খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

শতভাগ পাসের বিদ্যালয় কমেছে সাড়ে ৫শ’টি

জেএসসিতে যশোর বোর্ডে অর্ধেকে নেমেছে জিপিএ-৫ : পাসের হার বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ও যশোর প্রতিনিধি | প্রকাশিত ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:১০:০০

চলতি বছর যশোর বোর্ডে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট-জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮৪.৬১। যা গতবারের চেয়ে ১ শতাংশের কিছু বেশি। তবে, জিপিএ-৫ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ২৫৬ জন। সোমবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র। 
শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর যশোর বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৮৩৬টি বিদ্যালয় থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৮২২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৭ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৩৫ জন। বিভাগের ১০ জেলার মোট ২৭০টি কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৩৬ জন। পাসের হার ৮৪.৬১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ২৫৬ জন। গত ২০১৭ সালে এ বোর্ডে জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮৩.৪২ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৬১২ জন।
জেএসসি’র ফলাফল বিশ্লেষণে দেয়া যায়, নগরীর খুলনা জিলা স্কুলে এবারের পরীক্ষায় ৪০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৭৭ জন, ফেল করেছে ৪ জন। সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ২৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৭৬ জন ফেল করেছে ২ জন। খুলনা পাবলিক কলেজে ২০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৫ জন। নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের ৩৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯২ জন। ফেল করেছে ৮ জন। সরকারি ইকবাল নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৩৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৩ জন। খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৯ জন পাস করেছে শতভাগ।
জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার শিক্ষার্থীরা ভাল করেছে। এবার স্কুলে ৪০৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করেছে ৪০০ জন। 
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ বলেন, এবার অংকে পাসের হার একটু কম। ৮৮.২২ শতাংশ ছেলে মেয়ে পাস করেছে অংকে। এবার চতুর্থ সাবজেক্ট না থাকায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে সার্বিক ফলাফলে বোর্ডের পাসের হার এবার বেশী। তার কারণ হচ্ছে যশোর বোর্ডের প্রশ্নে এবার সকল বিদ্যালয়ে মধ্যবর্তী পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। যার প্রবাবে পাসের হার বেড়েছে বলে তিনি জানান। 
তিনি জানান, চলতি বছর শিক্ষাবোর্ডের অধীনের একটি বিদ্যালয় থেকে কেউ পাস করেনি। বিদ্যালয়টি হলো সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মিঠাবাড়ি সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে মোট চারজন পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের সবাই একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এদের তিনজনই ইংরেজিতে এবং একজন অংকে। আর ২৭৬টি বিদ্যালয় থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
পিইসিতে পাসের হার ৯৭.৮৪ ভাগ : যশোরে পিইসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, যশোরে এ বছর পিইসি পরীক্ষায় ৪১ হাজার ২শ’ ৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৪০ হাজার ২শ’ ৩ জন। গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ বছর পিইসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৯শ’ ৫১ জন। তবে গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৩শ’ ৪৫ জন। আর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪৪ হাজার ৩শ’ ১ জন। 
এদিকে, ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এবার ৬ হাজার ৫শ’ ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৪শ’ ৮৫ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১শ’ ২ জন। পাসের হার গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ১১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮০ জন। 
শতভাগ পাসের বিদ্যালয় কমেছে সাড়ে ৫শ’টি : যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রতি বছরই কমছে। গত চার বছরের ব্যবধানে এ জাতীয় বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে সাড়ে ৫শ’টি।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০১৫ সালে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৮২৬টি। ২০১৬ সালে এ বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯৯টি। এরপর গত দু’বছরে শতভাগ পাসের সে হিসেবে গরমিল দেখা দেয়। ব্যাপকহারে কমে যায় শতভাগ পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা। ২০১৭ সালে এ জাতীয় বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৮১টি। আর চলতি বছরে তা আরো কমে দাঁড়ায় ২৭৬ টি। গত চার বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাসের এসব বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে ৫শ’ ৫০টি। 
এ বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, শুধুমাত্র শতভাগ পাস নয়, কমিয়ে আনা হয়েছে শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়ের সংখ্যাও। এ বছর সাতক্ষীরার একটি মাত্র বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। যদিও এ বিদ্যালয়ে ছিল ৪ জন পরীক্ষার্থী। শিক্ষাবোর্ডে কর্তপক্ষ কি কারণে শতভাগ পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমছে তার কারণ চিহ্নিত করার কাজ করছে। কারণ চিহ্নিত হলেই সে বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

৩০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩১













ব্রেকিং নিউজ