতি থেকে তরুণ তরুণীদের দূরে রাখতে হবে। উপযুক্ত বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা অভিভাবক তাদের ছেলে-মেয়েদের চলাফেরা আচার আচারনের প্রতি কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। সব থেকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে যেদিকে বেশী আর সেটি হল নারী পুরুষ উভয়ের পর্দার প্রতি, কারন মানুষ সৃষ্টি করেছেন যিনি মানুষ সম্পর্কে জানেনও তিনি। যেমন গাছের শেকড় কেটে চূড়ায় পানি দেয়ার মতন, অনুরুপ পর্দা উপেক্ষা করে ‘ইভটিজিং’ বন্ধ করা সম্ভব নয়। একটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘ইভজিটিং’ প্রতিকার ও প্রতিরোধে নারী দেরও ভূমিকা অনেক। আমাদের সমাজে নারীদের বোঝা দরকার, মহান আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে অনেক বেশী সম্মান দিয়েছেন। আর তাই তাদের নিজের সম্মান বজায় রাখার জন্য নিজের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নারীদেরকে আল্লাহ্ তায়ালা পর্দার বিধান দিয়েছেন তাদের সম্মান রক্ষার জন্য, কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। নারীরা বেশী প্রয়োজন না হলে বাহিরে বের হবেন না। হলেও শালীনতার সাথে পর্দা রক্ষা করে বের হবেন। মহান আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ্য করেন “তোমরা (নারীরা) নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং আগের জাহেলি যুগের নারীদের মতো উদ্ভান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে না (সূরা আহযাব,আয়াত নং-৩৩)। অন্যস্থানে মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, “হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও অন্যান্য মুমিন নারীদের বল, তারা যেন তাদের মোটা চাদর নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে সহজে চেনা যাবে এবং তারা উত্ত্যক্ত হবে না (সূরা আল আহযাব, ৫৯)। 
মোট কথা নারী পুরুষ উভয় শ্রেণীর মানুষ ইসলামের সু মহান বিধান মেনে চলতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাহলে ‘ইভটিজিং’ বন্ধ হবে এবং সমাজে শান্তির সু-বাতাস বহিতে থাকবে। আর সমাজ হবে শান্তি ও সুখের ঠিকানা। 
লেখক:-- মুফাসসিরে কোরআন ও প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আজ পবিত্র শবে কদর

আজ পবিত্র শবে কদর

০১ জুন, ২০১৯ ০১:১৭


জুম্মাতুল বিদা আজ

জুম্মাতুল বিদা আজ

৩১ মে, ২০১৯ ০০:৩৯





ব্রেকিং নিউজ