খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কুঁচকির হার্নিয়া (একশিরা রোগ): সংক্ষিপ্ত আলোচনা

ডাঃ ফারুকুজ্জামান | প্রকাশিত ০১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

জনাব নাজির আলী বয়স ৭৩ বছর ভর্তি হয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে পেটের ব্যথায় ছটফট করছেন তিন দিন ধরে পেট ফুলে শক্ত হয়ে আছে, পায়খানা বন্ধ গত ১০ দিন ধরে পেটে হাত দিয়ে পরীক্ষা করতেই দেখা গেলো কুঁচকি হতে অন্ডকোষ পর্যন্ত একটা বড় গোটা। জিজ্ঞাসা করতেই জানালেন, “গত তিন বছর ধরে এই গোটা হয়েছে প্রথমে ছোট ছিল, কোনো ব্যথা ছিল না, চাপ দিলে পেটে ভিতরে ঢুকে যেত মাস খানেক আগে থেকে এটা আর ভেতরে ঢুকতো না সপ্তাহ খানেক আগে ব্যথা শুরু হয়, যা ক্রমাগত তীব্র আকার ধারণ করে।” আরো জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেলো, “গত বেশ কয়েক বছর ধরে এজমা রোগে ভুগছেন তিনি, প্রস্রাব মাঝে মাঝে আটকে আটকে যায় (প্রস্টেট গ্লান্ড বড় হয়ে যাওয়া জনিত সমস্যাতে ভুগছেন), দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও আছে ইত্যাদি ইত্যাদি।”  
তিনি যে রোগটিতে ভুগছিলেন, তা হলো Inguinal Hernia  (কুঁচকির হার্নিয়া) জরুরী ভিত্তিতে করা অপারেশনের সময় দেখা গেলো, হার্নিয়া-এর স্থানে তার পেটের নাড়ীর বেশ কিছু অংশ এসে পেঁচিয়ে আছে। পেঁচানো অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, নাড়ীতে পচন ধরেছে। অপারেশনের মাধ্যমে বাদ দিতে হলো, পঁচে যাওয়া নাড়ীর বেশ কিছুটা। চিকিৎসাকালে, বৃদ্ধ এই মানুষটির মতো, আমরা অসংখ্য রোগী পাই, যারা দিনের পর দিন, সযতেœ লালন পালন করে চলেছেন ভয়াবহ এই ব্যাধিটিকে। আজ আলোচনা করা যাক এটি নিয়ে।  
আসলে হার্নিয়া কি? শরীরের কোনো অংশের প্রাচীর/দেয়ালের অস্বাভাবিক রকম দুর্বলতার কারণে ভিতরের কোনো অঙ্গ বা তার অংশ বিশেষ  দূর্বল স্থান দিয়ে বেরিয়ে আসা উদাহরণ দেওয়া যাক কুঁচকির দেয়ালের অংশ দূর্বল হয়ে যাওয়ায়, পেটের নাড়ী, মূত্রথলি ইত্যাদি দূর্বল অংশ দিয়ে কুঁচকি বা কুঁচকি হয়ে অন্ডকোষে চলে আসা। আর এটাই হলো Inguinal Hernia বা কুঁচকির একশিরা রোগ এই রোগের পাঁচটি ধাপ আছে :
প্রথম ধাপ (Reducible): ফোলা অংশ চাপ দিলে, শুয়ে পড়লে বা নিজে নিজে পেটের ভেতরে ঢুকে যায় ।
দ্বিতীয় ধাপ (Irreducible):  ফোলা অংশ আর ভেতরে ঢুকে না ।
তৃতীয় ধাপ (Obstructed): পেটের নাড়ী ফোলা অংশে আটকে গিয়ে পায়খানা বন্ধ হয়ে যায় ।
চতুর্থ ধাপ (Strangulated): আটকে পড়া পেটের নাড়ীর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । 
পঞ্চম ধাপ (Inflammed): আটকে পড়া পেটের নাড়ীতে ইনফেকশন এবং পচন ধরে ।
চতুর্থ এবং পঞ্চম ধাপ অত্যন্ত ভয়াবহ। এমনকি জরুরী অপারেশনের পরও, রোগীর জীবন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। তাই মারাত্মক জটিলতা এড়াতে, প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে অপারেশন করিয়ে ফেলা অতি আবশ্যক। 
হার্নিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক সমূহ: (যেগুলোর চিকিৎসা না করিয়ে হার্নিয়ার অপারেশন করালে ভবিষ্যতে আবার হার্নিয়া হতে পারে ) 
১) কাঁশি, শ্বাস-কষ্ট, এজমা, ধূমপান ইত্যাদি।
২) প্রস্রাবের সমস্যা (বিশেষত প্রস্টেট গ্লান্ড বড় হয়ে যাওয়া জনিত সমস্যা)।
৩) কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ইত্যাদি।
হার্নিয়ার অপারেশন:
১) জাল বা মেশসহ অপারেশন: সুবিধা-পুনরায় হার্নিয়া হওয়ার সম্ভবনা (Recurrence) কম (<২%)। অসুবিধা-জালে ইনফেকশন, ব্যথা, শক্ত ভাব, অবশতা ইত্যাদি ।
২) জাল বা মেশ ছাড়া অপারেশন-সুবিধা-ইনফেকশনের সম্ভবনা কম। অসুবিধা- পুনরায় হার্নিয়া হওয়ার সম্ভবনা তুলনামূলক ভাবে বেশি (২-১০%)।   

ধন্যবাদ।
ডাঃ ফারুকুজ্জামান 
এম বি বি এস (সি এম সি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এম আর সি এস (এডিনবার্গ, ইংল্যান্ড),
এম এস ( সার্জারি )- বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
সহকারী রেজিস্ট্রার, সার্জারী বিভাগ 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫

পাইলস রোগের সাধারণ আলোচনা

পাইলস রোগের সাধারণ আলোচনা

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০








ব্রেকিং নিউজ