খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

বীর প্রতীক তারামন বিবিকে  জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে

০২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

বীর প্রতীক তারামন বিবিকে  জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে

“এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলবো না।” স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বিজয় মাসের প্রথম দিনই চিরবিদায় নিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবি (৬২)। শনিবার প্রথম প্রহরে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়। বীর প্রতীক তারামন বিবি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রামণ, শ্বাসকষ্ট আর ডায়বেটিসে ভুগছিলেন। গত মাসেও তাকে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে অবস্থা খারাপের দিকে যায়। রাত ১টা ২৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার দুপুরে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। তার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আমরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক, সমবেদনা ও তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
কুড়িগ্রামের শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার আবু তাহেরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ১৩/১৪ বছরের কিশোরী তারামন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন তিনি। মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা কিশোরী তারামন বিবিকে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়েছিলেন রান্নার কাজে সহযোগিতার জন্য। পরে সেখানে তিনি অস্ত্র চালনা শেখেন। এই প্রশিক্ষণ তাকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যায়। একদিন দুপুরে খাওয়ার সময় পাকিস্তানি বাহিনী একটি গানবোট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে হানা দেয়। তারামন বিবিও সেদিন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্র“দের পরাস্ত করেন। এরপর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পুরুষ সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে লড়াই করেন এই বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা। তিনিই দেখিয়েছিলেন পুরুষের পাশাপাশি থেকে কিভাবে একজন নারীকে পাক হানাদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করতে হয়। দেশকে হানাদার মুক্ত করার লক্ষে একজন নারীর এই অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তারামনকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়া হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ  ভূমিকার জন্য খেতাব দেয়া ২ নারী মুক্তিযোদ্ধার ভেতর তারামন বিবি একজন। অথচ দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাকে খুঁজে বের করেন। একই সালে নারী সংগঠনগুলো তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ওই বছর ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে বীরপ্রতীক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
আমরা মনে করি যতদিন মেহনতী মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের দাবি থাকবে, ততদিন তারামন বিবিদেরও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম চলবে। তার এই সংগ্রামী জীবনের প্রতি জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি। যতদিন বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে আঁকা থাকবে ততদিন এদেশের আপমর জনসাধারণ তারামনদের বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ