খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

উৎসাহ উদ্দীপনায় মনোনয়নপত্র জমা  প্রত্যাশা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

৩০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

উৎসাহ উদ্দীপনায় মনোনয়নপত্র জমা  প্রত্যাশা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল বুধবার। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৪ প্রার্থী। সব মিলিয়ে খুলনার ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৫১টি। মনোনয়পত্র জমা দিতে এসে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অন্যদিকে, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা বলেছেন, ভোটের মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি এখনো। তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর।
এবারের নির্বাচন অনেক সংশয়, প্রশ্ন ও আস্থা-অনাস্থার টানাপড়েন সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে এটা সবার জন্যই স্বস্তির সংবাদ। কিন্তু অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে প্রতিপক্ষ শিবিরে। এর মধ্যে কিছু কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনাও ঘটে গেছে, তবু নির্বাচনের সুবাতাস আপাতত দৃশ্যমান। তবে পরিপূর্ণ শান্তি ও স্থিতাবস্থার অভাব নিয়ে অভিযোগও উঠছে এবং তা মূলত বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। তাদের বক্তব্য, সংলাপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট আশ্বাস সত্ত্বেও তাদের নেতা-কর্মী অনেকের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যাপকভাবে। এ পরিস্থিতিতে তাদের নেতা-কর্মী অনেকে নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারছেন না। অনেকে গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না বিরোধী শিবির। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রেস কনফারেন্সে, তাঁর বিবৃতিতে ক্রমাগত নিরপেক্ষ কার্যক্রমের আশ্বাস দিয়ে চলেছেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের যথাযত ব্রিফিং দিয়ে যাচ্ছেন, আবার সরকারের সঙ্গে তাঁদের দেখা-সাক্ষাৎও চলছে।
এতো সবের মাঝেও এক ধরনের অনিশ্চিত, আস্থাহীন পরিবেশ বিরাজ করছে নির্বাচনভিত্তিক সংশ্লিষ্ট মহলে। এমন আগাম সম্ভাবনা মাথায় রেখে রাজনৈতিক বিশ্লেকদের তরফ থেকে প্রস্তাব উঠেছিল সুনির্দিষ্টভাবে, নানা যুক্তিতে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার এবং নির্বাচন সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও বিশৃঙ্খলামুক্ত করতে সেনাবাহিনী নিয়োগ করার। অন্যদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিরোধী দলের অবশ্য বরাবরের দাবি ছিল সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ নতুন সরকারের অধীনে নির্বাচন, সবার আস্থাভাজন স্বাধীন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নির্বাচন চলাকালে সেনাবাহিনী নিয়োগসহ নানা দফা। কিন্তু সেসব দাবি পূরণ হয়নি, শুধু আশ্বাসেই সব শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? এমন আশঙ্কার কথা বারবার বলা হচ্ছে বিরোধী শিবির থেকে। আর এসব প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই বোধ হয় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভাবিত বিশিষ্টজনদের লেখায় উদ্বেগ ও অস্বস্তি প্রকাশ পাচ্ছে। কারণ যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, তাই নির্বাচন কমিশন কতটা স্বাধীন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন। যদি সেটা না পারে, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গ্রহণ-বর্জনের অবকাশ তৈরি হবে। 
বাস্তবিকই সবাই চায় একটি প্রশ্নহীন, পক্ষপাতহীন নির্বাচন। আর বিষয়টি সিইসিকে মাথায় রাখতে হবে তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রক্ষার প্রয়োজনে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর কার্যকর ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে ‘অনুরাগ বা বিরাগের’ উর্ধ্বে থাকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের মতে গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বসবাসকারী নাগরিক দ্বারা নির্বাচিত একটা সরকার। আর সেই সরকার জনপ্রতিনিধিত্ব করলেই দেশ ও জাতীর কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। যে কারণে একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনই দেশও জাতীর সকল আশা আখঙ্খার প্রতি ফলন ঘটাতে পারে। আমরাও প্রত্যাশা করি সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, শুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ