খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলায় অন্তত ১৯৩ জন এইচআইভির জীবাণু বহন করছেন। শুধু খুলনা জেলাতেই ৮৪ জনের শরীরে এইচআইভির জীবাণু শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৩ পুরুষ ও ৩১ নারী রয়েছেন। খুলনা বিভাগে এইডস নিয়ে কাজ করা ‘মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণাঞ্চল ও সংলগ্ন জেলা ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল ও মাগুরায় ১০৯ জন এইডসে আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রেও নতুন নতুন আবিষ্কার সত্ত্বেও এমন অনেক রোগ রয়ে গেছে যেগুলোকে আমরা এখনো জয় করতে পারিনি। শুধুমাত্র সতর্কতা এবং জ্ঞানই পারে আমাদেরকে এসব রোগ থেকে রেহাই দিতে। এমনই একটি রোগ হলো এইডস। এই রোগের জন্য দায়ী এইচআইভি ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এর লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে আমাদের রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে ধ্বংস করতে থাকে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞ যখন চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায় তখনই এইডস হয়। এইডস হলে একই সঙ্গে অনেকগুলো রোগ আক্রমণ করে বসে। যার ফলে নিশ্চিত মৃত্যু হয়। 
ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি জীবাণু ছড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ভারত থেকে ফিরে আসা। আক্রান্তের তালিকায় দুই-একজন হিজড়ার নাম রয়েছে। তবে এই অঞ্চলে যৌন পল্লিতে যৌনকর্মীদের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া যায়নি। প্রতি বছর এইডস আক্রান্ত হয়ে এ অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী  ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এইডস আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে ১২ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও চারজন নারী। সংস্থাটির রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছর ২১ পুরুষ, ১৫ নারী ও একজন হিজড়া নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়। আর ২০০৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতি বছরের ১ ডিসেম্বর পালিত হয় বিশ্ব এইডস দিবস। দিবসটির মাধ্যমে জনসচেনতা মাধ্যমে মরণব্যাধি এইডস থেকে বাঁচানোর জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করানো হলেও দিন দিন এর ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে। মানুষের মধ্য সচেতনতা বৃদ্ধি হলে রোগটি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া সম্ভব হবে। মনে রাখা দরকার, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত না হলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব নয়। আর এ লক্ষে যেমন রোগ সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী, তেমনিভাবে আমলে নিতে হবে কিভাবে রোগের চিকিৎসা করানো যায় বা নিমূর্ল করা যায়। উৎকণ্ঠার বিষয় হলো, হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৫ ভাগেরও কম মানুষ জানেন যে তারা এ ভাইরাসে সংক্রমিত। এসব তথ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এ রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি পাক এবং যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত হোক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০








ব্রেকিং নিউজ