খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

নারী-শিশুর প্রতি সংহিসতা রোধে  সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

নারী-শিশুর প্রতি সংহিসতা রোধে  সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। শিশু নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। একটি নারীবাদী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৪৬ জন নারী-শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছেন ৫৩ জনকে। আর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪১ জন নারী। এর থেকে বাদ পড়ছেনা খুলনা অঞ্চলের নারী-শিশুরাও। গত ২০ দিনে অন্তত ২৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
দেশে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তার বিচার ও শাস্তি আমরা খুব কমই দেখছি। আইন আছে কিন্তু আমরা এই আইনের প্রয়োগ দেখছি না। এখনও শিশু নির্যাতন বন্ধে শিশু আদালত গঠন করা হয়নি। আবার আইন প্রয়োগে আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঝেও দ্বৈত নীতি দেখতে পাচ্ছি। বেশিরভাগ শিশুই যারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তারা গরিব ঘরের। ফলে এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে না। ধনী ঘরের শিশুরা নির্যাতনের শিকার হলে সেখানে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। এর আর্থিক কারণ বাদ দিলেও আরও একটি কারণ আছে, তা হলো প্রভাব। গরিব মানুষ পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। ফলে তাদের শিশুরা নির্যাতনের শিকার হলে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কিন্তু এমন অনেক নজির আছে যে, বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে না। এ প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে দ্রুত শিশু নির্যাতনের তদন্তও বিচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
আমাদের অভিমত, শিশু ধর্ষণের ব্যাপারে আলাদা সেল ও মামলার গতি তদারকি করা দরকার। তাছাড়া প্রতিটি থানায় শিশুদের জন্য পৃথক সাপোর্ট সেন্টার করা যেতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিশেষ টেলিফোন নম্বর নির্ধারণ করা যেতে পারে, যেখানে নির্যাতিত শিশু বা তার অভিভাবকরা ফোন করলে পুলিশ দ্রুত এসে ব্যবস্থা নেবে। সামাজিক সংগঠনগুলোকেও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী শিশু নির্যাতন বিরোধী ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে। শুধু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার জন্য লোক দেখানো মানববন্ধন করেই তাদের এ দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। এক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশের শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকদেরই এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শিক্ষিত সমাজ সচেতন হলেই শিশু নির্যাতন শূন্যের কোটায় চলে আসতে পারে বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ