খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৩ মে ২০১৯ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

যাত্রী হয় না আসন সংখ্যার এক তৃতীয়াংশও

তিন কারণে লাভের মুখ দেখছে না খুলনা-কলকাতা ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ০৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ০১:২০:০০

আসন সংখ্যার এক তৃতীয়াংশও যাত্রী না পেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’। এক বছরের বেশি সময় চালু হওয়া এই সার্ভিস মূলত পদ্ধতি জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করেন যাত্রীরা। কলকাতায় পৌঁছানোর সময়, আতিরিক্ত  ভাড়া আদায়, বেনাপোল ও যশোর স্টেশনে টিকিট না পাওয়ায় যাত্রী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তারা। ফলে লাভের বদলে দিন দিন লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা যায়, গত কিগত ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস’র যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সপ্তাহে বৃহস্পতিবার একদিন করে এই ট্রেন সার্ভিস কলকাতা থেকে ছেড়ে আসে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আর খুলনা স্টেশনে পৌঁছে দেড়টায়। খুলনা থেকে আবার দুপুর দু’টায় ছেড়ে যায় এবং কলকাতা স্টেশনে পৌঁছার কথা সন্ধ্যা সাতটায়। তবে বেশির ভাগ দিনই এক থেকে দেড় ঘন্টা কখনও তার থেকেও বেশি সময় নেয় ট্রেন আসতে এবং ছেড়ে যেতে। এ রুটে যাতায়াতকারীরা বলছে, মূলত তিন কারণে খুলনা কলকাতা ট্রেন সার্ভিস বন্ধন এক্সপ্রেস যাত্রী না বেড়ে দিন দিন কমছে। ফলে লোকসান নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে এ সার্ভিসের। 
যাত্রীদের অভিযোগ, ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ খুলনা থেকে ছেড়ে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছে রাত ৮টায় বা তার পরে। খুলনা থেকে চিকিৎসা বা ভ্রমণেচ্ছু যাত্রীরা প্রাথমিকভাবে আবাসন সমস্যায় পড়ে। গত বছরের  ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বন্ধন এক্সপ্রেসে চিকিৎসার জন্য কলকাতা গিয়েছিলেন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রভাষক আসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, রাত ৮টায় কলকাতা পৌঁছানোর কারনে থাকার জন্য হোটেল পেতে বেগ পেতে হয়েছে। অনেক চেষ্টা করে বেশি ভাড়া দিয়ে হোটেলে উঠতে হয়েছে। তিনি বলেন, একই সমস্যায় পড়েন ‘বন্ধন এক্সেপ্রেস’ এ আসা বেশিরভাগ যাত্রী। দিনের বেলা কলকাতায় না পৌঁছালে আবাসিক হোটেলগুলোতে সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু কলকাতায় পৌঁছায় রাতে।  এ কারণে খুলনা থেকে কেউ ট্রেনে আসতে চায় না।
তিনি বলেন, এছাড়া ট্রেনে যাত্রী না হওয়া ভাড়াও একটি বড় ফ্যাক্টর। সবমিলে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরত্বের রেল যাত্রায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এসি সিট ২ হাজার টাকা এবং এসি চেয়ার ১৫শ’ টাকা। অথচ খুলনা থেকে ঢাকায় ৪১৩ কিলোমিটার রেল যাত্রায় এসি চেয়ার মাত্র ৭৭৫ টাকা। তিনি বলেন, খুলনা থেকে যশোর হয়ে গাড়িতে বেনাপোল পৌঁছাতে একজনের সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা খরচ হয়। কেউ চাইলে তার থেকেও আরও কমে যেতে পারে। সেখানে কয়েকগুন ভাড়া আদায় করার কারণেই এ রুটে যাত্রী পাওয়া যায়না বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়া যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি না করা, যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য স্টপেজ না দেওয়া, অন্যদিকে সপ্তাহে মাত্র এক দিন এ রুটে ট্রেন চালু রাখা এমন সব কারণ সামনে আসছে যাত্রী কম হওয়ার পেছনে। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বৃহস্পতিবার ১০টি কোচের এই ট্রেনে ৪৫৬টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ৩৭২টি এসি চেয়ার ও ১৪৪টি ফার্স্ট এসি। গত বছরে কোচটিতে সর্বোচ্চ যাত্রী ছিলো ১৪০ জন। তবে গত এক বছরের গড়ে এর সংখ্যা ১২০ এর কম। ফলে চাহিদার এক তৃতীয়াংশ যাত্রী নিয়ে ব্যপক লোকসান গুনে সেবা চালু রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
খুলনার স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, সপ্তাহে একদিন ট্রেন ছাড়ার কারণে ট্রেন সিডিউলে একটা সমস্যা হয়েছে। কলকাতা গিয়ে অনেক সময় ভালো হোটেল পেতে সমস্যা হয়। এসব কারণে যাত্রী কম। এসব বিবেচনায় নিয়ে খুলনা কলকাতা ট্রেন সার্র্ভিসকে লাভজনক করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’এর বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ









রোজার ছাড় যাদের জন্য

রোজার ছাড় যাদের জন্য

২৩ মে, ২০১৯ ০১:০০