খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

চলতি বছরে টাকার বিপরীতে ৬ টাকা বৃদ্ধি

খুলনার ব্যাংকগুলোতে ডলার নেই! বেশি দাম নিচ্ছে মানি চেঞ্জাররা 

বশির হোসেন | প্রকাশিত ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা মার্কিন ডলার। এই মুদ্রাতেই আসে রপ্তানি আর প্রবাসী আয়। আমদানী ব্যয়ও মেটাতে হয় ডলারের মাধ্যমেই। তাই টাকার বিপরীতে এর দাম নির্ধারণ এবং বাজারে ডলারের স্থিতিশীল অবস্থা ব্যবসায়ীসহ অর্থ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুলনার সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বিক্রি করার মত কোন ডলার নেই। তাই সংকট দেখিয়ে মানি চেঞ্জারগুলো বাড়তি দামে বিক্রি করছে ডলার। আর এতে বিপাকে পড়ছে চিকিৎসা ভ্রমন, শিক্ষা, ওমরা হজ্বে যেতে ইচ্ছু সাধারণ মানুষ। আর মানি মানি চেঞ্জার বা কার্ব মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
সোনালী ব্যাংকের ওয়েব সাইটে পাওয়া তথ্যমতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডলারের মূল্য ছিল ৭৮ টাকার ৫০ পয়সা, যা গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ৮৪ টাকা ২৯ পয়সা (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেট) অর্থাৎ চলতি বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা। তবে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডলার না থাকায় খুলনার মানি চেঞ্জারগুলো গতকাল ডলার বিক্রি করেছে ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। টাকার মূল্য কমে যাওয়ার পরিমাণের চাইতে আলোচনায় রয়েছে ডলারের দামের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি। 
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সোনালী ব্যাংক খুলনার উর্ধ্ববতন এক কর্মকর্তা বলেন ব্যাংকগুলোতে ডলার না থাকা বা ডলার সংকটে খুলনায় আমদানী-রপ্তানির প্রভাব পরে না। কারণ খুলনার আমদানী বা রপ্তানীতে এলসি খুলতে বিনিময় মূল্য টাকায় পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে। তবে ডলারের মূল্যের এ উর্ধ্বমুখিতার কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যার ফলে আমদানী নির্ভর ভোগ্যপণ্যসহ অন্যন্যা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
গতকাল সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ট্রাষ্ট ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের কাছে বিক্রি করার মত কোন ডলার নেই। এসব ব্যাংকের খুলনার কর্মকর্তারা বলেন স্থানীয় বাজারে ডলার সরবরাহ হয় সাধারণত বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী, ভ্রমন পিপাসুদের হাতের অর্থ থেকে। বিভিন্ন কারণে কয়েক মাস ধরে বিদেশ থেকে ভ্রমন পিপাসু এবং প্রবাসী বাংলাদেশী আসার হার কমেছে। যারা এসেছে তাদের অনেকে আবার সরকারি নিয়ম মেনে ডলার পরিবর্তন না করে বেশি লাভের আসায় কার্ব মার্কেটে মানি চেঞ্জার-এর মাধ্যমে ডলার পরিবর্তন করছে ফলে ব্যাংক গুলো কাঙ্খিত সংখ্যাক ডলার ক্রয় করতে পারছে না ফলে সঙ্গত কারণে বিক্রিও করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের দ্বারা।
ন্যাশনাল ব্যাংক খুলনার বৈদেশিক বিনিময় শাখার কর্মকর্তা মোঃ আইয়ুব আলী সময়ের খবরকে বলেন বেশ কিছুদিন ধরে আমরা ডলার কিনতে পারছি না, তাই বিক্রিও করা সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যাংকগুলোতে ডলার না থাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণ ও ওমরা হজ্বযাত্রীদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। মানি চেঞ্জারগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইদানীং তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। গতকাল নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে কয়েকটি মানি এক্সেচেঞ্জ গুলোতে সরেজমীনে গিয়ে দেখা যায় ডলারের মূল্য হেকেছেন ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। যা সরকার বেধে দেয়া রেটের চাইতে ১ টাকা ২০ পয়সা বেশি। 
ওমরা হজ্বে যেতে ইচ্ছু খুলনার স্থানীয় সাবেক একজন জনপ্রতিনিধি সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে ঘুরেছেন ডলার-এর জন্য কিন্তু পাননি। পরে আরও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক হয়ে একটি মানি এক্সেচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান থেকে অধিক দামে সংগ্রহ করে। এটাকে চরম ভোগান্তি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানান তিনি।
নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে এস আলম মানি চেঞ্জার, এন হোসেন মানি চেঞ্জারে গিয়ে দেখা যায় ডলারের সংকট রয়েছে তবে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। এ মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কাও করছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জিএম (বৈদেশিক শাখা) মোঃ আবু তাহের টেলিফোনে জানান, এ খুলনায় ডলার পরিস্থিতির অস্থিরতা নেই। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের আমদানিকারকরা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশী মুদ্রা জমা দিয়ে এলসি খোলে, এ  ক্ষেত্রে ইউএস ডলারের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসা, শিক্ষার প্রয়োজনে এ অঞ্চলে ৯৫ শতাংশ ডলার এবং ৫ শতাংশ ইউরো ব্যবহার হয়। ভ্রমনকারী ও চিকিৎসায় গমনেচ্ছুদের বৈধ এজেন্সি থেকে ডলার সংগ্রহের পরামর্শ দেন তিনি। কেউ যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেটের চেয়ে বেশি সংগ্রহ করে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ