খুলনা | বুধবার | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নখের কোন পাকা রোগ: উপকারী কিছু পরামর্শ

ডাঃ ফারুকুজ্জামান | প্রকাশিত ০৫ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০:০০

জনাব আসগার আলী শেখ। বয়স ৬৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। এখন ডান পায়ের বৃদ্ধাগুলের কোনা পেকেছে। এই নিয়ে পাঁচ বার। ওষুধ খেয়েছেন প্রতি বারই। কিন্তু ঘুরে ফিরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কিছুদিন ভালো থাকেন। তারপর আবার হয়।
জনাব হরিদাস মন্ডল। বয়স ৩৮ বছর। ভদ্রলোক পেশায় একজন কৃষক। সারা দিন কাদামাটি মধ্যে কাজ করে কাটে। তিনিও একই সমস্যায় ভুগছেন। প্রথমে ডান পায়ের দু’টি আঙ্গুলে। ঔষধ খেলেন গ্রাম্য ডাক্তার থেকে, কিন্তু ভালো হলেন না। তারপর একই ধটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো বাম পায়ের বৃদ্ধাগুলে। বাধ্য হয়ে ভর্তি হলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। স্থান মিললো সার্জারী বিভাগের বারান্দায়। পরীক্ষাতে দেখা গেলো, তিনিও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত, যা তিনি এতদিন জানতেন না। আজ আসুন আমরা কিছুটা সময় ব্যয় করি নখের এই কোনা পাকা রোগটি (In growing toe nail) নিয়ে রোগটি আসলে কি? কেন হয়? কিবা করণীয় আছে?
নখের কোনা পাকা একটি নোংরা রোগ। In growing toe nail হলো এই রোগের একটি বিশেষ ধরণ, যেখানে নখের এক কিংবা উভয় দিকের কিছুটা অংশ, তৎসংলগ্ন আশেপাশের অংশে (nail bed-এ) ডেবে গিয়ে, বার বার ইনফেকশন করে। এই রোগের সাথে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং নখের যথাযথ পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা মেনে না চলার সরাসরি সম্পর্ক আছে। তাছাড়া নিয়মিত ধূমপান করাও পরোক্ষ একটা কারণ ডায়াবেটিস এবং ধূমপানের কারণ প্লাক (বা চর্বি) জমে রক্তের নালিকা গুলো চিকন হয়ে যাওয়ায়, রক্ত চলাচল কমে যায়। তাই ইনফেকশন সহজে নিয়ন্ত্রণ হতে চায় না, অথবা ইনফেকশন কমে গেলেও পরবর্তীতে আবার হয়।
করণীয় উপদেশ:
১) পায়ের নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। 
২) ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৩) ধূমপান পরিহার করা।
৪) কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ খাবার লবণ মিশিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পা চুবিয়ে বসে থাকা (দিনে ২ থেকে ৩ বার) ইত্যাদি।
ইনফেকশন ও ব্যথা থাকা অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শমতো এন্টিবায়োটিক এবং ব্যথার ঔষধ সেবন করা যেতে পারে এতে সাময়িক সুফল পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু আবার হওয়ার সম্ভবনা থেকেই যায়।
স্থায়ী সমাধান:
আক্রান্ত নখের এক বা উভয় পাশের ডেবে যাওয়া বাড়তি অংশ (নখের গোড়ার নখ তৈরিকারী সাদা অংশসহ) অপেরেশনের মাধ্যমে ফেলে দেয়া। তবে কোনো কোনো অবস্থায়, বিশেষত মারাত্মক ইনফেকশনের ক্ষেত্রে, সম্পূর্ণ নখই ফেলে দেয়া প্রয়োজন হতে পারে।
তবে মনে রাখে প্রয়োজন যে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করলে এবং পায়ের যথাযথ পরিচর্যা না নিলে, নতুন করে অন্য আঙ্গুল গুলোও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থেকেই যায়। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
ডাঃ ফারুকুজ্জামান
এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমআরসিএস (এডিনবার্গ, ইংল্যান্ড ),
এমএস (সার্জারী) বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
সহকারী রেজিস্ট্রার, সার্জারী বিভাগ,
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পারিবারিক পুষ্টি ভাবনা

পারিবারিক পুষ্টি ভাবনা

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:১০


বেশি করে আলু খান

বেশি করে আলু খান

০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০











ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২