খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

মিথ্যা তথ্য দিলে অভিযোগকারীর বিচার হবে

ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়ে ‘আশাহত’ প্রো-এ্যাকটিভ হওয়ার নির্দেশ সিইসির

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৩০:০০

ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কার্যক্রমে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে এ কমিটিকে প্রো-এ্যাকটিভ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে বুধবার সকালে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এতে ২৪৪ জন যুগ্ম  জেলা ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজ অংশ নেন।  
নির্বাচন সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর বিচার হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। বলেন, যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না, প্যানেল কোডের ১৯৩ ধারা মতে তাদের ৭ বছরের জেল হবে। যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে, তাহলে প্যানেল কোডের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো কোড অব সিভিল প্রসিডিউর এর ১৯০৮ এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন। এই ক্ষমতা আপনাদের চেম্বারে নয়, মাঠে। সমস্যার মুখোমুখি, প্রার্থীদের মুখোমুখি, আরচণবিধি যারা ভঙ্গ করবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এই অন্য রকম পরিবেশ বা অন্য রকম দায়িত্ব আপনাদের ওপরে অর্পিত হয়েছে। এটাকে আপনাদের ভালোভাবে দেখভাল করা দরকার।
তিনি বলেন, আপনাদেরকে ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের ওপর যখন আস্থা রাখবে, আপনাদেরকে যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের ওপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না। আমরা প্রত্যেকদিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন। আমরা কি করবো? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেবো? অভিযোগগুলো সরাসরি আপনাদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ছিলো, কিন্তু তা যায় নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আপনারা আমাদের অংশীদার। এটা আমাদের জন্য একটা স্বস্তির জায়গা। আপনাদের এ কাজে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যই ছিল, প্রত্যেকটা মানুষ, প্রত্যেকটা সমস্যার কাছাকাছি থাকা। যেনো সহজেই তারা আপনাদের সাহায্য পান। তারা যেনো তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে এখানে ওখানে ছুটাছুটি করার প্রয়োজন মনে না করেন। তিনি বলেন, আপনাদেরকে প্রো-এ্যাকটিভ হতে হবে, ভাইব্রেন্ট হতে হবে এবং জানাতে হবে যে, তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য আপনারা আছেন। ৩০০টি আসনের মধ্যে ১২২টি জায়গায় আপনারা তাদের কাছাকাছি আছেন।
সিইসি নুরুল হুদা আরো বলেন, ২৫ নভেম্বর এই কমিটি গঠন করার পর প্রত্যেকটি কমিটি ১টি করে অন্তত: ১২২টি অভিযোগ তদন্ত করার কথা ছিল। তা না হলে অন্তত: ১০০টা, ১০০টাও বাদ দিলাম, অন্তত: ২২টি তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। তা হয়নি। কারণ, এখন পর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি। আজকে থেকে, এখান থেকে, আপনাদের কি করণীয়, দায়িত্ব এবং কিভাবে এই কমিটি পরিচালিত হবে জেনে শুনে, ফিরে গিয়ে তদন্ত করবেন। 
ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের সম্পূর্ণ শক্তি নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, বিচারকদের সমন্বয়ে প্রতি জেলায় নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনসহ অপরাধ আমলে নিয়ে বিচারকাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে হবে। প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য বিচারকদের আরও সক্রিয় হতে হবে।
সিইসি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের করণীয় যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মানুষের অভিযোগ শুনবেন, আমলে নেবেন। যেন অভিযোগ ঢাকা পর্যন্ত না আসে, এলাকায় বসে সমাধান পেতে হবে।’
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ জন্য নির্বাচন আইনানুগ না হলে সে নির্বাচন কালো নির্বাচন। আমরা কালো নির্বাচন নয়, স্বচ্ছ, সাদা নির্বাচন করতে চাই। আজ বুধবার নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আগাওগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এমনটাই বলেন। তিনি আরো বলেন, সবার প্রতি সমআচরণ করতে হবে। আইনের চোঁখে যেন সবাই সমান থাকে। সবাই সমান অধিকার ভোগ করছে কিনা সেটাই বিবেচনার বিষয়।
নির্বাচনের অনিয়ম রোধে ও আইনসিদ্ধ করার ব্যাপারে বিচারকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিতে গেলে সতর্কতা থাকতে হবে।
সর্বোচ্চ সাজার বিষয়ে লিগ্যাল মাইন্ডকে প্রাধান্য দিয়ে বিবেচনায় রাখতে হবে, কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন সাজা না পায়। স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবার সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান মাহবুব তালুকদার। আমরা ভাগ্যবান যে, আমরা একটি অংশমূলক নির্বাচন করতে যাচ্ছি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে সাধারণত নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হয়। প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচনে এক পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা সফল হয় না। আমি মনে করি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে পক্ষে-বিপক্ষে ভারসাম্য থাকে। কমিশন ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সোনালী ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। নিরপেক্ষ, পক্ষপাতমুক্ত নির্বাচন গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গণতন্ত্র নিত্যদিনের অনুপ্রেরণা। মাঠ পর্যায়ের অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে এবং নির্বাচনী কর্তব্য পালনে সদা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাহবুব তালুকদার বলেন, আপনারা বিচারকরা আমাদের নির্বাচন কমিশনের শপথের অংশীদার। কমিশনারদের শপথ আপনাদের মাঝে সঞ্চারিত হয়েছে। পুরো জাতির প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান। মুক্তিযুদ্ধ চেতনা ও ৩০ লাখ শহিদের কথা স্মরণ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুখী ও সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সবার প্রতি সবার প্রতি সমান প্রয়োগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান মাহবুব তালুকদার।
প্রশিক্ষণে আরেক কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি আইনানুগ নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে কাজটি সহজ করে দেবে।
কমিশনার কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন শুধু নয়, নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। দৃশ্যমানভাবে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন। সব ধরনের রাগ অনুরাগের উর্ধ্বে উঠে, বিচারিক দায়িত্ব পালনের মতো করেই সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান আপনাদের দায়িত্ব।
কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, এবারের নির্বাচন বৈচিত্রপূর্ণ নির্বাচন। সংসদ বহাল রেখে, সরকার অপরিবর্তনীয় আছে এমন অবস্থায়ই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যেহেতু এ নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে, আগের যে কোন সময়ের নির্বাচনের চেয়ে আইনের বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে। ওই দিন থেকে নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি। ইভিএমের বিষয়ে বিশদ ধারণা নিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা বিচারকদের পরামর্শ দেন নির্বাচন কমিশন সচিব। নির্বাচনী তদন্ত কমিটির প্রশিক্ষণ শেষে ১০-১১ ডিসেম্বর ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







ভুয়া এমপি প্রার্থী আটক

ভুয়া এমপি প্রার্থী আটক

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৩২







ব্রেকিং নিউজ